
এতে ২০০টিরও বেশি অনন্য লণ্ঠন প্রদর্শনী স্থান পেয়েছে
চীনের চিকং শহরে শুরু হয়েছে ৩২তম চিকং আন্তর্জাতিক ডাইনোসর লণ্ঠন উৎসব। শতাব্দী প্রাচীন লণ্ঠন নির্মাণ ঐতিহ্য ও সমৃদ্ধ ডাইনোসর জীবাশ্ম ভাণ্ডারের জন্য পরিচিত এই শহরটি “ডাইনোসরের শহর” ও “লণ্ঠনের নগরী” নামে খ্যাত।

এই উৎসবে দর্শনার্থীদের জন্য আয়োজন করা হয় চোখধাঁধানো ও নিমগ্ন ভিজ্যুয়াল প্রদর্শনী। এবারের উৎসবের প্রতিপাদ্য “লণ্ঠনে আঁকা চীন”, যেখানে রঙিন লণ্ঠন নির্মাণ, টাই-ডাই ও কাগজ কাটার মতো চীনের অমূর্ত সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যকে চীনা পৌরাণিক কাহিনি ও ঐতিহাসিক গল্পের সঙ্গে একীভূত করা হয়েছে। এতে ২০০টিরও বেশি অনন্য লণ্ঠন প্রদর্শনী স্থান পেয়েছে।

উৎসবে আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহারও বিশেষ আকর্ষণ। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) ইন্টারঅ্যাকশন, স্মার্ট টাচ কন্ট্রোল ও আলো-সংবেদনশীল প্রযুক্তির মাধ্যমে দর্শনার্থীরা স্পর্শের মাধ্যমে আলো ও শব্দের পরিবর্তন ঘটাতে পারেন। পাশাপাশি ভার্চুয়াল গায়ক ও যান্ত্রিক ডাইনোসরের সঙ্গেও ইন্টারঅ্যাক্ট করার সুযোগ রয়েছে।

উল্লেখযোগ্য প্রদর্শনীর মধ্যে রয়েছে ১৮০ মিটার দীর্ঘ “মুলানের কিংবদন্তি”, যা আসন্ন চীনা ঘোড়া বর্ষ উপলক্ষে নির্মিত। এতে বীরাঙ্গনা হুয়া মুলানের সাহসিকতা ও দুরন্ত ঘোড়ার চিত্রায়ণের মাধ্যমে দেশপ্রেমের বার্তা তুলে ধরা হয়েছে। হুয়া মুলান ছিলেন দক্ষিণ ও উত্তর রাজবংশ যুগের এক কিংবদন্তিতুল্য নারী যোদ্ধা, যিনি বাবার বদলে পুরুষের ছদ্মবেশে সেনাবাহিনীতে যোগ দিয়ে দীর্ঘ ১২ বছর যুদ্ধ করেন।

আরেকটি আকর্ষণ হলো ৩৫ মিটার উঁচু “চাইনিজ নটের ফটক”, যা চীনের ঐতিহ্যবাহী প্রতীকের আদলে নির্মিত। এর সামনের ও পেছনের দিক একই রকম নান্দনিক, যা অতীত ও বর্তমানের মধ্যে এক প্রতীকী সেতুবন্ধন তৈরি করেছে। এই উৎসবের মাধ্যমে ঐতিহ্য ও আধুনিক প্রযুক্তির মেলবন্ধনে চিকং আবারও বিশ্ববাসীর নজর কেড়েছে।
বাংলা টেলিগ্রাফ উদ্যোগের গল্প