
ফাইল ছবি
মালয়েশিয়ায় অবস্থানরত প্রবাসী এবং দেশটিতে গমনেচ্ছুদের জন্য কঠোর বার্তা দিয়েছে মালয়েশিয়া সরকার। যারা পর্যটন বা সামাজিক ভিজিট ভিসার অপব্যবহার করে অবৈধভাবে কাজ করছেন, তাদের বিরুদ্ধে ‘জিরো টলারেন্স’ বা শূন্য সহনশীলতা নীতি ঘোষণা করা হয়েছে।
শুক্রবার (৩০ জানুয়ারি) মন্ত্রিসভার বৈঠক শেষে সরকারের মুখপাত্র ফাহমি ফাজিল এই বিশেষ বার্তার কথা জানান।
তিনি স্পষ্টভাবে জানান, প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিমের নির্দেশ অনুযায়ী, ভিজিট ভিসায় এসে গোপনে কাজ করার কোনো সুযোগ আর থাকছে না। ইতোমধ্যে ২০২৬ সালের জানুয়ারি মাসেই প্রায় ৩ হাজার ৬৯১ জনকে এই অপরাধে আইনের আওতায় আনা হয়েছে। সরকার জানিয়েছে, যারা এই ধরনের কর্মকাণ্ডে লিপ্ত হবে, তাদের কোনোভাবেই ছাড় দেওয়া হবে না।
এই বার্তার মাধ্যমে মূলত মালয়েশিয়া প্রবাসী বাংলাদেশিসহ অন্যান্য বিদেশি নাগরিকদের সতর্ক করা হয়েছে যেন তারা বৈধ কাজের পারমিট ছাড়া কোনো পেশায় যুক্ত না হন। একইসঙ্গে যারা বর্তমানে অবৈধ অবস্থায় আছেন, তাদের জন্য আগামী এপ্রিল ২০২৬ পর্যন্ত ‘মাইগ্রান্ট রিপ্যাট্রিয়েশন প্রোগ্রাম ২.০’ বা নিজ দেশে ফেরার বিশেষ সুযোগ চালু রয়েছে। এই সময়ের মধ্যে সুযোগ গ্রহণ না করলে পরবর্তীতে কঠোর আইনি সাজার মুখোমুখি হতে হবে।
মালয়েশিয়া সরকার জানিয়েছে, ভিসা সহজ করার সুযোগ নিয়ে যারা অভিবাসন আইন লঙ্ঘন করছেন, তাদের বিরুদ্ধে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে আরও কঠোর হতে বলা হয়েছে। ভবিষ্যতেও নিয়মিত অভিযান চলবে এবং অবৈধ কর্মকাণ্ডে জড়িত বিদেশিদের ওপর কঠোর নজরদারি বজায় থাকবে।
সরকারের পক্ষ থেকে স্পষ্ট করে বলা হয়েছে, মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার ও নিরাপত্তা রক্ষায় ভিসা অপব্যবহারের বিরুদ্ধে শূন্য সহনশীলতা নীতি অনুসরণ করা হবে।
সরকারের পক্ষ থেকে স্পষ্ট করে বলা হয়েছে, মালয়েশিয়া সরকারের এই কঠোর অবস্থানের প্রধান লক্ষ্য হলো শ্রমবাজারের শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনা এবং অবৈধভাবে প্রবেশের প্রবণতা শূন্যে নামিয়ে আনা। তাই গমনেচ্ছুদের দালালের খপ্পরে না পড়ে সঠিক পন্থায় দেশটিতে যাওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।