ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটকে ঘিরে নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এবার আকাশপথে নজিরবিহীন নজরদারি চালানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে নির্বাচন কমিশন। বুধবার (১১ ফেব্রুয়ারি) নির্বাচন ভবনে স্থাপিত কেন্দ্রীয় মনিটরিং সেল থেকে জানানো হয়েছে, নির্বাচনের দিন ভোটের মাঠ ও সার্বিক পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণে মোতায়েন করা হয়েছে অত্যাধুনিক মানুষবিহীন আকাশযান বা ইউএভি (আনম্যানড অ্যারিয়াল ভেহিকল)।
বাংলাদেশ বিমানবাহিনীর সরাসরি তত্ত্বাবধানে এই ইউএভিগুলো দেশের আকাশসীমার মধ্যে সার্বক্ষণিক নজরদারি চালাবে। আকাশ থেকে ভূমিতে থাকা যেকোনো ধরনের সন্দেহজনক গতিবিধি পর্যবেক্ষণ করে এই প্রযুক্তি দ্রুততম সময়ে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে পরিস্থিতি মোকাবিলায় প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা দিতে সক্ষম।
বিমানবাহিনী প্রধানের সরাসরি নির্দেশনায় এই বিশেষ তদারকি কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে। বাহিনীর পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, নির্বাচনকালীন নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সারাদেশে ৩ হাজার ৭৩০ জন বিমানবাহিনীর সদস্য বর্তমানে নিয়োজিত রয়েছেন। সার্বিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি মনিটরিংয়ের জন্য হেলিকপ্টার ও পরিবহন বিমানের পাশাপাশি আইএসআর (ISR) রোলে একাধিক ইউএভি মোতায়েন করা হয়েছে। এই ইউএভিগুলো মূলত বাংলাদেশের আকাশসীমা রক্ষার কৌশলগত সম্পদ, যা বর্তমান বিশেষ পরিস্থিতিতে নির্বাচনী এলাকায় নিবিড় পর্যবেক্ষণ চালাচ্ছে। এর ফলে দেশের যেকোনো প্রান্তের পরিস্থিতি সরাসরি আকাশ থেকে নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব হবে।
নির্বাচন কমিশন থেকে ইতিমধ্যে বিমানবাহিনীকে একটি বিশেষ নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। সেখানে বলা হয়েছে, ইউএভি থেকে ধারণকৃত ভোটের মাঠের লাইভ ফিড বা সরাসরি চিত্র কেন্দ্রীয় মনিটরিং সেল এবং প্রধান উপদেষ্টার দপ্তরে রিয়েল টাইমে প্রদর্শনের ব্যবস্থা করতে হবে। এর ফলে নীতিনির্ধারকরা ঘরে বসেই যেকোনো আসনের কেন্দ্রগুলোর পরিস্থিতি সরাসরি পর্যবেক্ষণ করতে পারবেন।
প্রযুক্তির এমন সর্বোচ্চ ব্যবহার নির্বাচনী এলাকায় যেকোনো ধরনের নাশকতা বা বিশৃঙ্খলা প্রতিরোধে এবং ভোটারদের মনে স্বস্তি ফেরাতে বড় ধরনের ভূমিকা রাখবে বলে আশা করা হচ্ছে।