
অর্থ উপদেষ্টা ড. সালেহউদ্দিন আহমেদ। ছবি: সংগৃহীত
নতুন পে-স্কেল বাস্তবায়ন ও দেশের বর্তমান অর্থনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে সরকারের অবস্থান পরিষ্কার করেছেন অর্থ উপদেষ্টা ড. সালেহউদ্দিন আহমেদ। মঙ্গলবার (৩ ফেব্রুয়ারি) সচিবালয়ে ক্রয়-সংক্রান্ত উপদেষ্টা পরিষদের বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের তিনি জানান, অন্তর্বর্তী সরকার নতুন পে-স্কেল বাস্তবায়নের জন্য প্রয়োজনীয় অর্থের জোগান নিশ্চিত করে গেছে। পরবর্তী নির্বাচিত সরকার ক্ষমতায় এলেও এই সিদ্ধান্ত পরিবর্তন করতে পারবে না, যদিও প্রশাসনিক প্রক্রিয়ার কারণে এটি কার্যকর হতে কিছুটা সময় লাগতে পারে।
অর্থ উপদেষ্টা বলেন, “পে-স্কেলের অর্থের ব্যবস্থা করে দেওয়া হয়েছে। পরবর্তী সরকার এটি বাস্তবায়ন করবে, কিন্তু সিদ্ধান্ত বদলানোর কোনো সুযোগ তাদের থাকবে না।” তিনি আরও উল্লেখ করেন যে, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট পরবর্তী ভঙ্গুর অর্থনীতিকে গত দেড় বছরের প্রচেষ্টায় একটি স্থিতিশীল পর্যায়ে আনা সম্ভব হয়েছে। ফলে অন্তর্বর্তী সরকার পরবর্তী সরকারের জন্য একটি স্বস্তিদায়ক অর্থনৈতিক পরিবেশ রেখে যাচ্ছে।
নির্বাচন ও গণভোটের খরচ প্রসঙ্গে ড. সালেহউদ্দিন আহমেদ জানান, গণভোট আয়োজনের জন্য বাজেটে প্রয়োজনীয় বরাদ্দ রাখা হয়েছে। তবে এই বরাদ্দ কোনো নির্দিষ্ট পক্ষের জন্য নয় বরং গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার অংশ। তিনি স্পষ্ট করে বলেন, “গণভোটের জন্য বরাদ্দ রাখা হয়েছে, ‘হ্যাঁ’ ভোটের জন্য নয়। গণভোট যুক্ত হওয়ায় এবারের নির্বাচনে বরাদ্দের পরিমাণ কিছুটা বেড়েছে।”
কর্মসংস্থান ও ভবিষ্যৎ চ্যালেঞ্জ নিয়ে কথা বলতে গিয়ে অর্থ উপদেষ্টা স্বীকার করেন যে, আগের সরকারের আমলের বেশ কিছু অপ্রয়োজনীয় প্রকল্প বন্ধ করে দেওয়ায় কর্মসংস্থানের সুযোগ বর্তমানে কিছুটা কমেছে। এটি আগামী দিনে একটি চ্যালেঞ্জ হতে পারে বলে তিনি মন্তব্য করেন। তবে অর্থনৈতিক শৃঙ্খলা ফেরাতে সরকার বর্তমানে অপ্রয়োজনীয় ব্যয় কমিয়ে সাশ্রয়ী নীতি গ্রহণ করেছে, যার ইতিবাচক প্রভাব ভবিষ্যতে দেশের অর্থনীতিতে দৃশ্যমান হবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।