
ছবি: সংগৃহীত
ভারতের বিপক্ষে গ্রুপ পর্বের ম্যাচ বয়কট করলেও আসন্ন টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে অংশ নেওয়ার চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিয়েছে পাকিস্তান। সেই লক্ষ্যে আজ সোমবার (২ ফেব্রুয়ারি) শ্রীলঙ্কায় পৌঁছেছে পাকিস্তান জাতীয় ক্রিকেট দল। কলম্বোর বন্দরে অবতরণের পর কড়া নিরাপত্তায় তাদের হোটেলে নিয়ে যাওয়া হয়।
আগামী ৪ ফেব্রুয়ারি কলম্বোর সিংহলী স্পোর্টস ক্লাব গ্রাউন্ডে আয়ারল্যান্ডের বিপক্ষে একমাত্র প্রস্তুতি ম্যাচে মাঠে নামবেন সালমান আলী আগার নেতৃত্বাধীন দলটি।
২০২৬ টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের গ্রুপ ‘এ’-তে থাকা পাকিস্তান তাদের মূল অভিযান শুরু করবে আগামী ৭ ফেব্রুয়ারি। উদ্বোধনী ম্যাচে তাদের প্রতিপক্ষ নেদারল্যান্ডস। ডাচরা ছাড়াও পাকিস্তানের গ্রুপে রয়েছে স্বাগতিক ভারত, যুক্তরাষ্ট্র ও নামিবিয়া। তবে টুর্নামেন্টে অংশ নিলেও ১৫ ফেব্রুয়ারি কলম্বোর আর প্রেমাদাসা স্টেডিয়ামে ভারতের বিপক্ষে নির্ধারিত হাই-ভোল্টেজ ম্যাচে মাঠে না নামার অনড় ঘোষণা দিয়েছে পাকিস্তান সরকার ও ক্রিকেট বোর্ড (পিসিবি)।
আইসিসি’র ‘হাইব্রিড মডেল’ অনুযায়ী, ভারত ও পাকিস্তান একে অপরের দেশে সফর না করে নিরপেক্ষ ভেন্যুতে খেলার কথা। সেই সূত্রেই পাকিস্তানের সব কটি গ্রুপ ম্যাচ শ্রীলঙ্কায় আয়োজন করা হয়েছে। কিন্তু গত রবিবার পাকিস্তান সরকার এক আনুষ্ঠানিক বিবৃতিতে জানায়, ২০২৬ বিশ্বকাপে পাকিস্তান দল অংশ নিলেও ভারতের বিপক্ষে কোনো গ্রুপ ম্যাচে অংশ নেবে না।
ভারত সফরে বাংলাদেশের ক্রিকেট দলের অসম্মতি এবং পরবর্তীতে আইসিসি কর্তৃক বাংলাদেশকে সরিয়ে দিয়ে স্কটল্যান্ডকে টুর্নামেন্টে অন্তর্ভুক্ত করার প্রতিবাদেই পাকিস্তান এই কঠোর অবস্থান নিয়েছে।
শ্রীলঙ্কায় পৌঁছে সংবাদমাধ্যমকে পাকিস্তানের অধিনায়ক সালমান আলী আগা বলেন, “আমরা বিশ্বকাপে লড়াই করতে এসেছি এবং আমাদের মূল লক্ষ্য ট্রফি জয়। তবে ভারতের বিপক্ষে ম্যাচ বয়কট করার বিষয়ে সরকার ও ক্রিকেট বোর্ড যে সিদ্ধান্ত নিয়েছে, খেলোয়াড় হিসেবে আমরা তা মেনে চলতে বাধ্য। আমাদের ফোকাস এখন অন্য ম্যাচগুলোতে জয় নিশ্চিত করে পরবর্তী রাউন্ডে যাওয়া।”
উল্লেখ্য, পাকিস্তানের এই ‘নির্বাচিত অংশগ্রহণের’ সিদ্ধান্ত নিয়ে ইতোমধ্যেই আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিল (আইসিসি) উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। আইসিসি জানিয়েছে, ভারত ম্যাচের জন্য কোনো নিরপেক্ষ ভেন্যু পরিবর্তনের সুযোগ নেই। পাকিস্তান যদি ১৫ ফেব্রুয়ারির ম্যাচে মাঠে না নামে, তবে নিয়ম অনুযায়ী ভারত পূর্ণ পয়েন্ট পাবে এবং ম্যাচটি ওয়াকওভার হিসেবে গণ্য হবে। ক্রিকেট ভক্তদের মাঝে এই সিদ্ধান্তের ফলে ব্যাপক মিশ্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়েছে।