
সংগৃহীত ছবি
দীর্ঘ ৫ বছর পর সৌদি আরব থেকে নিজ গ্রামে ফিরে এসেছেন প্রবাসী মাকসুদ আখঞ্জি। তবে তার এই ফেরা ছিল বিশেষ আড়ম্বরপূর্ণ—সাথে নিয়ে এসেছেন তার সৌদি নিয়োগকর্তা (কফিল) মিশাল আমি য়ামীকে। শনিবার (৬ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে ঢাকা থেকে হেলিকপ্টারে চড়ে সুনামগঞ্জের তাহিরপুর উপজেলার বালিজুরি ইউনিয়নের রামনগর গ্রামে পৌঁছান তারা।
স্থানীয়রা জানিয়েছেন, দুপুর ১টার দিকে উপজেলার রাজনগর গ্রাম সংলগ্ন মাঠে হেলিকপ্টার অবতরণ করে। খবর ছড়িয়ে পড়ার সঙ্গে সঙ্গে সকাল থেকে মাঠে লোকজনের ভিড় জমতে থাকে। হেলিকপ্টার থেকে নামার পরপরই স্থানীয়রা উল্লাসে ফেটে পড়েন। মাকসুদের বাবা শাহ আলম আখঞ্জিসহ গ্রামবাসীরা সৌদি নাগরিক মিশাল আমি য়ামীকে ফুলেল শুভেচ্ছা দিয়ে বরণ করেন।
মাকসুদ আখঞ্জি জানান, গত ৫ বছর ধরে তিনি সৌদি আরবের রিয়াদ শহরে মিশাল আমি য়ামীর মালিকানাধীন ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে কর্মরত ছিলেন। সততা ও কর্মদক্ষতার কারণে তিনি কফিলের আস্থাভাজন হয়ে ওঠেন। মাকসুদ বলেন, আমার কফিল খুব ভ্রমণপিপাসু। সে প্রায়ই বলতেন, তার দেশ দেখতে যাবেন। তার সম্মানে হেলিকপ্টার ভাড়া করে গ্রামে নিয়ে আসা হয়েছে। এতে পরিবার ও গ্রামের মানুষ খুব খুশি।
প্রথমবার বাংলাদেশে আসা কফিল মিশাল আমি য়ামী বলেন, মাকসুদ অত্যন্ত ভালো ছেলে। সে আমার ব্যবসা দেখাশোনা করে। বাংলাদেশ খুব সুন্দর দেশ। আমি এখান থেকে মাকসুদের মতো আরও পরিশ্রমী ও সৎ শ্রমিক নিতে চাই। এ সময় তিনি বারবার ‘মাশাআল্লাহ’ বলে বাংলাদেশের প্রশংসা করেন।
স্থানীয় বাসিন্দা মশিউর রহমান বলেন, মাকসুদ আমাদের এলাকার গর্ব। বিদেশে মালিকের সঙ্গে এমন সুসম্পর্ক দেশের ভাবমূর্তি উজ্জ্বল করে। প্রতিটি প্রবাসীর উচিত মাকসুদের মতো সততার পরিচয় দেওয়া।
পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, মিশাল আমি য়ামী এক সপ্তাহ মাকসুদের বাড়িতে থাকবেন এবং বাংলাদেশের বিভিন্ন দর্শনীয় স্থান ঘুরে দেখবেন। সফরের শেষে তারা পুনরায় একসাথে সৌদি আরবে ফিরবেন।