
ছবি: সংগৃহীত
সৌকর্য ঘোষাল পরিচালিত ও জয়া আহসান অভিনীত সাইকোলজিক্যাল থ্রিলার সিনেমা ‘ওসিডি’ আজ শুক্রবার পশ্চিমবঙ্গের প্রেক্ষাগৃহে মুক্তি পাচ্ছে। ছবির মুক্তি উপলক্ষে পশ্চিমবঙ্গের দৈনিক এই সময়-এ দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে সিনেমা ও ব্যক্তিজীবন- দুই প্রসঙ্গেই কথা বলেছেন জয়া আহসান।
‘ওসিডি’ বা অবসেসিভ কম্পালসিভ ডিজঅর্ডার এমন এক মানসিক সমস্যা, যা আক্রান্ত মানুষের জীবনকে মারাত্মকভাবে প্রভাবিত করে। শৈশবের অনাকাঙ্ক্ষিত ও বেদনাদায়ক অভিজ্ঞতা কীভাবে পরিচ্ছন্নতার নেশার সঙ্গে মিশে একের পর এক অপরাধের জন্ম দিতে পারে, সেটির একটি ‘ব্লুপ্রিন্ট’ পর্দায় তুলে ধরেছেন পরিচালক সৌকর্য ঘোষাল।
সাক্ষাৎকারে ভালো থাকার চাবিকাঠি প্রসঙ্গে জয়া আহসান বলেন, তিনি প্রকৃতির কাছাকাছি থাকতে ভালোবাসেন এবং নিজের ছোট একটি জগৎ ও পোষ্যদের সঙ্গে সময় কাটান। পাশাপাশি ব্যক্তিগত জীবন ব্যক্তিগত রাখতেই তিনি স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করেন বলে জানান।
ছবিটিতে কাজ করার কারণ ব্যাখ্যা করে জয়া বলেন, বিষয়টি আপাতদৃষ্টিতে কঠিন মনে হলেও এটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সন্তান জন্ম দেওয়ার পর তার চারপাশের পরিবেশই একটি মানুষকে গড়ে তোলে- সেই জায়গায় ঘাটতি থাকলেই বিপদ তৈরি হয়। তাঁর মতে, ‘ওসিডি’ একটি দায়িত্ববোধের ছবি, যা নিয়ে এখনই কথা বলা প্রয়োজন।
সাক্ষাৎকারে গায়ক অরিজিৎ সিংয়ের অবসর প্রসঙ্গেও মন্তব্য করেন জয়া আহসান। তিনি বলেন, শ্রোতা হিসেবে কষ্ট পেলেও মানুষ হিসেবে অরিজিতের সিদ্ধান্ত তাঁকে মুগ্ধ করেছে এবং জীবনে অবসর নেওয়া অত্যন্ত জরুরি।
শিশু নির্যাতনের দীর্ঘমেয়াদি মানসিক প্রভাবকে কেন্দ্র করেই ‘ওসিডি’র গল্প এগিয়েছে। এক নির্যাতিত শিশুর দৃষ্টিভঙ্গি থেকে ছবির কাহিনি নির্মাণ করেছেন সৌকর্য ঘোষাল। ছবিতে শ্বেতা নামের এক চিকিৎসকের চরিত্রে অভিনয় করেছেন জয়া আহসান। অতীতের ভয়াবহ স্মৃতি ও মানসিক ক্ষত সারাজীবন তাঁকে তাড়া করে বেড়ায়। শ্বেতার সেই অতীত হঠাৎ করে এক রোগী জেনে যাওয়ায় তাঁর জীবনে নেমে আসে ভয়াবহ পরিণতি।
ছবিতে আরও অভিনয় করেছেন কৌশিক সেন, অনসূয়া মজুমদার ও কনীনিকা বন্দ্যোপাধ্যায়। এই সিনেমার মাধ্যমেই ছোট পর্দার জনপ্রিয় শিশু অভিনেত্রী ‘ভূতু’ খ্যাত আর্শিয়া মুখোপাধ্যায় বড় পর্দায় অভিষেক করতে যাচ্ছেন।