
ছবি: সংগৃহীত
মাত্র ৯ বছর বয়সে যেখানে শিশুরা খেলাধুলা আর পড়াশোনা নিয়ে ব্যস্ত থাকে, সেখানে খুলনার শিশু অরিনা সাফা খান গড়েছে এক অনন্য কীর্তি। কোনো হাফেজ না হয়েও নিজের অদম্য ইচ্ছা আর পরিশ্রমে মাত্র ২ মাসে নিজ হাতে লিখে শেষ করেছে পবিত্র কোরআন শরীফের ৩০ পারা। তার হাতের লেখা এতটাই নিখুঁত যে, প্রথম দেখায় একে ছাপানো পাণ্ডুলিপি বলে মনে হয়।
খুলনা মহানগরীর খালিশপুরের গোয়ালখালী এলাকার ব্যবসায়ী শুকুর আলী খানের ছোট মেয়ে অরিনা বর্তমানে বাংলাদেশ নৌবাহিনী স্কুল অ্যান্ড কলেজের পঞ্চম শ্রেণির শিক্ষার্থী।
চতুর্থ শ্রেণিতে পড়ার সময় অরিনা এই অসাধ্য সাধন করে। তার হাতের লেখা এতটাই নিখুঁত যে, প্রথম দেখায় বোঝার উপায় নেই এটি ছাপা নাকি হাতে লেখা। এ-৪ সাইজের ৭২৯ পৃষ্ঠার এই পূর্ণাঙ্গ পাণ্ডুলিপিটি এখন বাঁধাই করার প্রস্তুতি চলছে। মূলত বড় বোনের কাছে আরবি লেখা শিখে ছোটবেলা থেকেই নিয়মিত চর্চা করত সে। পরে ফুফাতো ভাইয়ের উৎসাহে কোরআন লেখা শুরু করে।
প্রতিদিন সকাল থেকে দুপুর এবং রাতে একনিষ্ঠভাবে লিখে মাত্র ৬০ দিনে সে এটি শেষ করে। কেবল কোরআন লেখাই নয়, অরিনা একজন দক্ষ ইসলামী সংগীতশিল্পী এবং সুরেলা কণ্ঠে অনেকগুলো সূরা তিলাওয়াত করতে পারে। মাদরাসা ও স্কুলে সব সময় প্রথম স্থান অধিকার করা এই মেধাবী শিশু বড় হয়ে মানুষের সেবায় নিজেকে নিয়োজিত করতে চায়।
খুলনা বিশ্ববিদ্যালয় জামে মসজিদের খতিব মুফতি আবদুল কুদ্দুস অরিনার এই কাজ দেখে মুগ্ধ হয়েছেন। তিনি জানান, মাত্র ৯ বছর বয়সে শুদ্ধ তাজবিদ ও নান্দনিক ক্যালিগ্রাফিতে পুরো কোরআন হাতে লেখা সত্যিই এক বিস্ময়কর ঘটনা। অরিনার এই অভাবনীয় প্রতিভা এখন পুরো এলাকায় প্রশংসায় ভাসছে।