
অজিত পাওয়ার ও শরদ পাওয়ার
মহারাষ্ট্র রাজনীতিতে যখন চাচা শরদ পাওয়ারের সঙ্গে রাজনৈতিক পুনর্মিলনের জল্পনা তুঙ্গে, ঠিক সেই সময় বুধবার সকালে বিমান দুর্ঘটনায় অজিত পাওয়ারের মর্মান্তিক মৃত্যু রাজ্যের রাজনৈতিক মহলে গভীর শোকের ছায়া ফেলেছে।
অজিত পাওয়ার ও তাঁর কাকা, এনসিপির প্রতিষ্ঠাতা শরদ পাওয়ারের নেতৃত্বাধীন দলের দুই শিবির আবার এক হতে পারে—এমন আলোচনা চলছিল মহারাষ্ট্রের ক্ষমতার করিডর জুড়ে। ১৯৯৯ সালে প্রতিষ্ঠিত ন্যাশনালিস্ট কংগ্রেস পার্টি (এনসিপি) ২০২৩ সালে ভেঙে যায়, যখন অজিত পাওয়ার দলের শীর্ষ নেতা শারদ পওয়ারের বিরুদ্ধে বিদ্রোহের নেতৃত্ব দেন। দল ভাঙনের পর অজিত পাওয়ার মহারাষ্ট্রে বিজেপি নেতৃত্বাধীন এনডিএ সরকারে যোগ দেন, অন্যদিকে শরদ পাওয়ার ও তাঁর কন্যা সুপ্রিয়া সুলে কংগ্রেস নেতৃত্বাধীন বিরোধী শিবিরেই থেকে যান।
দল ভাঙনের আইনি লড়াইয়ে অজিত পাওয়ার এনসিপির নাম ও প্রতীক নিজের দখলে আনেন। দলের প্রতিষ্ঠাতা শরদ পাওয়ার তার অংশের জন্য নতুন নাম ও প্রতীক নিতে বাধ্য হন।
২০২৪ সালের লোকসভা নির্বাচনে অজিত পাওয়ারের দল মাত্র একটি আসনে জয় পেলেও শরদ পাওয়ার শিবির জেতে আটটি আসন। তবে পরের বছর মহারাষ্ট্র বিধানসভা নির্বাচনে চিত্র বদলে যায়—অজিত পাওয়ারের দল পায় ৪১টি আসন, আর শরদ পাওয়ার শিবির সীমাবদ্ধ থাকে ১০টিতে।
এরপর বিজেপি নেতা দেবেন্দ্র ফডনবিশের নেতৃত্বাধীন এনডিএ সরকারের উপ-মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে আবার দায়িত্ব নেন অজিত পাওয়ার।
রাজ্য নির্বাচনের এক বছর পর মহারাষ্ট্র যখন আসন্ন স্থানীয় সংস্থা নির্বাচনের প্রস্তুতি নিচ্ছিল, তখন এনসিপির দুই শিবির হঠাৎই চমকপ্রদ ঘোষণা করে। অজিত পাওয়ার ও শরদ পাওয়ারের শিবির জানায়, তারা কিছু জায়গায় একসঙ্গে লড়বে।
ভারতের স্থানীয় সংস্থা নির্বাচনে সাধারণত স্থানীয় সমীকরণই মুখ্য হওয়ায় অপ্রত্যাশিত রাজনৈতিক জোট নতুন নয়। তবে এবার এনসিপির দুই শিবির ইঙ্গিত দেয়, এটি শুধু এককালীন সমঝোতা নয়—বরং পুনর্মিলনের দিকেও ভাবনা চলছে। চাচাতো ভাই অজিত পাওয়ারের সঙ্গে শরদ পাওয়ার কন্যা ও সাংসদ সুপ্রিয়া সুলে যৌথ সাংবাদিক সম্মেলন করেন এবং উভয় পক্ষই দাবি করে, দলের কর্মীরা পুনর্মিলন চান। যদিও প্রকাশ্যে দুই শিবিরের নেতারাই বলেন, একীভূত হওয়া নিয়ে এখনও চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি।
এই পটভূমিতেই বুধবারের ভয়াবহ বিমান দুর্ঘটনায় অজিত পাওয়ারের প্রাণহানি ঘটলো।