
ফাইল ছবি
প্রার্থিতা চূড়ান্ত করতে মাত্র দুদিন বাকি থাকলেও জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বাধীন ১০ দলীয় জোটে এখনও অন্তত অর্ধশত আসনের বণ্টন চূড়ান্ত হয়নি। চরমোনাই পীরের নেতৃত্বাধীন ইসলামী আন্দোলন জোট ছাড়ায় তাদের জন্য নির্ধারিত আসনগুলো কোন দল পাবে, তা নিয়ে নতুন করে টানাপোড়েন শুরু হয়েছে। এনসিপি, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস ও এবি পার্টি বাড়তি আসন দাবি করায় সংকট আরও জটিল হয়েছে।
নির্বাচনী তপশিল অনুযায়ী আগামী মঙ্গলবার প্রার্থিতা প্রত্যাহারের শেষ দিন। ওই সময়ের মধ্যে জোটগুলোকে একক প্রার্থী চূড়ান্ত করতে হবে, নইলে ব্যালটে একাধিক প্রার্থীর নাম থেকে যাবে। জোটভুক্ত এক নেতা জানিয়েছেন, আসন বণ্টন নিয়ে ‘হচপচ’ পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে, যা নির্বাচনী প্রচারে নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। তবে জামায়াত নেতারা দাবি করছেন, দু-এক দিনের মধ্যেই সমঝোতা হবে।
গত ডিসেম্বরে ১১ দল নিয়ে গঠিত জোট থেকে ইসলামী আন্দোলন বেরিয়ে যাওয়ায় রংপুর, রাজশাহী ও খুলনা বিভাগের বেশ কয়েকটি আসনে নতুন করে দ্বন্দ্ব তৈরি হয়েছে। জামায়াত এসব অঞ্চলে নিজেদের শক্ত ঘাঁটি দাবি করে অধিকাংশ আসনে একক প্রার্থী দিতে চায়। কিন্তু শরিক দলগুলো আরও আসন দাবি করায় সমঝোতা হচ্ছে না।
বরিশাল বিভাগ নিয়েও জটিলতা দেখা দিয়েছে। আগে ইসলামী আন্দোলনকে দেওয়া কিছু আসন এখন অন্য দলগুলোকে দিতে চায় জামায়াত। এ নিয়ে এনসিপি ও এবি পার্টির সঙ্গেও মতবিরোধ চলছে।
বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমির মামুনুল হক জানিয়েছেন, ইসলামী আন্দোলনের সঙ্গে আসন বণ্টনের আনুষ্ঠানিক আলোচনা আর সম্ভব নয়, তবে রাজনৈতিক সমঝোতা হতে পারে। আগামী ২০ জানুয়ারির আগেই বাকি আসন বণ্টন চূড়ান্ত হবে বলে আশা প্রকাশ করেছেন তিনি।
এদিকে, এনসিপি ইতোমধ্যে ৪৪ আসনে প্রার্থী দিয়েছে এবং আরও অন্তত ১০টি আসনে প্রার্থী চায়। ঢাকা-৭ আসনসহ কয়েকটি এলাকায় একাধিক দলের প্রার্থী মাঠে থাকায় জোটের ভেতরে প্রতিদ্বন্দ্বিতা বাড়ছে।
সব মিলিয়ে, সময় ঘনিয়ে এলেও জামায়াতের নেতৃত্বাধীন জোটে আসন সমঝোতা এখনও অনিশ্চিত, যা নির্বাচনের মাঠে বড় প্রভাব ফেলতে পারে।