
মৌলভীবাজার জেলার রাজনগর উপজেলার টিকরপাড়া গ্রামে হেলিকপ্টারে করে চীনের কনে আসার খবরে উৎসবমুখর হয়ে ওঠে পুরো এলাকা। পরিবারের পক্ষ থেকে বিষয়টি গোপন রাখার চেষ্টা করা হলেও বৃহস্পতিবার বিকেলের আগেই আশপাশের গ্রামগুলোতে খবর ছড়িয়ে পড়ে। ফলে হেলিকপ্টার অবতরণের আগেই গ্রামের মাঠে ভিড় জমান নানা বয়সী মানুষ।
বিকেল চারটার দিকে কামারচাক ইউনিয়নের টিকরপাড়া গ্রামের মাঠে কনেকে নিয়ে হেলিকপ্টার অবতরণ করে। হেলিকপ্টার থেকে নামার পর ফুল দিয়ে নবদম্পতিকে বরণ করে নেয় পরিবারের সদস্যরা। পরে প্রদীপ জ্বালিয়ে কনেকে ঘরে তোলা হয়।
পরিবার সূত্রে জানা গেছে, বর সুকান্ত সেন দীর্ঘদিন ধরে চীনে বসবাস করছেন। তাঁর স্ত্রী ক্রিস হোয়ে চীনের সাংহাইয়ের বাসিন্দা। সুকান্ত সেন স্নাতকোত্তর শেষ করেন বাংলাদেশ মেরিটাইম ইউনিভার্সিটি থেকে। পরে তিনি চীনে গিয়ে সাংহাই মেরিটাইম ইউনিভার্সিটি থেকে আরেকটি ডিগ্রি অর্জন করে আমদানি–রপ্তানি ব্যবসা শুরু করেন। ব্যবসার সূত্রেই তাঁদের পরিচয় ও সম্পর্ক গড়ে ওঠে।
পরিবার জানায়, চলতি বছরের ১২ ফেব্রুয়ারি চীনে তাঁদের বিয়ে হয়। পরে পরিবারের সম্মতিতে বাংলাদেশে হিন্দু ধর্মীয় রীতিতে আনুষ্ঠানিক বিয়ের আয়োজন করা হয়েছে।
ক্রিস হোয়ে স্নাতকোত্তর সম্পন্ন করেছেন স্কটল্যান্ডের গ্লাসগো ইউনিভার্সিটি থেকে। তিনি জানান, বাংলাদেশে এটি তাঁর দ্বিতীয় সফর এবং মানুষের আন্তরিকতায় তিনি মুগ্ধ। হেলিকপ্টারে করে গ্রামে আসার অভিজ্ঞতাকে তিনি ব্যতিক্রমী ও আনন্দের বলে উল্লেখ করেন।
এর আগে দুপুর থেকেই বরের বাড়ি ও আশপাশের সড়ক সজ্জিত করা হয় সাদা ও রঙিন কাপড়ে। বাড়ির পাশের মাঠে অস্থায়ী হেলিপ্যাড তৈরি করা হয়। গ্রামে প্রথমবারের মতো হেলিকপ্টার নামবে—এই কৌতূহলে স্থানীয় মানুষজন দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করেন।
পরিবারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, ২১ ফেব্রুয়ারি গায়েহলুদ, ২২ ফেব্রুয়ারি বিয়ের মূল আনুষ্ঠানিকতা এবং ২৪ ফেব্রুয়ারি বৌভাত অনুষ্ঠিত হবে। আত্মীয়স্বজনের পাশাপাশি গ্রামবাসীকেও আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে।
স্থানীয়দের ভাষ্য, এই বিয়ের মাধ্যমে দুই দেশের সংস্কৃতির মিলন ঘটেছে। হেলিকপ্টার চলে যাওয়ার পরও রাত পর্যন্ত বরের বাড়িতে উৎসুক মানুষের ভিড় ছিল।