
সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত সহপাঠীর পরিবারের সঙ্গে থানায় মামলা দায়ের করতে গিয়ে উল্টো গ্রেপ্তার হয়েছেন বরেন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয়ের ইলেকট্রিক্যাল অ্যান্ড ইলেকট্রনিক ইঞ্জিনিয়ারিং (ইইই) বিভাগের শিক্ষার্থী হাসানুর রহমান তুহিন । এই ঘটনার তীব্র প্রতিবাদ জানিয়ে তাকে অবিলম্বে মুক্তি দিয়ে পুনরায় শিক্ষা জীবনে ফিরে যাওয়ার সুযোগ দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ ও সাধারণ শিক্ষার্থীরা।
মঙ্গলবার (৩ ফেব্রুয়ারি) বিশ্ববিদ্যালয়টির পক্ষ থেকে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, গত ২৫ জানুয়ারি পুঠিয়া উপজেলার পোল্লাপুকুর এলাকায় এক মর্মান্তিক সড়ক দুর্ঘটনায় ইইই বিভাগের শিক্ষার্থী শান্ত ইসলামসহ তিনজন নিহত হন। দুর্ঘটনার পর বাসের চালককে আটক এবং থানার সীমানা নির্ধারণ নিয়ে পুলিশের মধ্যে দ্বিধাদ্বন্দ্ব তৈরি হলে স্থানীয় জনতা ও শিক্ষার্থীরা বিক্ষুব্ধ হয়ে পড়েন। পরিস্থিতি সামাল দিতে শিক্ষার্থীরা চেষ্টা চালালেও রাতের দিকে কিছু কুচক্রী মহলের ইন্ধনে বিশৃঙ্খলা তৈরি হয়। শিক্ষার্থীরা নিজেদের জীবনের ঝুঁকি নিয়ে সহপাঠীর রক্তাক্ত নিথর দেহ রক্ষা করে পরিবারের কাছে পৌঁছে দেন।
পরবর্তীতে ২৬ জানুয়ারি নিহত শান্তর পরিবার ও শিক্ষকরা থানায় মামলা করতে গেলে সেখান থেকেই শিক্ষার্থী তুহিনকে গ্রেপ্তার করা হয়। বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ ও শিক্ষার্থীদের দাবি, হাসানুর রহমান তুহিন নির্দোষ এবং তিনি কেবল সহপাঠীর প্রতি সহমর্মিতা জানাতে সেখানে উপস্থিত ছিলেন। পুলিশ প্রশাসনের প্রতি আস্থা রেখে তারা আহ্বান জানিয়েছেন যে, মানবিক দিক বিবেচনায় হাসানুরকে দ্রুত মুক্তি দিয়ে তার শিক্ষাজীবন স্বাভাবিক করার সুযোগ দেওয়া হোক।