
ছবি: সংগৃহীত
মালয়েশিয়ার কেলান্তান রাজ্যে বিশেষ অভিযান চালিয়ে ‘ইকবাল’ নামে পরিচিত একটি আন্তর্জাতিক মানবপাচার সিন্ডিকেট ভেঙে দিয়েছে দেশটির অভিবাসন বিভাগ। এ অভিযানে ১২ জন বাংলাদেশি নাগরিকসহ মোট ১৩ জনকে আটক করা হয়েছে।
শনিবার (১৭ জানুয়ারি) কোটা বারু এলাকার একটি প্রত্যন্ত গ্রামে এই ঝটিকা অভিযান পরিচালনা করা হয়। এতে ১১ জন বাংলাদেশি পুরুষ ও একজন নারীসহ মোট ১২ জন বাংলাদেশি এবং একজন রোহিঙ্গা যুবককে আটক করা হয়।
রোববার (১৮ জানুয়ারি) এক আনুষ্ঠানিক বিবৃতিতে এসব তথ্য নিশ্চিত করেন মালয়েশিয়ার অভিবাসন বিভাগের মহাপরিচালক জাকারিয়া শাবান। তিনি জানান, অভিবাসন বিভাগের অ্যান্টি-ট্রাফিকিং ইন পারসনস, অ্যান্টি-স্মাগলিং অফ মাইগ্রেন্টস ও মানি লন্ডারিং বিরোধী শাখার একটি বিশেষ দল গোপন সংবাদের ভিত্তিতে এই অভিযান চালায়।
প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে, পাচারকারীরা কর্তৃপক্ষের নজর এড়াতে একটি নির্জন গ্রাম্য বাড়িকে ‘ট্রানজিট পয়েন্ট’ বা গোপন আস্তানা হিসেবে ব্যবহার করছিল। আটককৃত অভিবাসীরা তিন দিন আগে থাইল্যান্ড সীমান্ত দিয়ে অবৈধ লুকানো পথ ব্যবহার করে মালয়েশিয়ায় প্রবেশ করেন। পাচারের বকেয়া টাকা পরিশোধ না করা পর্যন্ত তাদের ওই গোপন বাড়িতে আটকে রাখা হতো।
অভিবাসন বিভাগের তথ্যমতে, সিন্ডিকেটটি প্রতিজন অভিবাসীর কাছ থেকে ১০ হাজার থেকে ১৫ হাজার রিঙ্গিত আদায় করত। ২০২৪ সালের শুরু থেকে সক্রিয় এই চক্রটি পাচারের মাধ্যমে প্রায় ১৫ লাখ রিঙ্গিত অবৈধ অর্থ উপার্জন করেছে।
তদন্তে আরও উঠে এসেছে, এই মানবপাচার চক্রের মূল হোতা ‘ইকবাল’ নামে এক বাংলাদেশি নাগরিক, যিনি বর্তমানে থাইল্যান্ডে অবস্থান করে পুরো সিন্ডিকেটটি পরিচালনা করছেন। অভিযানে আটক ২৭ বছর বয়সী এক রোহিঙ্গা যুবক ওই আস্তানার পাহারাদারের দায়িত্বে ছিলেন।
এদিকে, এই অবৈধ কর্মকাণ্ডে ব্যবহৃত বাড়িটির মালিক একজন মালয়েশিয়ান নাগরিক। তাকে শনাক্ত ও আটক করতে অভিযান অব্যাহত রয়েছে বলে জানিয়েছে অভিবাসন বিভাগ।
আটককৃতদের বিরুদ্ধে মালয়েশিয়ার ‘অ্যান্টি-ট্রাফিকিং ইন পারসনস অ্যান্ড অ্যান্টি-স্মাগলিং অফ মাইগ্রেন্টস অ্যাক্ট ২০০৭’-এর আওতায় তদন্ত শুরু হয়েছে। মানবপাচার ও অবৈধ অভিবাসনের সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও স্পষ্টভাবে জানিয়েছে দেশটির অভিবাসন কর্তৃপক্ষ।