
বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের জন্য অভিবাসী ভিসা প্রক্রিয়া সাময়িকভাবে স্থগিত করছে যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর। ‘পাবলিক চার্জ’—অর্থাৎ ভবিষ্যতে সরকারি সহায়তার ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়তে পারেন—এমন আবেদনকারীদের ঠেকাতে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে দপ্তরটি।
আমেরিকার গণমাধ্যম ফক্স নিউজ জানাচ্ছে, কনস্যুলার কর্মকর্তাদের বিদ্যমান আইনের আওতায় ভিসা প্রত্যাখ্যানের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, একই সঙ্গে স্ক্রিনিং ও ভেটিং পদ্ধতি পুনর্মূল্যায়নের কথা বলা হয়েছে।
এই স্থগিতাদেশ ২১ জানুয়ারি থেকে কার্যকর হবে এবং পুনর্মূল্যায়ন শেষ না হওয়া পর্যন্ত অনির্দিষ্টকাল বহাল থাকবে।
স্থগিতাদেশের আওতায় থাকা দেশগুলো হচ্ছে: আফগানিস্তান, আলবেনিয়া, আলজেরিয়া, অ্যান্টিগুয়া ও বারবুডা, আর্মেনিয়া, আজারবাইজান, বাহামাস, বাংলাদেশ, বার্বাডোস, বেলারুশ, বেলিজ, ভুটান, বসনিয়া, ব্রাজিল, মিয়ানমার (বার্মা), কম্বোডিয়া, ক্যামেরুন, কেপ ভার্দে, কলম্বিয়া, কোট দিভোয়ার, কিউবা, গণতান্ত্রিক কঙ্গো প্রজাতন্ত্র, ডোমিনিকা, মিসর, ইরিত্রিয়া, ইথিওপিয়া, ফিজি, গাম্বিয়া, জর্জিয়া, ঘানা, গ্রেনাডা, গুয়াতেমালা, গিনি, হাইতি, ইরান, ইরাক, জ্যামাইকা, জর্ডান, কাজাখস্তান, কসোভো, কুয়েত, কিরগিজস্তান, লাওস, লেবানন, লাইবেরিয়া, লিবিয়া, মেসিডোনিয়া, মলদোভা, মঙ্গোলিয়া, মন্টেনেগ্রো, মরক্কো, নেপাল, নিকারাগুয়া, নাইজেরিয়া, পাকিস্তান, কঙ্গো প্রজাতন্ত্র, রাশিয়া, রুয়ান্ডা, সেন্ট কিটস অ্যান্ড নেভিস, সেন্ট লুসিয়া, সেন্ট ভিনসেন্ট অ্যান্ড দ্য গ্রেনাডিনস, সেনেগাল, সিয়েরা লিওন, সোমালিয়া, দক্ষিণ সুদান, সুদান, সিরিয়া, তানজানিয়া, থাইল্যান্ড, টোগো, তিউনিসিয়া, উগান্ডা, উরুগুয়ে, উজবেকিস্তান ও ইয়েমেন।
২০২৫ সালের নভেম্বর মাসে বিশ্বজুড়ে বিভিন্ন দূতাবাসে পাঠানো এক স্টেট ডিপার্টমেন্ট কেবলে ‘পাবলিক চার্জ’ বিধানের আওতায় কঠোর নতুন স্ক্রিনিং নিয়ম কার্যকরের নির্দেশ দেওয়া হয়। নির্দেশনায় আবেদনকারীর স্বাস্থ্য, বয়স, ইংরেজি দক্ষতা, আর্থিক সক্ষমতা এবং দীর্ঘমেয়াদি চিকিৎসা প্রয়োজন হতে পারে কি না—এসব বিষয় বিবেচনায় নেওয়ার কথা বলা হয়।
স্টেট ডিপার্টমেন্টের মুখপাত্র টমি পিগট এক বিবৃতিতে বলেন, “যুক্তরাষ্ট্রের জনগণের উদারতার অপব্যবহার করতে পারে—এমন সম্ভাব্য অভিবাসীদের অযোগ্য ঘোষণায় আমাদের দীর্ঘদিনের ক্ষমতা ব্যবহার করা হবে। ৭৫টি দেশ থেকে অভিবাসন প্রক্রিয়া স্থগিত রাখা হচ্ছে, যাতে কল্যাণভিত্তিক সুবিধা নিতে পারে—এমন বিদেশিদের প্রবেশ ঠেকাতে প্রক্রিয়া পুনর্মূল্যায়ন করা যায়।”
যদিও ‘পাবলিক চার্জ’ বিধানটি কয়েক দশক ধরে বিদ্যমান, বিভিন্ন প্রশাসনে এর প্রয়োগে ব্যাপক পার্থক্য ছিল এবং কনস্যুলার কর্মকর্তাদের সাধারণত বিস্তৃত বিবেচনার ক্ষমতা দেওয়া হতো।
নতুন স্থগিতাদেশে ব্যতিক্রম খুবই সীমিত থাকবে এবং কেবল তখনই অনুমোদন দেওয়া হবে, যখন আবেদনকারী ‘পাবলিক চার্জ’ সংক্রান্ত সব বিবেচনা অতিক্রম করবেন।
বাইডেন প্রশাসনের আমলে ২০২২ সালের নিয়মে ‘পাবলিক চার্জ’ বিবেচনায় সীমিত পরিসরের সুবিধা অন্তর্ভুক্ত ছিল—মূলত নগদ সহায়তা ও দীর্ঘমেয়াদি প্রাতিষ্ঠানিক সেবা। এতে এসএনএপি (খাদ্য সহায়তা), ডব্লিউআইসি, মেডিকেইড বা আবাসন ভাউচার অন্তর্ভুক্ত ছিল না।
ইমিগ্রেশন অ্যান্ড ন্যাশনালিটি অ্যাক্ট অনুযায়ী দীর্ঘদিন ধরেই কনস্যুলার কর্মকর্তারা ‘পাবলিক চার্জ’ কারণে আবেদনকারীকে অযোগ্য ঘোষণা করতে পারেন। তবে ২০১৯ সালে তৎকালীন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এই সংজ্ঞা সম্প্রসারণ করেন, যা আদালতে চ্যালেঞ্জের মুখে পড়ে এবং পরে বাইডেন প্রশাসন তা প্রত্যাহার করে নেয়।