
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ভোট গণনায় অনিয়ম ও ফল কারচুপির অভিযোগ তুলেছে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)। শুক্রবার রাত পৌনে ১১টার দিকে জরুরি সংবাদ সম্মেলনে এ অভিযোগ করেন দলটির মুখপাত্র ও কেন্দ্রীয় নির্বাচন পরিচালনা কমিটির প্রধান অফিস মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া।
তিনি জানান, এবারের নির্বাচনে এনসিপি জোটগতভাবে ৩০টি আসনে অংশ নেয়। এর মধ্যে ছয়টি আসনে তাদের প্রার্থীরা বিজয়ী হয়েছেন। তবে অভিযোগ করে তিনি বলেন, অন্তত আরও তিনটি আসনে ফলাফল টেম্পারিংয়ের মাধ্যমে এনসিপির প্রার্থীদের হারিয়ে দেওয়া হয়েছে। ঢাকা–৮ ও পঞ্চগড়–১ আসনসহ একাধিক এলাকায় গুরুতর অনিয়ম হয়েছে বলেও দাবি করেন তিনি।
সংবাদ সম্মেলনে দলের আরেক নেতা আসিফ মাহমুদ বলেন, যেসব আসনে ফল পরিবর্তনের অভিযোগ উঠেছে, সেগুলোতে ভোট পুনর্গণনার জন্য বাংলাদেশ নির্বাচন কমিশন-এ আনুষ্ঠানিকভাবে আবেদন জানানো হবে। তিনি আশা প্রকাশ করেন, কমিশন বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে দেখবে।
নির্বাচনের পরপরই এনসিপির নেতাকর্মীদের বাড়িঘর ও কর্মীদের ওপর হামলা শুরু হয়েছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, জোটের প্রার্থীরাও হামলার শিকার হচ্ছেন।
আসিফ মাহমুদ আরও অভিযোগ করেন, নির্বাচন সময়মতো শেষ হলেও গভীর রাতে অসৎ উদ্দেশ্যে ফলাফল ঘোষণা করা হয়েছে। অনেক কেন্দ্রে প্রাথমিক ফলাফল পরিবর্তন করে রেজাল্ট শিটে ১০ থেকে ১২ বার কাটাকাটি করে ফল পাল্টানো হয়েছে। একই পদ্ধতিতে ঢাকা–১৫ আসনে জামায়াতে ইসলামীর আমিরের আসনেও ফল বদলের চেষ্টা করা হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি।
সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলকে (বিএনপি) দুই-তৃতীয়াংশ আসনে জয়ী করতেই এসব করা হয়েছে। তাঁর অভিযোগ অনুযায়ী, বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থা ও প্রশাসনের কিছু কর্মকর্তা এই রেজাল্ট টেম্পারিংয়ের সঙ্গে জড়িত ছিলেন। পাশাপাশি গণমাধ্যমে ফলাফল প্রচারেও অসামঞ্জস্য দেখা গেছে বলে তিনি দাবি করেন।
আসিফ মাহমুদ বলেন, পুরো প্রক্রিয়াটি অদৃশ্য একটি নিয়ন্ত্রণব্যবস্থা থেকে পরিচালিত হয়েছে বলে স্পষ্ট হয়েছে এবং এই ষড়যন্ত্র সফল হবে না বলেও তিনি মন্তব্য করেন।