
রাজধানীর শেরেবাংলা নগরের জিয়া উদ্যানে মা-বাবার কবর জিয়ারত করেন তারেক রহমান। ছবি: সংগৃহীত
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে টানা ১৯ দিনের নির্বাচনি প্রচারণা শেষ করেছেন বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান। প্রচার কার্যক্রম শেষ করে ঘরে ফেরার আগে তিনি বাবা শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ও মা সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার কবর জিয়ারত করেন।
সোমবার (৯ ফেব্রুয়ারি) রাতে রাজধানীর শেরেবাংলা নগরের জিয়া উদ্যানে দলীয় নেতাকর্মীদের সঙ্গে নিয়ে কবরের পাশে দাঁড়িয়ে দোয়া ও মোনাজাতে অংশ নেন তারেক রহমান। এর আগে একই দিনে ঢাকার আটটি স্থানে নির্বাচনি জনসভায় বক্তব্য দেন তিনি।
নির্বাচন কমিশনের ঘোষিত তফশিল অনুযায়ী ২২ জানুয়ারি থেকে শুরু হওয়া এই প্রচারণায় বিএনপি চেয়ারম্যান দেশের বিভাগীয় শহর থেকে শুরু করে প্রত্যন্ত জনপদ পর্যন্ত সফর করেন। ১৯ দিনের এ কর্মসূচিতে তিনি মোট ৪৩টি জনসভা ও পথসভায় অংশ নেন। প্রতিটি সভায় ধানের শীষে ভোট চাওয়ার পাশাপাশি বিএনপির রাষ্ট্রচিন্তা, উন্নয়ন পরিকল্পনা ও রাজনৈতিক অঙ্গীকার তুলে ধরেন তিনি।
প্রচারণার শুরু হয় সিলেট থেকে। ২১ জানুয়ারি রাতে ঢাকা থেকে সিলেটে পৌঁছে হজরত শাহজালাল (রহ.) ও শাহপরান (রহ.)-এর মাজার জিয়ারত করেন তারেক রহমান। এ সময় বিমানবন্দর থেকে মাজার পর্যন্ত সড়কের দু’পাশে হাজারো মানুষ জড়ো হয়। বাসের ভেতর থেকে হাত নেড়ে তিনি উপস্থিত জনতার সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময় করেন।
পরদিন সকালে তরুণদের সঙ্গে ‘দ্য প্ল্যান: ইয়ুথ পলিসি টক’-এ অংশ নেন তিনি। এরপর আলিয়া মাদ্রাসা মাঠে প্রথম জনসভায় বক্তব্য রেখে বিএনপি ক্ষমতায় এলে মহানবী (সা.)-এর আদর্শে দেশ পরিচালনা এবং ঢাকা–সিলেট মহাসড়কের কাজ দ্রুত শেষ করার ঘোষণা দেন।
একই দিনে মৌলভীবাজার, হবিগঞ্জ, ব্রাহ্মণবাড়িয়া, কিশোরগঞ্জ, নরসিংদী ও নারায়ণগঞ্জে জনসভা করেন বিএনপি চেয়ারম্যান। পরদিন রাজধানীর ভাষানটেক বিআরবি মাঠে ঢাকা-১৭ আসনের নির্বাচনি সমাবেশে বক্তব্য দেন তিনি। মাঝপথে শারীরিক অসুস্থতায় কিছুটা ধীরতা এলেও ২৫ জানুয়ারি চট্টগ্রামের পলোগ্রাউন্ডে জনসভায় ফের কড়া রাজনৈতিক বার্তা দেন তারেক রহমান।
চট্টগ্রামের জনসভায় দুর্নীতির বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান, আইনশৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণ, শ্রমজীবী মানুষের নিরাপত্তা এবং সারাদেশে খাল খননের ঘোষণা দেন তিনি। এরপর ঢাকায় ফেরার পথে ফেনী, কুমিল্লা ও নারায়ণগঞ্জে জনসভা করেন এবং পরে ময়মনসিংহ, গাজীপুর ও উত্তরা হয়ে উত্তরাঞ্চলের রাজশাহী, নওগাঁ ও বগুড়া সফর করেন।
দীর্ঘ নির্বাসনের পর প্রথমবার পৈতৃক জেলা বগুড়ায় রাত কাটান বিএনপি চেয়ারম্যান, যা রাজনৈতিক সফরের পাশাপাশি ব্যক্তিগত আবেগেরও বহিঃপ্রকাশ ছিল। রংপুরে জুলাই বিপ্লবের শহীদ আবু সাঈদের কবর জিয়ারত ও তার পরিবারের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন তিনি। এরপর সিরাজগঞ্জ ও টাঙ্গাইল হয়ে খুলনা ও যশোর সফর করেন।
বরিশালে হেলিকপ্টারে পৌঁছে জনসভায় অংশ নেন তারেক রহমান। ফরিদপুরে বিভাগ ঘোষণা ও পদ্মা ব্যারেজ নির্মাণের প্রতিশ্রুতি দেন তিনি। পাশাপাশি ঠাকুরগাঁওয়ে বিমানবন্দর, মেডিকেল কলেজ, বিশ্ববিদ্যালয় ও ক্যাডেট কলেজ স্থাপন এবং তিস্তা মহাপরিকল্পনা দ্রুত বাস্তবায়নের আশ্বাস দেন।
ঢাকার উন্নয়ন প্রসঙ্গে তিনি ৪০টি খেলার মাঠ, প্রশস্ত সড়ক ও নিরাপদ নগর গড়ার অঙ্গীকার করেন। প্রতিটি জনসভায় বক্তব্যের শেষাংশে তারেক রহমানের কণ্ঠে ছিল একই আহ্বান—‘সবার আগে বাংলাদেশ’।
রোববার ও সোমবার রাজধানীর ১৫টি আসনে ধারাবাহিক জনসভা করেন বিএনপি চেয়ারম্যান। মিরপুর, পল্লবী, তেজগাঁও, বাড্ডা, যাত্রাবাড়ী ও লালবাগসহ বিভিন্ন এলাকায় প্রচার চালান তিনি। বনানীর কামাল আতাতুর্ক এভিনিউ মাঠে শেষ জনসভা অনুষ্ঠিত হওয়ার মধ্য দিয়ে শেষ হয় নির্বাচনি প্রচারণা।
এরপর আর কোনো মাইক কিংবা স্লোগান নয়। নির্বাচনি প্রচারণার সমাপ্তি টেনে তারেক রহমান যান মা ও বাবার কবর জিয়ারতে। হজরত শাহজালাল (রহ.)-এর মাজার জিয়ারতের মধ্য দিয়ে শুরু হওয়া এই পথচলা শেষ হয় মা–বাবার কবর জিয়ারত করে ঘরে ফেরার মধ্য দিয়ে।
বিএনপি চেয়ারম্যানের এই ১৯ দিনের প্রচারণায় রাজনৈতিক বার্তার পাশাপাশি জায়গা করে নেয় স্মৃতি, প্রতিশ্রুতি ও আবেগ। এখন অপেক্ষা ভোটের রায়ের।