
বলিউডের আকাশে উল্কার মতো তাঁর উদয় হয়েছিল। মাত্র ১৬ বছর বয়সে অভিনয় জগতে পা রেখে তিন বছরের মধ্যেই উপহার দিয়েছিলেন ২২টি ছবি। দর্শক ও সমালোচকরা তাঁকে আখ্যা দিয়েছিলেন ‘ইয়াং শ্রীদেবী’। কিন্তু পর্দার সেই প্রাণবন্ত হাসির আড়ালে লুকিয়ে ছিল এক গভীর মানসিক ভাঙন আর একাকিত্ব। তিনি দিব্যা ভারতী। ১৯৯৩ সালের ৫ এপ্রিল মুম্বাইয়ের বহুতল ভবন থেকে পড়ে গিয়ে তাঁর অকাল মৃত্যু আজও বলিউডের অন্যতম বড় রহস্য।
সম্প্রতি জনপ্রিয় শিশুশিল্পী মাস্টার রাজু এক সাক্ষাৎকারে দিব্যা ভারতীর জীবনের সেই অজানা ও যন্ত্রণাদায়ক অধ্যায়গুলো নতুন করে সামনে এনেছেন।
১৯৯০ সালে তামিল ছবি ‘নীলা পেন্নে’ দিয়ে যাত্রা শুরু করে মাত্র তিন বছরেই তৎকালীন সুপারস্টার শ্রীদেবীর যোগ্য উত্তরসূরি হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেছিলেন দিব্যা। ‘শোলা অউর শবনম’ বা ‘দিওয়ানা’র মতো ব্লকবাস্টার ছবির মাধ্যমে তিনি হয়ে উঠেছিলেন নির্মাতাদের প্রথম পছন্দ। তবে এই আকাশচুম্বী সাফল্যের পেছনে ছিল এক কিশোরীর ওপর চেপে বসা প্রচণ্ড মানসিক চাপ।
মাস্টার রাজু, যিনি দিব্যার অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ বন্ধু ছিলেন, জানান যে খ্যাতির চূড়ায় থেকেও দিব্যা ছিলেন ভীষণ ‘অসুখী ও দুঃখী’। রাজুর ভাষ্যমতে:
মানুষের স্বার্থপরতা: দিব্যা মনে করতেন মানুষ তাঁকে কেবল ‘ব্যবহার’ করছে। তিনি উপার্জন করছেন বলে অনেকেই তাঁর অর্থের অপব্যবহার করত, যা তাঁকে মানসিকভাবে চুরমার করে দিয়েছিল।
ব্যক্তিগত সম্পর্কের টানাপোড়েন: ক্যারিয়ার নিয়ে সুখী থাকলেও ব্যক্তিগত ও পারিবারিক সম্পর্কগুলো নিয়ে তিনি তৃপ্ত ছিলেন না।
মানসিক নিঃসঙ্গতা: পর্দার বাইরে তিনি ছিলেন ভীষণ একা। সাজিদ নাদিয়াদওয়ালার সঙ্গে বিয়েতে কিছুটা স্বস্তি খুঁজলেও ভেতরের ক্ষোভ তাঁকে কুরে কুরে খাচ্ছিল।
“সে আমাকে অনেক কিছু বলেছিল… অনেক মানুষের উদাহরণও দিয়েছিল। সে নিজেকে ব্যবহৃত মনে করত। এটাই তাকে সবচেয়ে বেশি কষ্ট দিত।”
মুম্বাইয়ের নিজের অ্যাপার্টমেন্টের পঞ্চম তলার বারান্দা থেকে পড়ে গিয়ে যখন দিব্যার মৃত্যু হয়, তখন তাঁর বয়স ছিল মাত্র ১৯ বছর। সেই রাতে হাসপাতালে প্রথম পৌঁছানো ব্যক্তিদের একজন ছিলেন মাস্টার রাজু। পুলিশ একে দুর্ঘটনা হিসেবে নথিভুক্ত করলেও গুঞ্জন থামেনি আজও।
বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, আজকের যুগে মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে যতটা খোলামেলা আলোচনা হয়, নব্বইয়ের দশকে তা ছিল কল্পনাতীত। অল্প বয়সে বিপুল খ্যাতি, অর্থ আর চারপাশের মানুষের প্রত্যাশার চাপ সামলানো দিব্যার মতো এক কিশোরীর জন্য প্রায় অসম্ভব ছিল।
দিব্যা ভারতীর মৃত্যু কেবল এক তারকার প্রস্থান নয়, বরং এটি এক অসমাপ্ত সম্ভাবনার গল্প। তিন দশক পেরিয়েও তিনি রয়ে গেছেন দর্শকদের হৃদয়ে এক অমীমাংসিত রহস্য আর বিষণ্নতার প্রতীক হয়ে।
সূত্র: ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস