
বিভিন্ন ভোটকেন্দ্রে ষড়যন্ত্রের মাধ্যমে ফলাফল পরিবর্তন করা হচ্ছে—এমন অভিযোগ তুলেছে ন্যাশনাল সিটিজেন পার্টি (এনসিপি)। দলটি সংশ্লিষ্ট আসনগুলোতে ভোট পুনর্গণনার দাবি জানিয়েছে।
বৃহস্পতিবার দিবাগত রাত ২টা ২০ মিনিটে রাজধানীর বাংলামোটর এলাকায় দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব অভিযোগ তুলে ধরেন এনসিপির মুখপাত্র ও নির্বাচন পরিচালনা কমিটির চেয়ারম্যান আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া।
সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, যেসব আসনে ১১ দলীয় জোটের প্রার্থীরা এগিয়ে রয়েছেন, সেসব আসনে তাঁদের পরাজিত করতে ফলাফল টেম্পারিং করা হচ্ছে। তাঁর দাবি, কেন্দ্র থেকে এক ধরনের ফল আসলেও রিটার্নিং কর্মকর্তার দপ্তর থেকে ভিন্ন ফল প্রকাশ করা হচ্ছে—এ সংক্রান্ত প্রমাণ এনসিপির হাতে রয়েছে।
ঢাকার কয়েকটি আসনে পূর্ণাঙ্গ ফল ঘোষণার আগেই বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল-এর প্রার্থীদের নিজেদের বিজয়ী ঘোষণা করাকে ‘মানসিক চাপ তৈরির চেষ্টা’ বলেও মন্তব্য করেন আসিফ মাহমুদ। তিনি অভিযোগ করেন, বেসরকারি ফলাফলে এনসিপির প্রার্থী এগিয়ে থাকা সত্ত্বেও কিছু স্থানে ইচ্ছাকৃতভাবে মব সৃষ্টি করা হয়েছে।
সংবাদ সম্মেলনে আরও বলা হয়, শাপলা কলি প্রতীকের এক প্রার্থী বিএনপির প্রার্থীর চেয়ে বেশি ভোট পেলেও সংশ্লিষ্ট রিটার্নিং কর্মকর্তা উল্টো ফল ঘোষণা করেছেন।
ঢাকা-৮ আসনের প্রসঙ্গ টেনে এনসিপির এই নেতা অভিযোগ করেন, বাতিল হিসেবে গণ্য হওয়ার কথা থাকলেও কিছু ব্যালট পেপার ধানের শীষ প্রতীকের পক্ষে গণনা করা হয়েছে। তাঁর দাবি, ব্যালট পেপারে সঠিক স্থানে সিল না থাকলেও সেগুলো গণনায় যুক্ত করে বিএনপি প্রার্থী **মির্জা আব্বাস উদ্দিন আহমেদ**কে জয়ী করার চেষ্টা চলছে। এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সঙ্গে যোগাযোগ করলে তাঁরা পরস্পরের ওপর দায় চাপাচ্ছেন বলেও অভিযোগ করেন তিনি।
এ ছাড়া বিভিন্ন কেন্দ্রে ফলাফল ঘোষণায় অস্বাভাবিক বিলম্ব নিয়েও প্রশ্ন তোলেন এনসিপির মুখপাত্র। উত্থাপিত সব অভিযোগ গুরুত্বের সঙ্গে আমলে নিয়ে তদন্ত করার আহ্বান জানিয়ে তিনি সংশ্লিষ্ট আসনগুলোতে ভোট পুনর্গণনা করে পুনরায় ফল প্রকাশের দাবি জানান।
একই সঙ্গে, সুনির্দিষ্ট তথ্য যাচাই ও প্রকাশের আগে কোনো আসনের ফল চূড়ান্ত না করার আহ্বানও জানিয়েছে এনসিপি।