
এক সময় আমি ইমারজেন্সি প্রোগ্রামে কাজ করতাম। অনেকগুলো প্রজেক্ট দেখতে হতো। সারাদিন অনলাইন মিটিং করতে হতো, অফলাইন মিটিংও থাকতো অনেক। মেইল আসতো কমপক্ষে ৯০টা, যার বেশিরভাগই রেসপন্স করতে হতো বা অ্যাকশন আইটেম থাকতো। এমন কী বাসায় এসেও আমার কাজ করতে হতো। বহির্বিশ্ব ও বাংলাদেশের সাপ্তাহিক বন্ধের দিন আলাদা হওয়ায়, অনেক রিপোর্টিং এর ডেডলাইন পড়তো শুক্র বা শনিবারে। ফলে আমাকে সাপ্তাহিক বন্ধের দিনেও অফিসের কাজ নিয়ে থাকতে হতো।
বুঝতে পারছিলাম, আমি আমার বন্ধের দিনগুলো আসলে বিশ্রামের সময় হিসেবে নয়, বরং কাজের দিন হিসেবেই ব্যবহার করছি। ফলাফল হলো—শনিবার রাত এলেই আমি রবিবারের কথা ভেবে অনেক বেশি ক্লান্তি অনুভব করতাম।
আমার বন্ধের দিন মানেই ছিলো অফিসের কাজ নিয়ে বাড়ি ফেরা- তারপর বাসার টেবিলে ল্যাপটপ নিয়ে বসে সপ্তাহের অসম্পূর্ণ কাজগুলো করা। ফলে, নিজেকে এবং পরিবারকে সময় দেওয়া বা পরিপূর্ণ বিশ্রামে থাকা এসব কিছুই হচ্ছিলো না। অফিসের কাজ করতে করতেই উইকএন্ড শেষ হয়ে যেত, আর আমি পুরোপুরি নিঃশেষ হয়ে যেতাম।

আপনারা বলতে পারেন, আমি গুছিয়ে প্ল্যান করতে পারতাম না, বা কাজের প্রায়োরিটি করতে পারতাম না কিংবা ডেলিগেশন বুঝতাম না, এসব অনেক কিছু। আসলে এসব না, আবার হতেও পারে। শুধু একটা কাজের উদাহরন দেই-
আমি যে প্রতিষ্ঠানে কাজ করতাম তাদের একটা রিপোর্ট করার জন্য গ্লোবাল প্ল্যান ছিলো। প্রতিষ্ঠানের গ্লোবাল অফিস থেকে ডোনারকে সময় মতো রিপোর্ট দেওয়ার জন্য প্রকল্প গ্রহণের শুরুতেই এই প্ল্যানটা তৈরি করে সব কান্ট্রি অফিসে পাঠিয়ে রাখা হতো, যাতে ডেডলাইন মিস না হয়। সে কারণে আমরা সব সময় ট্রাক করতাম, যেন সময় মতো সব কিছু করতে পারি। এটা প্রায়ই এমন হতো যে, কারো কারো জন্য বরাদ্দ সময় পড়তো শুক্র বা শনিবারেই। প্রত্যেক রিভিউকারির জন্য সময় ২-৩ দিন করে বরাদ্দ থাকতো। একবার আমি আমার সহকর্মীদের কাছ থেকে প্রকল্পের রিপোর্ট পাওয়ার পর, ভালোমতো রিভিউ করে, আমার পরের সিনিয়র রিভিউয়ার এর কাছে পাঠালাম, তাঁর জন্য বরাদ্দ ২ দিনের চাইতে ১০দিন বেশি সময় দিয়ে। তাঁকে ফোনে, মেসেজ ও ইমেইলে বার বার জনালাম, আমাকে যেন তিনি রিপোর্টটা বৃহস্পতিবারের দু’দিন আগে দেন। কিন্তু তিনি রিপোর্টটা পাঠালেন বৃহস্পতিবার রাতেই, তার ডেডলাইনের শেষ মুহূর্তে। ফলে আমি বাধ্য হয়ে বৃহস্পতি ও শুক্রবারে কাজ করে যাঁর রিভিউ করার কথা শনিবার দুপুরে তাঁকে পাঠালাম। শনিবারে তিনি মেইল পড়লেন না, কারণ বাংলাদেশে শুক্র-শনি উইকএন্ড। ফলে তাঁকে আবার মনে করানোর কাজে ব্যস্ত থাকলাম। কিন্তু তিনি শনিবারে রিপোর্টে হাত দিলেন না। ফলে আমার বসের সাথে পরামর্শ করে সেই রিপোর্ট তার পরের জনকে পাঠালাম, যেন তিনি রিভিউ করেন। এসব আরকি। ফলে শুক্র-শনিবার চলে গেল এসব করতে করতে। আমি এইরকম রুটিনের মধ্যে দিয়েই যাচ্ছিলাম প্রতিনিয়ত।
