
আধুনিক বিশ্বে নারীরা এখন ঘরের চার দেয়াল পেরিয়ে মহাকাশ থেকে করপোরেট বোর্ডরুম -সবখানেই নিজেদের দক্ষতার প্রমাণ দিচ্ছেন। তবে এই অগ্রযাত্রার পথটি সবসময় মসৃণ নয়। বিশেষ করে দক্ষিণ এশীয় প্রেক্ষাপটে একজন নারীকে পেশাগত দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি পারিবারিক দায়িত্বও সমানতালে সামলাতে হয়। ২০২৬ সালের এই প্রতিযোগিতামূলক বাজারে নারীরা কীভাবে এই ‘মাল্টি-টাস্কিং’ বজায় রাখছেন এবং সফল হচ্ছেন??
১. লিডারশিপে নারীর নতুন জয়গান
গত কয়েক বছরে বাংলাদেশের করপোরেট সেক্টরে শীর্ষ পদে নারীদের অংশগ্রহণ চোখে পড়ার মতো বেড়েছে। এক সময় যা কেবল পুরুষশাসিত ক্ষেত্র বলে মনে করা হতো, এখন সেই ব্যাংক, আইটি সেক্টর এবং মাল্টিন্যাশনাল কোম্পানিগুলোতে নারীরা নীতিনির্ধারক হিসেবে নিজেদের অবস্থান শক্ত করেছেন। এই নেতৃত্বের অগ্রযাত্রায় উদাহরণ হিসেবে উঠে আসে ব্যবসায়ী ও শিক্ষাবিদ রুবানা হক, প্রযুক্তি ও বিনিয়োগ খাতের সফল ব্যক্তিত্ব সোনিয়া বশির কবির, উদ্যোক্তা ও নীতিনির্ধারক সেলিমা আহমদ এবং ব্যাংকিং খাতের অভিজ্ঞ ব্যক্তিত্ব হুমায়রা আজমের নাম। সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগ (সিপিডি)-এর নির্বাহী পরিচালক ড. ফাহমিদা খাতুনের মতো বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, নারীদের অর্থনৈতিক ক্ষমতায়ন এবং নেতৃত্বে অংশগ্রহণ প্রতিষ্ঠানের সাফল্যে বড় ভূমিকা রাখে। তাদের ধৈর্য এবং সহমর্মিতার গুণগুলো বর্তমান করপোরেট বিশ্বে অত্যন্ত কার্যকর সাব্যস্ত হচ্ছে।”


২. চ্যালেঞ্জ যেখানে ‘ব্যালেন্স’ করা
কর্মজীবী নারীদের প্রধান চ্যালেঞ্জ হলো কর্মক্ষেত্র এবং ব্যক্তিগত জীবনের ভারসাম্য (Work-Life Balance)। অনেক ক্ষেত্রে একে বলা হয় ‘সেকেন্ড শিফট’ – অর্থাৎ অফিস শেষ করে বাড়ি ফিরে আবার ঘরের কাজ শুরু করা।
৩. প্রযুক্তির আশীর্বাদ ও ডিজিটাল দক্ষতা
বর্তমান ডিজিটাল বিপ্লব কর্মজীবী নারীদের জন্য এক বড় আশীর্বাদ হয়ে দাঁড়িয়েছে। অফিস ম্যানেজমেন্ট অ্যাপ থেকে শুরু করে প্রাত্যহিক বাজার-সদাই সবকিছুই এখন হাতের মুঠোয়। প্রযুক্তির সঠিক ব্যবহার নারীদের সময় বাঁচানোর পাশাপাশি কাজের গতিও বাড়িয়ে দিচ্ছে। এছাড়া লার্নিং প্ল্যাটফর্মগুলোর মাধ্যমে ঘরে বসেই নতুন নতুন কারিগরি দক্ষতা বা ‘ডিজিটাল স্কিল’ শেখার সুযোগ তৈরি হয়েছে, যা ক্যারিয়ারের প্রতিযোগিতায় তাদের আরও এক ধাপ এগিয়ে রাখছে।
৪. মেন্টরশিপের গুরুত্ব
ক্যারিয়ারের কঠিন বাঁকগুলোতে সঠিক দিকনির্দেশনা বা মেন্টরশিপ না থাকায় অনেক মেধাবী নারী মাঝপথে ঝরে পড়েন। এই ক্ষেত্রে কর্মক্ষেত্রে সিনিয়র নারী লিডারদের পরামর্শ বা মেন্টরশিপ বড় ভূমিকা পালন করতে পারে। একজন মেন্টর শুধু কাজের পথই দেখান না, বরং আত্মবিশ্বাস বৃদ্ধি এবং পেশাগত জটিলতা মোকাবিলায় দারুণ সহায়ক হন। কর্মক্ষেত্রে বড় বোন বা অগ্রজদের এই পথচলা তরুণীদের জন্য সাহসের অন্যতম উৎস।
৫. আগামীর জন্য প্রস্তুতি ও তরুণ প্রজন্মের চ্যালেঞ্জ
আমাদের নতুন প্রজন্মের তরুণীরা এখন শুধু প্রথাগত ৯টা-৫টার চাকরিতে সীমাবদ্ধ থাকতে চান না। তারা ঝুঁকছেন স্টার্টআপ, ফ্রিল্যান্সিং কিংবা সৃজনশীল উদ্যোক্তা হওয়ার দিকে। তবে ২০২৬ সালের এই আধুনিক সময়েও তাদের জন্য প্রধান চ্যালেঞ্জ হলো কর্মক্ষেত্রে শতভাগ নিরাপত্তা এবং বৈষম্যহীন সুযোগ নিশ্চিত করা। তরুণদের এই নতুন চিন্তাধারাকে স্বাগত জানিয়ে একটি আধুনিক ও নিরাপদ কর্মপরিবেশ নিশ্চিত করাই এখন সময়ের বড় দাবি।
৬. প্রতিষ্ঠানের ভূমিকা
নারীবান্ধব কর্মপরিবেশ তৈরিতে অফিসের ভূমিকা অপরিসীম। চাইল্ড কেয়ার সুবিধা, ফ্লেক্সিবল ওয়ার্কিং আওয়ার এবং মাতৃত্বকালীন ছুটির সঠিক বাস্তবায়ন একজন নারীর ক্যারিয়ারে ঝরে পড়া রোধ করতে পারে।

৭. সাফল্যের ৪টি কার্যকর কৌশল
পেশাজীবনে সফল হতে এবং মানসিক প্রশান্তি বজায় রাখতে বিশেষজ্ঞরা কিছু টিপস দিয়েছেন:
বিশিষ্ট নারীবাদী লেখক ও সমাজকর্মী গ্লোরিয়া স্টাইনম-এর মতে, “নারীদের ক্ষমতায়ন মানে শুধু তাদের চাকরি দেওয়া নয় বরং এমন একটি পরিবেশ তৈরি করা যেখানে তারা ভয়হীনভাবে নিজেদের প্রতিভা প্রকাশ করতে পারে।”
বাংলা টেলিগ্রাফ উদ্যোগের গল্প