
ওপেনার তানজিদ হাসান তামিমের অনবদ্য সেঞ্চুরিতে বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগ (বিপিএল) টি-টোয়েন্টির দ্বাদশ আসরের ফাইনালে চট্টগ্রাম রয়্যালসের সামনে ১৭৫ রানের লক্ষ্য ছুড়ে দিয়েছে রাজশাহী ওয়ারিয়র্স। মিরপুর শের -ই- বাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত ফাইনালে প্রথমে ব্যাট করে নির্ধারিত ২০ ওভারে ৪ উইকেটে ১৭৪ রান তোলে রাজশাহী।
টস জিতে চট্টগ্রাম রয়্যালস প্রথমে ফিল্ডিংয়ের সিদ্ধান্ত নেয়। ইনিংসের শুরু থেকেই রাজশাহীর হয়ে আক্রমণাত্মক ব্যাটিং করেন দুই ওপেনার শাহিবজাদা ফারহান ও তানজিদ হাসান। পাওয়ার প্লেতে তারা দলকে এনে দেন দ্রুত ৪০ রান, আর সপ্তম ওভারেই দলীয় স্কোর পৌঁছে যায় পঞ্চাশে।
ব্যক্তিগত পারফরম্যান্সে উজ্জ্বল ছিলেন তানজিদ। দশম ওভারে মাত্র ২৯ বলেই তিনি পূর্ণ করেন নিজের টি-টোয়েন্টি ক্যারিয়ারের ২১তম হাফ-সেঞ্চুরি। তবে ১১তম ওভারে দলীয় ৮৩ রানে রাজশাহীর উদ্বোধনী জুটি ভাঙে। চট্টগ্রামের পেসার মুকিদুল ইসলামের বলে ৩০ বলে ২ চার ও ১ ছক্কায় ৩০ রান করে আউট হন ফারহান।
এরপর নিউজিল্যান্ডের কেন উইলিয়ামসনকে সঙ্গে নিয়ে তানজিদ ইনিংস এগিয়ে নেন। দুজনে মিলে ৩২ বলে ৪৭ রান যোগ করেন। উইলিয়ামসন ১৫ বলে ২ চার ও ১ ছক্কায় ২৪ রান করে শরিফুল ইসলামের বলে বিদায় নেন।
১৩০ রানে উইলিয়ামসন ফিরলেও থেমে যাননি তানজিদ। জেমি নিশামকে সঙ্গে নিয়ে ১৯ বলে ৩৩ রানের জুটি গড়েন তিনি। এই জুটিতেই ৬১ বল খেলে তানজিদ পূর্ণ করেন নিজের টি-টোয়েন্টি ক্যারিয়ারের তৃতীয় সেঞ্চুরি। উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো—তানজিদের সবগুলো টি-টোয়েন্টি সেঞ্চুরিই এসেছে বিপিএলের মঞ্চে, যা বাংলাদেশি ব্যাটারদের মধ্যে সর্বোচ্চ।
এছাড়া তিনি বিপিএল ফাইনালে সেঞ্চুরি করা তৃতীয় ব্যাটার হিসেবে নাম লেখালেন। এর আগে ২০১৭ সালে রংপুর রাইডার্সের হয়ে ক্রিস গেইল এবং ২০১৯ সালে কুমিল্লা ভিক্টোরিয়ানসের হয়ে তামিম ইকবাল ফাইনালে সেঞ্চুরি করেছিলেন।
শেষ পর্যন্ত মুকিদুল ইসলামের বলেই থামেন তানজিদ। ৬২ বলে ৬টি চার ও ৭টি ছক্কায় ১০০ রান করেন এই বাঁহাতি ওপেনার। ইনিংসের শেষ দিকে জেমি নিশাম ও অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্তর ৭ বলে ১১ রানের ছোট কিন্তু কার্যকর জুটিতে রাজশাহী ওয়ারিয়র্স ২০ ওভারে ৪ উইকেটে ১৭৪ রানের সংগ্রহ পায়।
চট্টগ্রাম রয়্যালসের পক্ষে বল হাতে শরিফুল ইসলাম ও মুকিদুল ইসলাম দুটি করে উইকেট শিকার করেন। এখন ফাইনালের ট্রফি জিততে চট্টগ্রামের প্রয়োজন ১৭৫ রান।