এক শনিবার সকালে ঘুম থেকে উঠে নিজেকে খুব ফাঁকা ফাঁকা লাগছিল। শরীরের ক্লান্তি নয়, বরং মনে হচ্ছিল মাথা একেবারে শূন্য। তখনই বুঝলাম, আমি বিশ্রামের সময়টাকেও কাজের তালিকায় পরিণত করেছি। কিছু একটা বদলানো দরকার। এভাবে চলতে দেওয়া যায় না।
তাই আমি ধীরে ধীরে সাপ্তাহিক ছুটির দিনগুলো কাটানোর জন্য কিছু ভিন্নরকম সিদ্ধান্ত নিলাম। রুটিনে কিছু ছোট ছোট পরিবর্তন আনতে শুরু করলাম। বড় কিছু নয়, সোশ্যাল মিডিয়ায় দেখানোর মতোও নয়। শুধু এমন কিছু অভ্যাস, যা আমার মাথাকে একটু শান্তভাবে শ্বাস নেওয়ার সুযোগ দেবে।
যেগুলো সত্যিই কাজে দিয়েছে, সেগুলোই নিচে তুলে ধরছি।
বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা ৬টার পর অফিসের ইমেইল দেখা বন্ধ
শুনতে সহজ মনে হলেও, এটা করতে আমার বেশ সময় লেগেছে। ইমেইলের নোটিফিকেশন অফ করে রেখেছিলাম। তারপরও শুক্রবার সকালে ইমেইল দেখতাম, আর নিজেকে বলতাম, “কাজের খোঁজ রাখছি, কিন্তু মেইলের জবাব রবিবারেই দেবো।” বাস্তবে আমি আমার মস্তিষ্ককে কাজের মোডেই আটকে রাখছিলাম।
প্রথম সপ্তাহান্তে আমি খুব অস্থির ছিলাম—যদি জরুরি কিছু হয়? যদি বসের দরকার পড়ে? কিন্তু কিছুই হলো না। রবিবারে ইমেইলগুলোর উত্তর খুব সহজেই দিতে পারলাম, আর আমি সেগুলো ভালোভাবেই সামলে নিতে পারলাম।
কাজ আর ব্যক্তিগত সময়ের মাঝে এই স্পষ্ট সীমারেখা আমার জন্য খুব গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছিল। মনকে পুরোপুরি বিশ্রাম নেওয়ার অনুমতি দিতে এই সিদ্ধান্তটা অনেক সাহায্য করেছে।
ক্যালেন্ডারে বিশ্রাম ও ব্যক্তিগত সময়কে অগ্রাধিকার দেওয়া
আগে আমার ক্যালেন্ডার মানেই ছিল শুধু মিটিং, ডেডলাইন আর কাজের রিমাইন্ডার। এখন বুঝেছি, বিশ্রামও পরিকল্পনার অংশ হওয়া দরকার। তাই সপ্তাহান্তের জন্য আগেই ক্যালেন্ডারে কিছু ‘নো-ওয়ার্ক স্লট’ ব্লক করে রাখি—যেখানে কোনো মিটিং নেই, কোনো কাজও নেই। পাশাপাশি নিজের জন্য নির্দিষ্ট সময় রাখি— হাঁটা, বই পড়া বা শুধু চুপচাপ থাকার জন্য। এতে অন্য কাজ ঢুকে পড়ার সুযোগ কমে যায়, আর মানসিকভাবে আমি আগেই জানি— এই সময়টা শুধুই আমার। এই ছোট পরিবর্তনটা সপ্তাহান্তের চাপ অনেকটাই কমিয়ে দিয়েছে।
সপ্তাহান্তে অন্তত একটি আনন্দদায়ক কাজ করা
আগে আমার সপ্তাহিক বন্ধের দিনগুলো কোনো পরিকল্পনা ছাড়াই কেটে যেত। বেশিরভাগ সময় অফিসের কাজ যা করার দরকার হতো, সেটাই করতাম। যেমন- ইমেইল রেসপন্স করা, রিপোর্ট লেখা, প্লান চেক করা, নতুন করে প্ল্যান সাজানো এসব আরকি।
এখন আমি নিশ্চিত করি— ক্যালেন্ডারে অন্তত একটি এমন কাজ থাকবে, যেটার জন্য আমি সত্যিই অপেক্ষা করি। কখনো নতুন কোনো ক্যাফেতে যাওয়া, কখনো বারান্দা বা সুবিধাজনক জায়গায় বসে এক দেড়ঘন্টা বই পড়া, কোনো পার্কে গিয়ে বসে থাকা।
