
আগামীকাল অনুষ্ঠিতব্য ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটে স্বচ্ছতা বজায় রাখতে এবং জনমনে বিভ্রান্তি দূর করতে এক নতুন নির্দেশনা জারি করেছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। বুধবার (১১ ফেব্রুয়ারি) ইসির সিনিয়র সহকারী সচিব মো. শহিদুল ইসলাম স্বাক্ষরিত এক চিঠিতে জানানো হয়, ভোটগ্রহণের দিন নির্দিষ্ট সময় পরপর চার ধাপে সংগৃহীত ভোটের তথ্য বা শতাংশ পাঠাতে হবে। মাঠ পর্যায়ের সব রিটার্নিং ও সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তাদের এই নির্দেশনা কঠোরভাবে মেনে চলার আদেশ দেওয়া হয়েছে।
কমিশনের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, সকাল ১০টা, দুপুর ১২টা, দুপুর ২টা এবং ভোটগ্রহণ শেষে প্রিজাইডিং অফিসারের কাছ থেকে প্রাপ্ত চূড়ান্ত পরিসংখ্যান সংগ্রহ করে দ্রুততার সঙ্গে আপডেট করতে হবে।
নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, প্রতিটি কেন্দ্রের সহকারী রিটার্নিং অফিসারের কার্যালয়ে নিয়োজিত ডাটা এন্ট্রি অপারেটররা তাদের নির্দিষ্ট ইউজার আইডি ব্যবহার করে আরএমএস (RMS) সিস্টেমে এই তথ্যগুলো এন্ট্রি করবেন। রিটার্নিং ও সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তারা নিজস্ব ড্যাশবোর্ডের মাধ্যমে এই তথ্যগুলো সার্বক্ষণিক মনিটর করবেন।
তবে এবারের নির্বাচনে বিশেষ সতর্কতা হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে যে, নির্বাচন কমিশনের পাশাপাশি প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয় থেকেও এই তথ্য ও পরিসংখ্যান সরাসরি পর্যবেক্ষণ করা হবে। তাই তথ্যের নির্ভুলতা এবং সময়ানুবর্তিতার ওপর সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।
ভোটের হার গণনার ক্ষেত্রেও ইসি নির্দিষ্ট নিয়ম বেঁধে দিয়েছে। প্রতিটি ধাপে তথ্য সংগ্রহের সময় অবশ্যই ব্যালট পেপারের মুড়ি গণনা করে প্রকৃত ভোটের সংখ্যা নিশ্চিত করতে হবে। ভোটগ্রহণ শুরু থেকে রিপোর্টিং সময় পর্যন্ত কতটি ভোট সংগৃহীত হয়েছে, তার সঠিক হিসাব শুদ্ধভাবে এন্ট্রি করার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের বিশেষভাবে অনুরোধ জানানো হয়েছে।
নির্বাচন কমিশনের এই ডিজিটাল মনিটরিং ব্যবস্থার ফলে এবারের নির্বাচনে ভোট কারচুপি বা তথ্যের হেরফের রোধ করা সম্ভব হবে বলে আশা করা হচ্ছে।