
ছবি: সংগৃহীত
আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা ও মহান শহীদ দিবসে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকুর এক মন্তব্যকে কেন্দ্র করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তোলপাড় সৃষ্টি হয়েছে। মন্ত্রীর ‘ইনকিলাব’ বিরোধী বক্তব্যের তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছেন বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের অন্যতম নেতা ও এনসিপি সংশ্লিষ্ট তিন পরিচিত মুখ—হাসনাত আব্দুল্লাহ, নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী এবং আসিফ মাহমুদ সজিব ভূঁইয়া।
শনিবার (২১ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে সিরাজগঞ্জ জেলা শিল্পকলা একাডেমি মিলনায়তনে আয়োজিত এক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে মন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু বলেন, “নিজেদের ভাষা ও সম্পদকে ভালোবাসুন। বাংলাকে যদি ধারণ করতে হয়, তবে ‘ইনকিলাব জিন্দাবাদ’ চলবে না। ইনকিলাব আমাদের ভাষা নয়।”
মন্ত্রীর এই বক্তব্যের কয়েক ঘণ্টার ব্যবধানেই ফেসবুক স্ট্যাটাসের মাধ্যমে কড়া প্রতিবাদ জানান কুমিল্লা-৪ আসনের নবনির্বাচিত সংসদ সদস্য ও এনসিপির মুখ্য সংগঠক হাসনাত আব্দুল্লাহ। শনিবার সন্ধ্যা ৬টা ১৬ মিনিটে তিনি তার ভেরিফাইড প্রোফাইলে কেবল “ইনকিলাব জিন্দাবাদ” লিখে একটি পোস্ট দেন। মুহূর্তেই পোস্টটি ভাইরাল হয়ে যায় এবং লাখ লাখ রিঅ্যাকশন ও হাজার হাজার কমেন্টে নেটিজেনরা তাদের সমর্থন জানান।
এরপর এনসিপির আরেক নেতা নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী ফেসবুকে এক স্ট্যাটাসে লেখেন, “ইনকিলাব জিন্দাবাদ! চাঁদাবাজ মুর্দাবাদ!” রাত ৭টা ৪০ মিনিটে দেওয়া এই পোস্টটিও দ্রুত সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে এবং ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয়।
সবশেষে কড়া ভাষায় প্রতিবাদ জানান আসিফ মাহমুদ সজিব ভূঁইয়া। তিনি মন্ত্রীর উদ্দেশে প্রশ্ন ছুড়ে দিয়ে লিখেছেন, “ইনকিলাব জিন্দাবাদ শুনলে ব্লিডিং হয়, বাংলাদেশ জিন্দাবাদ শুনলে ব্লিডিং হয় না, মাননীয় মন্ত্রী?”
একজন মন্ত্রীর বক্তব্যের বিপরীতে তরুণ প্রজন্মের এই তিন নেতার পাল্টা অবস্থান নিয়ে সামাজিক মাধ্যমে এখন তীব্র বিতর্ক ও আলোচনার সৃষ্টি হয়েছে। নেটিজেনদের অনেকেই মন্ত্রীর বক্তব্যকে অহেতুক বিতর্ক সৃষ্টিকারী হিসেবে দেখছেন, আবার কেউ কেউ একে রাজনৈতিক মতাদর্শের লড়াই হিসেবে বিবেচনা করছেন।