এটা করি কোনো দায়িত্ব হিসেবে নয়, বরং একান্তই নিজেকে সময় দেওয়ার জন্য। এতে সপ্তাহান্তের একটা আলাদা রূপ আসে, আর ব্যস্ত সপ্তাহেও সামনে ভালো কিছু করার অপেক্ষা থাকে।
দেরি করে ঘুম থেকে ওঠা
সপ্তাহের পাঁচ দিন সকাল ৭টায় অ্যালার্ম বাজেই। আগে সপ্তাহিক বন্ধের দিনেও একই রুটিন মেনে চলতাম, কারণ মনে হতো দেরি করে ঘুমানো মানে অলসতা। এক দিনের বিশ্রামে যদি অভ্যাস খারাপ হয়ে যায়, সেই ভয়ে বন্ধের দিনেও সাত সকালে ঘুম থেকে উঠে পড়তাম। কিন্তু এসব করতে করতে আমি আরও ক্লান্ত হয়ে পড়ছিলাম।
তাই বুঝতে পারছিলাম আমার শরীর বাড়তি বিশ্রাম চাইছে। এখন সপ্তাহিক বন্ধের দিনে অন্তত একদিন নিজে নিজে ঘুম ভাঙতে দিই—কখনো সাড়ে ৭টা, আবার কখনো ৯টা। শরীরের কথা শোনা শুরু করায় সারাদিন আগের চাইতে অনেক ভালো অনুভব করা শুরু করলাম।
শুধু আনন্দের জন্য নতুন কিছু করা
সপ্তাহিক বন্ধের দিন আমি ছবি আঁকি। আমার পছন্দ জলরং। সপ্তাহান্তে নিয়ম করে জলরং নিয়ে বসে যাই। ছবি আঁকা ভালো না খারাপ হয় তা ভাবি না। তবে একটা কাজ মনোযোগ দিয়ে করলে এক সময় ভালোর দিকেই যায়। কখনো লিখতে বসি, ভ্রমণকাহিনী আমার খুব পছন্দের বিষয়। ছুটির দিনে আমি লেখারও চেষ্টা করি। যেসব জায়গা ভ্রমণ করেছি, সেগুলো মনে মনে চিন্তা করি। যেসব লোকাল মানুষের সাথে কথা বলেছি, সহায়তা নিয়েছি, একসাথে খেয়েছি, তাদের কথা চিন্তা করি। ভ্রমণের সময় নেওয়া নোটগুলো দেখি, ঘটনাগুলো তখন ভালোভাবে মনে পড়ে, আর তখন লিখতে সুবিধা হয়।
যারা রান্না করতে ভালোবাসেন, তারা সপ্তাহান্তে একদিন এমন কোনো রেসিপি বেছে নিতে পারেন, যেটা বানাতে ভালো লাগে। কখনো ঘরে বানানো পাস্তা, পায়েস, স্যান্ডউইচ, পিঠা বা কখনো নতুন কোনো দেশি-বিদেশি পদ, যা ভালোলাগে তা করুন।
একে ‘ব্যায়াম’ না বলে শরীর নড়াচড়া বলা যায়
আগে ভাবতাম, ব্যায়াম মানেই জিম বা কঠিন রুটিন। এখন মনে হয় শরীরের কলকব্জা ঠিক রাখার জন্য কিছু নড়াচড়া করার দরকার। সপ্তাহিক বন্ধের ২ দিন ১ থেকে ২ ঘন্টা করে হাঁটা শুরু করলাম। আশপাশের কলিগদের সাথে দলবেধে এখন হাঁটি, তাতে বোরিং কম লাগে। এর বাইরেও বাজারে যাই, ছবি আঁকার সময়ও ভাবনাচিন্তা করার পাশাপাশি হাঁটাহাটি করি, পার্কে গিয়ে হাঁটি।
এখন আমার মনে হয় অনেক চাপ কমে গেছে, আর শরীর নড়াচড়া করাটাও স্বাভাবিক লাগছে।
সপ্তাহান্তে অন্তত এক ঘণ্টা পুরো নীরবতা
সপ্তাহিক কাজের দিনগুলোতে চারপাশে সবসময় শব্দ থাকে হৈহুল্লোড়, কোলাহল। রাস্তা দিয়ে যাওয়ার সময় ঠেলাঠেলি, হাকাহাকি, রাস্তার ময়লা, নোংরা এড়িয়ে, লাইন দিয়ে ওভার ব্রিজ পার হয়ে, খানাখন্দ পেরিয়ে সময় মতো অফিসে পৌঁছানোই একটা চ্যালেঞ্জ। এর ভেতর দিয়েই সপ্তাহের ৫দিন যেতে হয়।
