আগামীকাল অনুষ্ঠিতব্য নির্বাচনে ঢাকা-১৭ আসনে বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমানের পক্ষে নির্বাচনী প্রচারণায় নেমে এক অনন্য অভিজ্ঞতার মুখোমুখি হয়েছেন জনপ্রিয় সংগীতশিল্পী রবি চৌধুরী। মঙ্গলবার দুপুরে রাজধানীর গুলশান-বনানী এলাকায় বিএনপিপন্থী একঝাঁক শিল্পীর সঙ্গে গণসংযোগে অংশ নেন তিনি। যেখানে আরও উপস্থিত ছিলেন অভিনেত্রী রিনা খান, সংগীতশিল্পী মনির খান, চিত্রনায়িকা সিমলা ও অভিনেতা শাহেদ শরীফ খান।
প্রচারণাকালে শিল্পীরা ধানের শীষের জন্য ভোট ও দোয়া চাইলেও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে রবি চৌধুরীর রাজনৈতিক অবস্থান নিয়ে ওঠা নানা প্রশ্নে রীতিমতো আক্ষেপ প্রকাশ করেছেন তিনি।
সম্প্রতি ফেসবুকসহ বিভিন্ন মাধ্যমে রবি চৌধুরীর অতীতে নৌকার পক্ষে ভোট চাওয়ার ছবি ও ভিডিও ভাইরাল হওয়ায় তাকে ‘দালাল’ বলে কটাক্ষ করা হচ্ছে। এই অভিযোগের কড়া জবাব দিয়ে রবি চৌধুরী বলেন, তিনি কোনো রাজনৈতিক দলের দালাল নন বরং একজন পেশাদার শিল্পী। তিনি স্পষ্ট করে জানান, কণ্ঠশিল্পী মমতাজের আমন্ত্রণে এবং একজন সহশিল্পীর অনুরোধে তিনি ভোট চেয়েছিলেন। রবি চৌধুরীর ভাষ্যমতে, যেখানে পারিশ্রমিক ও সম্মান মিলবে, একজন শিল্পী হিসেবে সেখানে গান গাওয়া বা পারফরম্যান্স করা তার পেশাগত দায়িত্ব। তবে ব্যক্তিগতভাবে তিনি সবসময়ই জাতীয়তাবাদী আদর্শের প্রতি শ্রদ্ধাশীল এবং সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার সফরসঙ্গী হিসেবে মিয়ানমারে পারফর্ম করার স্মৃতিও তিনি স্মরণ করেন।
তারেক রহমানের সঙ্গে ব্যক্তিগত জানাশোনার কথা উল্লেখ করে রবি চৌধুরী বলেন, মানুষ রাজনীতি করে সুযোগ-সুবিধা বা পদ-পদবির জন্য, কিন্তু তার এমন কোনো লোভ নেই। বিএনপির শাসনামল কিংবা বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের আমল—কোনো সময় থেকেই তিনি কোনো বৈষয়িক সুবিধা নেননি। বর্তমান প্রেক্ষাপটে কেবল ‘দেশ বাঁচানোর তাগিদে’ তিনি ধানের শীষের প্রচারণায় নেমেছেন।
আওয়ামী লীগ নেতাদের সঙ্গে তার ছবি নিয়ে যে চর্চা হচ্ছে, সে প্রসঙ্গে তিনি বলেন, দেশের প্রধানমন্ত্রী যখন কোনো শিল্পীকে আমন্ত্রণ জানান, সেখানে যাওয়াটা রাষ্ট্রের প্রতি সম্মান প্রদর্শনের শামিল। এটাকে কোনো রাজনৈতিক রং চড়ানো ঠিক নয়।
মমতাজের সঙ্গে সম্পর্কের গভীরতা তুলে ধরে রবি চৌধুরী জানান, শিল্পী সমাজ একটি পরিবারের মতো। মমতাজের বাসায় মনির খান, ওমর সানি, অপু বিশ্বাসসহ অনেকেই আড্ডা দিতেন। সেই বন্ধুত্বের খাতিরেই তিনি মমতাজের হয়ে প্রচারণায় অংশ নিয়েছিলেন।
তবে বর্তমানে তিনি চান জাতীয়তাবাদী দল জয়ী হোক। তিনি মনে করেন, শিল্পীদের একটি রাজনৈতিক মতাদর্শ থাকতে পারে কিন্তু সরকারের উচিত শিল্পীর শিল্পকর্মকে প্রাধান্য দেওয়া। ভিউ-ব্যবসায়ীরা যেন ছবি বিকৃত করে বা বিভ্রান্তি ছড়িয়ে শিল্পীদের অসম্মান না করেন, সেই আহ্বানও জানান এই গুণী শিল্পী।