
বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান বলেছেন, বাংলাদেশের ইতিহাসের বিভিন্ন গণ-আন্দোলন ও সংগ্রামে যারা জীবন উৎসর্গ করেছেন, তাদের আত্মত্যাগ ন্যায়ভিত্তিক ও গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার মাধ্যমেই প্রকৃতভাবে সম্মান জানানো সম্ভব।
সোমবার সন্ধ্যা ৭টা ১৫ মিনিটে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট–২০২৬ উপলক্ষে জাতির উদ্দেশে দেওয়া ভাষণে তিনি এসব কথা বলেন। ভাষণটি বাংলাদেশ টেলিভিশনে সরাসরি সম্প্রচার করা হয়।
তারেক রহমান বলেন, ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধ থেকে শুরু করে ৭ নভেম্বরের আধিপত্যবাদবিরোধী আন্দোলন, নব্বইয়ের স্বৈরাচারবিরোধী গণ-আন্দোলন, শাপলা চত্বরের হত্যাকাণ্ড এবং সর্বশেষ ২০২৪ সালের স্বাধীনতা রক্ষার সংগ্রাম—ইতিহাসের প্রতিটি পর্যায়ে অসংখ্য মানুষ দেশের জন্য জীবন দিয়েছেন।
তিনি বলেন, একটি প্রাণ হারানোর মধ্য দিয়ে একটি পরিবারের স্বপ্ন, আশা ও সম্ভাবনার অবসান ঘটে, যার পূর্ণ প্রতিদান কোনোভাবেই সম্ভব নয়। তবে শহীদদের আকাঙ্ক্ষিত বাংলাদেশ গড়ে তোলাই বর্তমান প্রজন্মের দায়িত্ব।
ন্যায়ভিত্তিক, মানবিক ও জবাবদিহিমূলক রাষ্ট্র গঠনের ওপর গুরুত্ব দিয়ে তিনি বলেন, গণতন্ত্র, মানবাধিকার ও আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা ছাড়া শহীদদের আত্মত্যাগের মর্যাদা রক্ষা করা যাবে না।
ভাষণে নারীদের ভূমিকার ওপর জোর দিয়ে তারেক রহমান জানান, বিএনপি রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব পেলে প্রথমবারের মতো দেশে প্রতিটি পরিবারের জন্য ‘ফ্যামিলি কার্ড’ চালু করা হবে, যা পরিবারের নারী প্রধানের নামে ইস্যু করা হবে। প্রথম পর্যায়ে প্রান্তিক ও নিম্নআয়ের পরিবারকে মাসে আড়াই হাজার টাকা অথবা সমমূল্যের নিত্যপ্রয়োজনীয় খাদ্য সহায়তা দেওয়া হবে এবং ধাপে ধাপে এই সহায়তা বাড়ানো হবে বলে তিনি জানান।
তিনি আরও বলেন, দেশে প্রায় ৪০ লাখ প্রতিবন্ধী মানুষের কল্যাণে বিশেষ পরিকল্পনা রয়েছে এবং তাদের প্রতি রাষ্ট্রের বিশেষ দায়িত্ব রয়েছে।
এ ছাড়া দেশের প্রায় দুই লাখ মসজিদের ইমাম, খতিব ও মুয়াজ্জিনসহ বিভিন্ন ধর্মের ধর্মীয় নেতাদের জন্য রাষ্ট্রীয়ভাবে আর্থিক সহায়তা নিশ্চিত করার প্রতিশ্রুতিও দেন বিএনপি চেয়ারম্যান।