
ইরানের এই দূত জোর দিয়ে বলেন, তার দেশ ‘উত্তেজনা বা যুদ্ধ চায় না এবং কোনো যুদ্ধ শুরু করবে না
জাতিসংঘে ইরানের রাষ্ট্রদূত বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্রের যেকোনো “সামরিক আগ্রাসন”-এর জবাবে তেহরান “দৃঢ়ভাবে” প্রতিক্রিয়া জানাবে। এ বিষয়ে জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদকে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের সাম্প্রতিক হুমকির নিন্দা জানানোর আহ্বান জানিয়ে তিনি একটি চিঠি পাঠিয়েছেন।
জাতিসংঘে ইরানের রাষ্ট্রদূত আমির সাঈদ ইরাভানি বৃহস্পতিবার নিরাপত্তা পরিষদের সদস্যদের পাশাপাশি জাতিসংঘ মহাসচিবকে পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানান। তিনি ভারত মহাসাগরের চাগোস দ্বীপপুঞ্জে অবস্থিত একটি বিমানঘাঁটি সম্ভাব্য হামলায় ব্যবহারের বিষয়ে ট্রাম্পের নির্দিষ্ট হুমকির কথা বিশেষভাবে উল্লেখ করেন।
চিঠিতে ইরাভানি লেখেন, ‘অঞ্চলের অস্থির পরিস্থিতি এবং যুক্তরাষ্ট্রের ধারাবাহিক সামরিক সরঞ্জাম ও সম্পদ মোতায়েনের প্রেক্ষাপটে, যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্টের এমন যুদ্ধংদেহী বক্তব্যকে কেবল কথার কথা হিসেবে দেখা যাবে না।’
ইরানের এই দূত জোর দিয়ে বলেন, তার দেশ ‘উত্তেজনা বা যুদ্ধ চায় না এবং কোনো যুদ্ধ শুরু করবে না।’ তবে তিনি সতর্ক করে দেন, ইরানের ওপর হামলা হলে অঞ্চলজুড়ে ‘শত্রু শক্তির সব ঘাঁটি, স্থাপনা ও সম্পদ’কে ‘বৈধ লক্ষ্যবস্তু’ হিসেবে বিবেচনা করা হবে।
এর আগে বৃহস্পতিবার ট্রাম্প সতর্ক করে বলেন, তেহরানের হাতে ওয়াশিংটনের সঙ্গে একটি ‘অর্থবহ চুক্তি’ করার জন্য ১০ থেকে ১৫ দিন সময় আছে। ওয়াশিংটনে নবগঠিত তার ‘বোর্ড অব পিস’-এর প্রথম আনুষ্ঠানিক বৈঠকে বিশ্বের বিভিন্ন দেশের নেতাদের আতিথ্য দেওয়ার সময় তিনি এ মন্তব্য করেন।
ট্রাম্প বলেন, ‘এখন হয়তো আমাদের এক ধাপ এগোতে হতে পারে, আবার নাও হতে পারে।’ সামরিক পদক্ষেপের হুমকির ইঙ্গিত দিয়ে তিনি আরও বলেন, ‘হয়তো আমরা একটি চুক্তি করব। আগামী প্রায় ১০ দিনের মধ্যে আপনারা জানতে পারবেন।’
পরে এ বিষয়ে বিস্তারিত জানতে চাইলে এয়ার ফোর্স ওয়ানে সাংবাদিকদের ট্রাম্প বলেন, ‘আমার মনে হয় ১০–১৫ দিনই যথেষ্ট সময়, সর্বোচ্চ।’
এর আগে ওয়াশিংটনে দেওয়া আরেক বক্তব্যে ট্রাম্প দাবি করেন, গত বছরের জুনে ইরানের ওপর যৌথ ইসরায়েল-যুক্তরাষ্ট্র হামলাই গাজায় ‘যুদ্ধবিরতি’র পথ তৈরি করেছে।
তিনি আরও বলেন, ইরানের পারমাণবিক স্থাপনাগুলোতে যুক্তরাষ্ট্রের হামলা না হলে ‘ইরানের হুমকি’ মধ্যপ্রাচ্যে শান্তিচুক্তিতে আঞ্চলিক দেশগুলোকে সম্মত হতে বাধা দিত।