তাই সপ্তাহান্তে এক ঘণ্টা একা থাকি, কোনো ফোন নয়, গান নয়, কথা নয়। নিজের মতো একঘন্টা চুপচাপ সময় কাটাই। প্রথমদিকে অস্বস্তি লাগলেও ধীরে ধীরে মন শান্ত হতে শিখেছে। এই সময়টা আমার মানসিক ‘রিসেট বাটন’ হয়ে গেছে।
অনেক সামাজিক নিমন্ত্রণে না বলা
সব আমন্ত্রণে আগে হ্যাঁ বলতাম। ফলে সাপ্তাহিক বন্ধের দিনগুলোতে দাওয়াতে যেতে যেতে, খেতে খেতে, কথা বলতে বলতে, ছবি তুলতে তুলতে, আর সামাজিক মাধ্যমে পোস্ট দিতে দিতে আরও ক্লান্ত হয়ে পড়তাম।
এখন যেটাতে যেতে সত্যিই ভালো লাগে, বা না গেলেই নয়, সেটাতেই যাই। প্রয়োজন হলে বিনয়ের সাথে না বলি, অগ্রিম মাফ চেয়ে নিই। এখন না বলা শিখে গেছি। আগে দাওয়াত রক্ষা করার জন্য ৩ থেকে ৪ ঘন্টার যাতায়াত আর ২ থেকে ৩ ঘন্টার খাওয়া আর কথাবার্তা, গল্পগুজব করতে করতেই সারাটা দিন চলে যেত। এখন আর ওসব হয় না। এখন আমার অনেক সময় বেঁচে যায়, নিজেকে সময় দিতে পারি। আর আগের চাইতে এনার্জিও পাচ্ছি বেশি।
শনিবার সন্ধ্যায় একটি ছোট অভ্যাস গড়ে তোলা
আগে শনিবার রাত মানেই দুশ্চিন্তা শুরু হয়ে যেত। আবার সেই নয়টা-পাঁটচা অফিস। বিশেষ করে পাবলিক ট্রান্সপোর্টে যাতায়াত করা, এতোটা ক্লান্তিকর ছিলো যে, প্রতি শনিবার মনে আতঙ্ক তৈরি হতো।
এখন শনিবারে এককাপ চা নিয়ে জার্নাল লিখতে বসি, যেসব ঘটনা লিখতে ভালোলাগে সেগুলো লিখি। জার্নালে আঁকিবুকি করি, আর লিখি—সপ্তাহান্তে ভালোলাগা কয়েকটি বিষয় এবং সামনের সপ্তাহে অপেক্ষার একটি বিষয়।
এই ছোট ছোট অভ্যাসগুলোই আমার রবিবারে অফিস করার ভয় কাটিয়ে দিয়েছে।
শেষ কথা
এই পরিবর্তনগুলোর কোনোটাই জীবন ওলট-পালট করে দেওয়ার মতো নয়। শুধু সপ্তাহের দুইদিন ছুটিকে একটু ভিন্নভাবে ব্যবহার করা।
সবচেয়ে বড় উপলব্ধি ছিল— বিশ্রাম কোনো পুরস্কার নয়, এটা মৌলিক প্রয়োজন। সেটা বুঝতে পারাই আসল কথা, যা এনে দিতে পারে মানসিক প্রশান্তি।
আপনার প্রয়োজন আমার মতো নাও হতে পারে। কিন্তু নিজের মনের কথা শুনুন, ছোট একটি পরিবর্তন দিয়ে শুরু করুন। হয়তো আপনিও হালকা অনুভব করবেন।
এই পুরো প্রক্রিয়ায় আমি আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় বুঝেছি— মানসিক সুস্থতা কখনোই আলাদা কোনো বড় সিদ্ধান্তের ফল নয়; বরং ছোট ছোট সচেতন পছন্দের সমষ্টি। সপ্তাহান্তে ফোনটা একটু দূরে রাখা, নিজের জন্য এক কাপ চা বানিয়ে ধীরে ধীরে খাওয়া, জানালার পাশে বসে কিছু না করেও কিছুক্ষণ থাকা— এই ছোট মুহূর্তগুলোই আমাকে আবার নিজের কাছে ফিরিয়ে এনেছে। আগে ভাবতাম, সময় নষ্ট করছি কি না; এখন বুঝি, এই সময়গুলোই আমাকে পরের সপ্তাহের জন্য মানসিকভাবে প্রস্তুত করে। নিজের ক্লান্তি, বিরক্তি বা একাকীত্বকে অস্বীকার না করে সেগুলোর দিকে তাকাতে শেখাটাও এই পরিবর্তনের বড় অংশ। ধীরে ধীরে আমি শিখছি—সব সময় শক্ত থাকতে হয় না, মাঝে মাঝে থামাও জরুরি।
মূল: আইনুরা কালাউ
বাংলা অনুবাদ: রকিব রেজা
বাংলা টেলিগ্রাফ উদ্যোগের গল্প