
যুক্তরাষ্ট্রের বিচার বিভাগ জেফরি এপস্টেইন–সংক্রান্ত প্রায় ৩০ লাখ পৃষ্ঠার নতুন নথি প্রকাশের পর বিশ্ব রাজনীতি ও করপোরেট দুনিয়ায় তীব্র আলোড়ন সৃষ্টি হয়েছে। প্রকাশিত গোপন ইমেইল ও বার্তায় একাধিক প্রভাবশালী ব্যক্তি ও রাষ্ট্রীয় পর্যায়ের বিষয়ে চাঞ্চল্যকর দাবি উঠে এসেছে।
নথিতে ইলন মাস্ক ও বিল গেটসের নামের পাশাপাশি ব্রিটিশ রাজপরিবারের সদস্য প্রিন্স অ্যান্ড্রু মাউন্টব্যাটেন–উইন্ডসরের বিরুদ্ধে নতুন যৌন হেনস্তার অভিযোগের কথাও উল্লেখ করা হয়েছে। একই সঙ্গে সাংবাদিক জামাল খাসোগি হত্যাকাণ্ড এবং ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির বিদেশ সফর নিয়েও দাবি রয়েছে। এসব তথ্য প্রকাশের পর স্লোভাকিয়ার নিরাপত্তা উপদেষ্টা পদত্যাগ করেছেন।
নথিতে দাবি করা হয়, বিল গেটস রুশ নারীদের সঙ্গে সম্পর্ক এবং ড্রাগ–সংক্রান্ত সহায়তার জন্য এপস্টেইনের সঙ্গে যোগাযোগ করেছিলেন। তবে গেটস ফাউন্ডেশন এসব অভিযোগকে ভিত্তিহীন বলে জানিয়েছে। অন্যদিকে, ইলন মাস্কের ক্ষেত্রেও এপস্টেইনের দ্বীপে পার্টি সংক্রান্ত ইমেইলের উল্লেখ রয়েছে, যা মাস্ক প্রত্যাখ্যান করেছেন।
নথিতে আরও বলা হয়, খাসোগি হত্যাকাণ্ড নিয়ে এপস্টেইন দাবি করেছিলেন—এটি একটি বৃহত্তর ষড়যন্ত্রের অংশ হতে পারে এবং সংযুক্ত আরব আমিরাতের শাসক মোহাম্মদ বিন জায়েদের ভূমিকা থাকতে পারে। পাশাপাশি এফবিআইয়ের একটি মেমোতে এপস্টেইনের গোয়েন্দা সংস্থার সঙ্গে সংশ্লিষ্টতার কথাও উঠে এসেছে।
এপস্টেইনের ইমেইলে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে ঘিরে ওঠা দাবিগুলো ভারত সরকার ঘৃণাভরে প্রত্যাখ্যান করেছে। দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এগুলোকে একজন দণ্ডিত অপরাধীর ‘বাজে চিন্তা’ বলে আখ্যা দিয়েছে।
এদিকে স্লোভাকিয়ার সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী ও বর্তমান নিরাপত্তা উপদেষ্টা মিরোস্লাভ লাজকাকের সঙ্গে এপস্টেইনের বার্তা বিনিময়ের তথ্য প্রকাশ পাওয়ার পর তিনি পদত্যাগ করেছেন।
অন্যদিকে প্রিন্স অ্যান্ড্রুর বিরুদ্ধে দ্বিতীয় এক নারী যৌন নিপীড়নের অভিযোগ এনেছেন। তাঁর আইনজীবীর দাবি, ২০১০ সালে এপস্টেইন ওই নারীকে যুক্তরাজ্যে পাঠান এবং অ্যান্ড্রুর বাসভবনেই ঘটনাটি ঘটে।