
ছবি: সংগৃহীত
২০২৬ টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী পাকিস্তানকে ধুলোয় মিশিয়ে এক ম্যাচ হাতে রেখেই সুপার এইট নিশ্চিত করেছে ভারত। কলম্বোর আর প্রেমাদাসা স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত হাই-ভোল্টেজ এই ম্যাচে সূর্যকুমার যাদবের দল ৬১ রানের বিশাল ব্যবধানে জয় ছিনিয়ে নেয়। মূলত ঈশান কিষানের বিধ্বংসী ব্যাটিং আর বুমরাহ-পান্ডিয়াদের বোলিং তোপে পাত্তাই পায়নি পাকিস্তান।
টসে হেরে আগে ব্যাটিং করতে নেমে ভারতের শুরুটা মোটেও সুখকর ছিল না। টপ অর্ডার ব্যাটার অভিষেক শর্মা শূন্য রানে সাজঘরে ফিরলে চাপে পড়ে যায় টিম ইন্ডিয়া। তবে সেই চাপকে তুড়ি মেরে উড়িয়ে দেন ঈশান কিষান। তিলক ভার্মাকে সঙ্গে নিয়ে দ্বিতীয় উইকেটে মাত্র ৪৫ বলে ৮৭ রানের এক ঝড়ো জুটি গড়েন তিনি। ঈশান কিষান মাত্র ৪০ বলে ১০টি চার ও ৩টি ছক্কায় ৭৭ রানের একটি দুর্দান্ত ইনিংস খেলে ভারতকে বড় সংগ্রহের ভিত গড়ে দেন।
মাঝপথে পাকিস্তানের সাইম আইয়ুব পরপর দুই বলে তিলক ভার্মা (২৫) ও হার্দিক পান্ডিয়াকে (০) ফিরিয়ে ম্যাচে ফেরার ইঙ্গিত দিলেও শেষরক্ষা হয়নি। অধিনায়ক সূর্যকুমার যাদবের ৩২ ও শিবম দুবের ২৭ রানের কার্যকর ইনিংসে ভর করে নির্ধারিত ২০ ওভারে ৭ উইকেটে ১৭৫ রানের চ্যালেঞ্জিং স্কোর দাঁড় করায় ভারত। পাকিস্তানের পক্ষে সাইম আইয়ুব ২৫ রানে ৩টি উইকেট নেন।
১৭৬ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে ভারতীয় পেসারদের তোপের মুখে পড়ে তাসের ঘরের মতো ভেঙে পড়ে পাকিস্তানের ব্যাটিং লাইনআপ। মাত্র ২ ওভারের ব্যবধানে ১৩ রানেই ৩ উইকেট হারিয়ে ম্যাচ থেকে কার্যত ছিটকে যায় তারা। জাসপ্রিত বুমরাহ ও হার্দিক পান্ডিয়ার বোলিং বিষে নীল হয়ে সাজঘরে ফেরেন সাহিবজাদা ফারহান (০), সাইম আইয়ুব (৬) ও অধিনায়ক সালমান আলী আগা (৪)।
চরম বিপর্যয়ের মুখে দাঁড়িয়ে একাই লড়াই চালিয়ে যান উইকেটরক্ষক ব্যাটার উসমান খান। তিনি বাবর আজম ও শাদাব খানের সঙ্গে ছোট ছোট জুটি গড়ার চেষ্টা করেন। উসমান ৩৪ বলে ৬টি চার ও ১টি ছক্কায় দলের পক্ষে সর্বোচ্চ ৪৪ রান করেন। তবে বাবর আজম (৫) ও শাদাব খান (১৪) অক্ষর প্যাটেলের ঘূর্ণিতে কুপোকাত হলে পাকিস্তানের জয়ের আশা ক্ষীণ হয়ে আসে।
উসমানের বিদায়ের পর পাকিস্তানের লোয়ার অর্ডার আর কোনো প্রতিরোধ গড়তে পারেনি। শেষদিকে বরুণ চক্রবর্তী ও হার্দিক পান্ডিয়া দ্রুত উইকেট তুলে নিলে ১৮ ওভারে মাত্র ১১৪ রানেই গুটিয়ে যায় পাকিস্তান। ভারতের পক্ষে বুমরাহ, অক্ষর প্যাটেল, হার্দিক পান্ডিয়া ও বরুণ চক্রবর্তী প্রত্যেকেই ২টি করে উইকেট শিকার করেন।
এই দাপুটে জয়ের ফলে গ্রুপ ‘এ’ থেকে দাপটের সঙ্গে সুপার এইটে পা রাখল ভারত, আর পাকিস্তানের জন্য টুর্নামেন্টের সমীকরণ হয়ে দাঁড়াল আরও কঠিন।