
জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, যারা রাস্তায় চলাচলকারী মা–বোনদের উদ্দেশে অশালীন ও কাপড় খুলে দেওয়ার হুমকি দেয়, তারা মানবিক প্রজাতির পরিচয় বহন করে না। তাঁর মতে, নির্বাচনের আগে যারা এ ধরনের বক্তব্য দেয়, তারা নির্বাচনের পর কী করতে পারে- তা সহজেই অনুমান করা যায়।
শনিবার (৩১ জানুয়ারি) দুপুর ২টার দিকে কুমিল্লার দাউদকান্দি কেন্দ্রীয় ঈদগাহ মাঠে ১১ দলীয় জোট সমর্থিত কুমিল্লা-১ আসনের প্রার্থী মনিরুজ্জামান বাহলুলের পক্ষে আয়োজিত নির্বাচনী জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
ডা. শফিকুর রহমান বলেন, কোনো রাজনৈতিক শক্তির নারী সমাজের প্রতি দৃষ্টিভঙ্গি তাদের বক্তব্যেই প্রকাশ পায়। সকালে সূর্য ওঠার মতোই দিনের গতিপথ আগেই বোঝা যায়- এমন মন্তব্য করে তিনি সংশ্লিষ্টদের মানসিকতার সমালোচনা করেন।
জনসভায় তিনি বলেন, জামায়াতে ইসলামী একটি মর্যাদাপূর্ণ ও সার্বভৌম বাংলাদেশ গড়তে চায়, যেখানে দেশের অসংখ্য বন্ধু রাষ্ট্র থাকবে, তবে কোনো প্রভু থাকবে না। তাঁর ভাষায়, বাংলাদেশের আকাশের নিচে ও জমিনের ওপর সবাই সমান অধিকার ভোগ করবে।
তিনি অভিযোগ করেন, সংবিধানের দোহাই দিয়ে দীর্ঘদিন জনগণের ওপর জুলুম চালানো হয়েছে এবং পুরোনো ও দুর্নীতিগ্রস্ত রাজনৈতিক বন্দোবস্ত আর চলতে দেওয়া হবে না। এ ধরনের রাজনীতিকে ‘লাল কার্ড’ দেখানোর ঘোষণা দেন তিনি।
৫ আগস্টের পরও অনেকের চরিত্রের পরিবর্তন হয়নি- এমন মন্তব্য করে জামায়াত আমির বলেন, অতীতের বাংলাদেশে সন্ত্রাস, ফ্যাসিবাদ, দুর্নীতি, ব্যাংক ও শেয়ারবাজার লুট এবং নারীর প্রতি সহিংসতার চিত্র দেখা গেছে। তাঁর অভিযোগ, একটি পরিবার ও একটি গোষ্ঠীকেন্দ্রিক শাসনব্যবস্থায় সাধারণ মানুষকে উপেক্ষা করা হতো।
আগামী নির্বাচনকে সামনে রেখে অতিরঞ্জিত প্রতিশ্রুতি দেওয়া হচ্ছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, জামায়াত কোনো অবাস্তব অঙ্গীকার করবে না, যা সরকারের পক্ষে বাস্তবায়ন করা সম্ভব নয়।
নির্বাচনী অঙ্গীকারের বিষয়ে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা, জনগণের অধিকার নিশ্চিত করা, শিক্ষাব্যবস্থা ও স্বাস্থ্যসেবার উন্নয়ন এবং প্রবীণ নাগরিকদের দায়িত্ব রাষ্ট্রকেই নিতে হবে। বিশেষ করে পাঁচ বছর বয়স পর্যন্ত শিশুদের চিকিৎসাসেবা বিনামূল্যে দেওয়ার প্রতিশ্রুতিও দেন তিনি।