
ছবি: সংগৃহীত
মালয়েশিয়ার সেলাঙ্গর ও সাবাহ রাজ্যে পৃথক অভিযান চালিয়ে বাংলাদেশিসহ ৭৭ জন অবৈধ প্রবাসীকে আটক করেছে দেশটির ইমিগ্রেশন বিভাগ। পাম অয়েল বাগানে গোপন গুদাম পরিচালনা এবং অভিবাসন আইন লঙ্ঘনের অভিযোগে তাদের গ্রেফতার করা হয়।
সেলাঙ্গর রাজ্যের তেলোক পাংলিমা গারাং এলাকার একটি পাম অয়েল বাগানে দুর্গম পরিবেশে একটি গোপন গুদাম পরিচালনা করছিল একটি চক্র। সেখানে চীন থেকে আমদানিকৃত পণ্য প্রক্রিয়াজাত ও মোড়কজাত করে অনলাইন অ্যাপের মাধ্যমে গ্রাহকদের কাছে পাঠানো হতো। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নজর এড়াতে বাগানটির ভেতরে কোনো সাইনবোর্ড ছাড়াই গত ছয় মাস ধরে এই কার্যক্রম চলছিল।
গত বুধবার পরিচালিত এই অভিযানে ২৪ জনকে আটক করা হয়। আটককৃতদের মধ্যে ৯ জন বাংলাদেশি, চীনের ২ জন, ভারতের ২ জন, মিয়ানমারের ১০ জন এবং কম্বোডিয়ার ১ জন নাগরিক রয়েছেন। ইমিগ্রেশন মহাপরিচালক দাতুক জাকারিয়া শাবান জানান, আটক বাংলাদেশিদের মধ্যে দুজন নির্ধারিত সময়ের বেশি (ওভারস্টে) দেশটিতে অবস্থান করছিলেন এবং বাকিদের কাছে কোনো বৈধ ভ্রমণ নথি ছিল না। অভিযানকালে একটি মার্সিডিজ বেঞ্জ গাড়ি এবং বাংলাদেশসহ বিভিন্ন দেশের পাসপোর্ট জব্দ করা হয়েছে।
এদিকে ২ ও ৩ ফেব্রুয়ারি সাবাহ রাজ্যের কোটা কিনাবালু ও তুয়ারান এলাকায় পরিচালিত দুই দিনব্যাপী অভিযানে আরও ৫৩ জন অবৈধ প্রবাসীকে আটক করা হয়েছে। ‘অপস কুটিপ’ ও ‘অপস সাপু’ নামক এই অভিযানে মোট ১৭৭ জনকে তল্লাশি করা হয়। আটককৃতদের সবাই ফিলিপাইনের নাগরিক, যার মধ্যে ২৪ জন পুরুষ ও ২৯ জন নারী রয়েছেন। তাদের বিরুদ্ধে বৈধ কাগজপত্র ছাড়া দেশটিতে অবস্থানের অভিযোগ আনা হয়েছে।
আটক প্রবাসীদের পুত্রাজায়া ইমিগ্রেশন অফিস ও সংশ্লিষ্ট ডিপোতে স্থানান্তর করা হয়েছে। তাদের বিরুদ্ধে ইমিগ্রেশন আইন ১৯৫৯/৬৩ এবং ইমিগ্রেশন বিধিমালা ১৯৬৩-এর বিভিন্ন ধারায় তদন্ত চলছে। পাশাপাশি তদন্তে সহায়তার জন্য কয়েকজন স্থানীয় নাগরিককেও নোটিশ দেওয়া হয়েছে।
মালয়েশিয়া ইমিগ্রেশন বিভাগ জানিয়েছে, দেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষা এবং জননিরাপত্তা নিশ্চিত করতে অবৈধ অভিবাসীদের বিরুদ্ধে এই ধরনের সমন্বিত অভিযান নিয়মিত অব্যাহত থাকবে।