
ফাইল ছবি
দেশে প্রবাসী আয়ের উল্লম্ফনের কারণে বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোতে ডলারের উদ্বৃত্ত তৈরি হয়েছে। এতে ডলারের মূল্য কমে যাওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। ফলে মুদ্রাবাজারে স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে এবং বৈদেশিক মুদ্রার জোগান-চাহিদার ভারসাম্য ঠিক রাখতে কেন্দ্রীয় ব্যাংক বাজার থেকে আরো ৪ বিলিয়ন ডলার ক্রয় করেছে।
বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান জানান, বাজারে ডলারের সরবরাহ চাহিদার তুলনায় বেশি হওয়ায় ডলারের দাম যেন অস্বাভাবিকভাবে কমে না যায়, সেজন্য কেন্দ্রীয় ব্যাংক এই ক্রয় করেছে। এতে প্রবাসী আয় ও রপ্তানি খাত সুরক্ষিত থাকবে এবং দেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভও বাড়বে।
চলতি অর্থবছর (২০২৫-২৬) এখন পর্যন্ত কেন্দ্রীয় ব্যাংক বিভিন্ন ব্যাংকের কাছ থেকে মোট ৪.১৫ বিলিয়ন ডলার কিনেছে। শুধুমাত্র চলতি জানুয়ারিতেই প্রবাসীরা দেশে পাঠিয়েছে ৩১৭ কোটি ডলার, যা গত বছরের একই সময়ের তুলনায় ৪৫.১০ শতাংশ বেশি।
জানা গেছে, ২০২২ সালে দেশের ডলার বাজার অস্থিতিশীল হয়ে ওঠে। তখন প্রতি ডলারের দাম ৮৫ টাকা থেকে বেড়ে ১২২ টাকায় পৌঁছায়। তৎকালীন সরকার ও কেন্দ্রীয় ব্যাংক নানা পদক্ষেপ নিলেও বাজার নিয়ন্ত্রণে আসেনি। পরবর্তীতে রিজার্ভ থেকে ডলার বিক্রি করা হলেও স্থিতিশীলতা ফিরে আসেনি।
গত তিন অর্থবছরে কেন্দ্রীয় ব্যাংক প্রায় ৩৪ বিলিয়ন ডলার বিক্রি করেছে। এর মধ্যে ২০২১-২২ অর্থবছরে ৭.৬ বিলিয়ন, ২০২২-২৩ অর্থবছরে ১৩.৫ বিলিয়ন এবং ২০২৩-২৪ অর্থবছরে ১২.৭৯ বিলিয়ন ডলার। তবে একই সময়ে ব্যাংকগুলোর কাছ থেকে কেনা হয়েছে মাত্র এক বিলিয়ন ডলারের মতো।
বর্তমান সরকার অর্থপাচার বন্ধে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়ায় রপ্তানি ও প্রবাসী আয় উভয়ই বেড়েছে। সরবরাহ বাড়লেও চাহিদা অনুযায়ী না থাকার কারণে ডলারের দাম কমার সম্ভাবনা রয়েছে। কেন্দ্রীয় ব্যাংক নিজ উদ্যোগে বাজার থেকে ডলার কিনে বাজারে ভারসাম্য বজায় রাখছে।
রেমিট্যান্স বৃদ্ধি এবং ডলার ক্রয়ের ফলে দেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ ৩৩.১৮ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছেছে। বিপিএম-৬ অনুযায়ী তা রয়েছে ২৮.৬৮ বিলিয়ন ডলার। দেশের ইতিহাসে সর্বোচ্চ রিজার্ভ ছিল ৪৮ বিলিয়ন ডলার (২০২১ সালের আগস্টে)। এরপর ধীরে ধীরে কমে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের সময় নেমে আসে ২০.৪৮ বিলিয়ন ডলারে।
বাংলাদেশ ব্যাংক বলেছে, বাজারে ডলারের দাম স্থিতিশীল রাখার মাধ্যমে প্রবাসী আয় ও রপ্তানি খাত সুরক্ষিত রাখার পাশাপাশি দেশের অর্থনীতিতে স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করা হচ্ছে।