
ফাইল ছবি
আন্তর্জাতিক মানবিক আইন ও মানবাধিকারবিষয়ক জেনেভা অ্যাকাডেমির প্রধান স্টুয়ার্ট কেসি ম্যাসলেন সতর্ক করে বলেছেন, গাজায় মৃত্যুর সংখ্যা দুই লাখ ছাড়িয়ে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। তাঁর মতে, ২০২৩ সালের অক্টোবর পর্যন্ত গাজার মোট জনসংখ্যা ১০ শতাংশের বেশি কমে যাওয়ার যে তথ্য পাওয়া গেছে, তা ভয়াবহ এই ইঙ্গিতই দেয়—যার অর্থ প্রায় দুই লাখ মানুষের প্রাণহানি ঘটতে পারে।
তুরস্কের সংবাদ সংস্থা আনাদোলুকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ম্যাসলেন জানান, জেনেভা অ্যাকাডেমির ‘ওয়ার ওয়াচ’ শীর্ষক প্রতিবেদনে গাজাসহ গত ১৮ মাসে বিশ্বের বিভিন্ন অঞ্চলে সংঘটিত ২৩টি সশস্ত্র সংঘাতের পরিস্থিতি বিশ্লেষণ করা হয়েছে। তিনি গাজার বর্তমান পরিস্থিতিকে ‘নাটকীয় ও অত্যন্ত উদ্বেগজনক’ বলে আখ্যা দেন।
ম্যাসলেন বলেন, আগের বছরের মতো এখন গাজায় ভারী সামরিক সংঘর্ষ দেখা যাচ্ছে না, যা কিছুটা স্বস্তির বিষয়। তবে এর অর্থ এই নয় যে গাজার মানুষের দুর্ভোগ শেষ হয়ে গেছে। পুরো জনগোষ্ঠীই এখনও চরম সংকটের মধ্যে রয়েছে এবং এ নিয়ে গভীর উদ্বেগের কোনো ঘাটতি নেই।
বিশেষ করে আহতদের পরিস্থিতি তুলে ধরে তিনি বলেন, যেসব মানুষকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নিয়ে জরুরি ও যথাযথ চিকিৎসা দেওয়া প্রয়োজন, তারা তা পাচ্ছেন না। চিকিৎসার অভাবে মানুষ এখনও গাজায় মারা যাচ্ছে, যা মানবিক বিপর্যয়কে আরও তীব্র করে তুলছে।
গাজার জনগণের জন্য আরও ব্যাপক মানবিক সহায়তার প্রয়োজনীয়তার ওপর জোর দিয়ে ম্যাসলেন বলেন, শুধু খাদ্য ও পানি নয়, বরং নিরাপদ আশ্রয়, শীতের কঠোর আবহাওয়া থেকে সুরক্ষা এবং পর্যাপ্ত চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করা এখন সবচেয়ে জরুরি। তিনি সতর্ক করে বলেন, এসব সহায়তা দ্রুত ও পর্যাপ্তভাবে না পৌঁছালে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ রূপ নিতে পারে।