
যুক্তরাষ্ট্র ইরানের শীর্ষ নেতাদের লক্ষ্য করে সম্ভাব্য সামরিক অভিযান বিবেচনা করছে বলে জানিয়েছে রয়টার্স। প্রতিবেদনে বলা হয়, মার্কিন কর্মকর্তাদের বরাতে জানা গেছে—প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প নির্দেশ দিলে ইরানের শাসন পরিবর্তনের প্রচেষ্টাও এই সামরিক পরিকল্পনার অংশ হতে পারে।
রয়টার্স জানায়, ইরান ইস্যুতে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক প্রস্তুতি এখন উন্নত পর্যায়ে রয়েছে। কূটনৈতিক উদ্যোগ ব্যর্থ হলে কয়েক সপ্তাহব্যাপী টানা অভিযান চালানোর প্রস্তুতি রাখা হয়েছে। সম্ভাব্য হামলার লক্ষ্যবস্তু হিসেবে ইরানের নিরাপত্তা স্থাপনা, পারমাণবিক অবকাঠামো এবং নির্দিষ্ট ব্যক্তিদের নাম উঠে এলেও কারা টার্গেট হতে পারেন—সে বিষয়ে বিস্তারিত জানানো হয়নি।
মধ্যপ্রাচ্যে ইতোমধ্যে যুক্তরাষ্ট্র উল্লেখযোগ্য সামরিক শক্তি মোতায়েন করেছে। যুদ্ধজাহাজ, যুদ্ধবিমান ও অন্যান্য সামরিক সক্ষমতা প্রস্তুত রাখা হয়েছে। প্রয়োজনে যুক্তরাষ্ট্রের মূল ভূখণ্ড থেকেই বোমারু বিমান পাঠানোর বিকল্পও বিবেচনায় রয়েছে।
এর আগে ২০২০ সালে ট্রাম্প প্রশাসন ইরানি শীর্ষ সামরিক কমান্ডার কাসেম সোলাইমানিকে লক্ষ্য করে হামলার অনুমোদন দেয়। তিনি ছিলেন ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কোরের কুদস ফোর্সের প্রধান।
ইরান সতর্ক করে জানিয়েছে, তাদের ভূখণ্ডে হামলা হলে তারা পাল্টা জবাব দেবে। জাতিসংঘ মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেসকে পাঠানো চিঠিতে তেহরান বলেছে—তারা যুদ্ধ শুরু করবে না, তবে আগ্রাসনের মুখে আত্মরক্ষার অধিকার প্রয়োগ করবে।
বিশ্লেষকদের মতে, সম্ভাব্য সংঘাত ছড়িয়ে পড়লে মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশে অবস্থিত মার্কিন ঘাঁটি ঝুঁকিতে পড়তে পারে। একই সঙ্গে উত্তেজনা বাড়লে কৌশলগত গুরুত্বপূর্ণ জলপথ হরমুজ প্রণালি বন্ধের হুমকিও আবার সামনে আসতে পারে, যেখান দিয়ে বৈশ্বিক তেলের বড় একটি অংশ পরিবহন হয়।
এদিকে চলমান উত্তেজনার মধ্যেও যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে আলোচনায় কিছু অগ্রগতি হলেও ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে দু’পক্ষের মতভেদ এখনো রয়ে গেছে।