
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আনুষ্ঠানিক ফলাফল ঘোষণা করেছে বাংলাদেশ নির্বাচন কমিশন (ইসি)। শুক্রবার মোট ২৯৭টি আসনের ফল প্রকাশ করা হয়। চট্টগ্রাম-২ ও চট্টগ্রাম-৪ আসনের ফলাফল আপাতত স্থগিত রাখা হয়েছে বলে জানিয়েছে কমিশন।
শুক্রবার আগারগাঁওয়ের নির্বাচন কমিশন সচিবালয়ে ফলাফল ঘোষণার সমাপনী বক্তব্যে ইসি সচিব আখতার আহমেদ এসব তথ্য জানান।
ঘোষিত ২৯৭ আসনের মধ্যে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) ও তাদের জোট পেয়েছে ২১২টি আসন।
বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় নির্বাচনী ঐক্য পেয়েছে ৭৭টি আসন। ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ পেয়েছে ১টি আসন এবং স্বতন্ত্র প্রার্থীরা পেয়েছেন ৭টি আসন।
দলভিত্তিক হিসাবে- বিএনপি এককভাবে পেয়েছে ২০৯টি আসন, জামায়াতে ইসলামী পেয়েছে ৬৮টি আসন, জাতীয় নাগরিক পার্টি পেয়েছে ৬টি আসন, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস পেয়েছে ২টি আসন, খেলাফত মজলিস পেয়েছে ১টি আসন, বাংলাদেশ জাতীয় পার্টি–বিজেপি পেয়েছে ১টি আসন, গণসংহতি আন্দোলন পেয়েছে ১টি আসন এবং গণঅধিকার পরিষদ পেয়েছে ১টি আসন।
এই ফলাফলে নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে সরকার গঠনের পথে বিএনপি। কার্যক্রম নিষিদ্ধ থাকা বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ অংশ না নেওয়া ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জয়ী হয়ে প্রায় দুই দশক পর ক্ষমতায় ফিরছে দলটি।
এবারের নির্বাচনে গণভোটে মোট ভোট পড়েছে ৬০ দশমিক ২৬ শতাংশ। এর মধ্যে ‘হ্যাঁ’ ভোট পড়েছে ৪ কোটি ৮০ লাখ ৭৪ হাজার ৪২৯টি এবং ‘না’ ভোট পড়েছে ২ কোটি ২৫ লাখ ৬৫ হাজার ৬২৭টি।
এদিকে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সারাদেশে ২৯৯টি আসনে গড় ভোটের হার ৫৯ দশমিক ৪৪ শতাংশ বলে জানিয়েছে নির্বাচন কমিশন। শুক্রবার দুপুরে ইসির জনসংযোগ পরিচালক রুহুল আমিন মল্লিক বলেন, কেন্দ্রগুলো থেকে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে এই হার নির্ধারণ করা হয়েছে। এখনো কিছু বিচ্ছিন্ন কেন্দ্রের চূড়ান্ত হিসাব আসা বাকি থাকলেও সামগ্রিক ভোটের হার প্রায় ৫৯.৪৪ শতাংশেই স্থিতিশীল রয়েছে।
এর আগে গত ১১ ডিসেম্বর জাতির উদ্দেশে ভাষণ দিয়ে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন এবং জুলাই সনদ বাস্তবায়নে গণভোটের তপশিল ঘোষণা করেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার এ এম এম নাসির উদ্দিন।
৩০০ আসনের তপশিল ঘোষণা করা হলেও জামায়াত প্রার্থী নুরুজ্জামান বাদলের মৃত্যুর কারণে শেরপুর-৩ আসনের নির্বাচন স্থগিত করা হয়। ফলে ২৯৯টি আসনে ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়।
নির্বাচনে ইসির নিবন্ধিত ৬০টি রাজনৈতিক দলের মধ্যে ৫০টি দল অংশ নেয়। ২৯৯টি আসনে মোট প্রার্থী ছিলেন ২ হাজার ২৮ জন। এর মধ্যে দলীয় প্রার্থী ১ হাজার ৭৫৫ জন এবং স্বতন্ত্র প্রার্থী ২৭৩ জন। নারী প্রার্থী ছিলেন ৮৩ জন।