
জাতীয় সংসদ ভবন। ছবি: সংগৃহীত
গণভোটে ‘হ্যাঁ’ জয়ী হওয়ার মধ্য দিয়ে বাংলাদেশে দ্বিকক্ষবিশিষ্ট সংসদ ব্যবস্থার পথ প্রশস্ত হয়েছে। এখন সবার আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে জাতীয় সংসদের ‘উচ্চকক্ষ’। বিশেষ করে এবারের নির্বাচনে পরাজিত প্রার্থীরা এই উচ্চকক্ষের সদস্য হতে পারবেন কি না, তা নিয়ে রাজনৈতিক মহলে ছিল ব্যাপক গুঞ্জন। তবে জাতীয় ঐকমত্য কমিশন জানিয়েছে, শুধুমাত্র আগামী ত্রয়োদশ সংসদের জন্য নির্বাচনে পরাজিত প্রার্থীদেরও উচ্চকক্ষে সদস্য হওয়ার সুযোগ থাকছে।
পরাজিত প্রার্থীদের সুযোগ ও বিশেষ বিধান: প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী ও জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের সহ-সভাপতি ড. আলী রীয়াজ জানিয়েছেন, বিদ্যমান সংবিধানে উচ্চকক্ষের কোনো বিধান না থাকায় এবং গণভোটের ফলাফল অনিশ্চিত থাকায় এবার একটি বিশেষ ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। রাজনৈতিক দলগুলো চাইলে ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনে পরাজিত প্রার্থীদের উচ্চকক্ষের জন্য মনোনয়ন দিতে পারবে।
তবে চতুর্দশ সংসদ থেকে এই সুযোগ আর থাকবে না; কারণ তখন সংশোধিত সংবিধান অনুযায়ী উভয় কক্ষের নির্বাচন একই সাথে হবে এবং একজন ব্যক্তি কেবল একটি কক্ষের জন্যই মনোনীত হতে পারবেন।
উচ্চকক্ষের গঠন ও সদস্য সংখ্যা: ‘জুলাই জাতীয় সনদ (সংবিধান সংস্কার) আদেশ, ২০২৫’ অনুযায়ী, সংসদের উচ্চকক্ষ হবে ১০৫ সদস্যবিশিষ্ট। এর মধ্যে ১০০ জন সদস্য নির্বাচিত হবেন জাতীয় সংসদ নির্বাচনে দলগুলোর প্রাপ্ত ভোটের আনুপাতিক হারে। বাকি ৫ জন সদস্যকে রাষ্ট্রপতি মনোনীত করবেন বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ, বিজ্ঞানী বা বিশেষজ্ঞদের মধ্য থেকে। সংসদ নির্বাচনের পর গঠিত ‘সংবিধান সংস্কার পরিষদ’ ১৮০ কার্যদিবসের মধ্যে সংবিধান সংস্কারের কাজ শেষ করবে এবং তার ৩০ কার্যদিবসের মধ্যে উচ্চকক্ষ গঠন করা হবে। এই কক্ষের মেয়াদ হবে নিম্নকক্ষের শেষ কার্যদিবস পর্যন্ত।
দ্বিকক্ষবিশিষ্ট সংসদের ক্ষমতা ও কাঠামো: উচ্চকক্ষ গঠিত হওয়ার পর বাংলাদেশের সংসদ কার্যত দ্বিকক্ষবিশিষ্ট রূপ পাবে। উচ্চকক্ষের প্রধান কাজ হবে জাতীয় গুরুত্বপূর্ণ আইনগুলো পর্যালোচনা ও পুনর্বিবেচনা করা। তারা সরকারের ওপর অনাস্থা আনতে না পারলেও সরকারের জবাবদিহি নিশ্চিত করতে প্রশ্ন উত্থাপন করতে পারবে।
সব মিলিয়ে জাতীয় সংসদের আসন সংখ্যা হবে ৫০৫টি। এর মধ্যে ৪০০টি আসন থাকবে নিম্নকক্ষে। ৩০০টি আসনে সরাসরি ভোটের ভিত্তিতে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। বাকি ১০০টি আসন নারীদের জন্য সংরক্ষিত থাকবে এবং নির্ধারিত নির্বাচনি এলাকা থেকে কেবল নারী প্রার্থীদের মধ্যে প্রতিদ্বন্দ্বিতার মাধ্যমে তারা নির্বাচিত হবেন।