
আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটের আগে বাংলাদেশে মানবাধিকার ও আইনের শাসন নিশ্চিত করার আহ্বান জানিয়েছে আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থা অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল। অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূসের প্রতি জনগণের আস্থা পুনরুদ্ধারে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার তাগিদ দিয়ে সংস্থাটির মহাসচিব অ্যাগনেস ক্যালামার্ড একটি খোলা চিঠি পাঠিয়েছেন। বুধবার (২৯ জানুয়ারি) অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনালের ওয়েবসাইটে চিঠিটি প্রকাশ করা হয়।
আগামী ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচন সামনে রেখে পাঠানো ওই চিঠিতে সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে সন্ত্রাসবিরোধী আইনের অপব্যবহার, মতপ্রকাশের স্বাধীনতা ও শান্তিপূর্ণ সমাবেশের অধিকার সুরক্ষিত না থাকার বিষয়ে গভীর উদ্বেগ জানানো হয়। একই সঙ্গে নাগরিকদের জীবন ও ব্যক্তিগত নিরাপত্তা নিশ্চিত করার আহ্বানও জানানো হয়।
চিঠিতে বলা হয়, আন্তর্জাতিক আইনের আওতায় মানবাধিকার পুনরুদ্ধারের যে দায়িত্ব অন্তর্বর্তী সরকার পেয়েছে, আগামী কয়েক সপ্তাহ হবে তা পালনের গুরুত্বপূর্ণ পরীক্ষা। নির্বাচনকালেও নাগরিকদের নির্বিঘ্নে মতপ্রকাশ ও অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে কার্যকর আইন ও নীতি প্রয়োগের ওপর জোর দেওয়া হয়।
অ্যামনেস্টির অভিযোগ, ২০২৪ সালে দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকে অন্তর্বর্তী কর্তৃপক্ষ সাংবাদিক ও সমালোচকদের দমনে সন্ত্রাসবিরোধী আইন অপব্যবহার করেছে। উদাহরণ হিসেবে সাংবাদিক মঞ্জুরুল আলম পান্না ও আনিস আলমগীরের গ্রেপ্তারের কথা উল্লেখ করা হয়, যেগুলোকে সংস্থাটি মতপ্রকাশ ও সংগঠনের অধিকারের সুস্পষ্ট লঙ্ঘন বলে দাবি করেছে।
এছাড়া ১৮ ডিসেম্বর সহিংসতা প্রতিরোধে প্রশাসনের ভূমিকা নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়। ওই রাতে প্রথম আলো ও দ্য ডেইলি স্টার কার্যালয়ে অগ্নিসংযোগ, নিউ এজ সম্পাদক নূরুল কবীরকে হেনস্তা এবং ময়মনসিংহের ভালুকায় দীপু চন্দ্র দাসকে গণপিটুনিতে হত্যার ঘটনাও চিঠিতে তুলে ধরা হয়।
এরই মধ্যে নির্বাচনপূর্ব মানবাধিকার সুরক্ষায় করণীয় তুলে ধরে একটি মানবাধিকার সনদ প্রকাশ করেছে অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল। সংস্থাটি বলছে, নির্বাচন সুষ্ঠু ও বিশ্বাসযোগ্য করতে মানবাধিকার নিশ্চিত করা এখন সময়ের দাবি।