
ছবি: সংগৃহীত
পাকিস্তানে সম্প্রতি একাধিক আত্মঘাতী হামলার জেরে আফগানিস্তানের ভেতরে বিমান ও ড্রোন হামলা চালিয়েছে ইসলামাবাদ। দেশটির সামরিক বাহিনী জানিয়েছে, গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে সীমান্তবর্তী এলাকায় একাধিক জঙ্গি ঘাঁটি ও আস্তানাকে লক্ষ্য করে এই অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে।
আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম আলজাজিরা জানায়, ইসলামাবাদে একটি শিয়া মসজিদে আত্মঘাতী বিস্ফোরণে বহু মুসল্লি নিহত হওয়ার পর এই হামলা চালানো হয়। পাকিস্তান দাবি করেছে, হামলার সঙ্গে জড়িত গোষ্ঠীগুলো আফগান ভূখণ্ড ব্যবহার করে তাদের কার্যক্রম পরিচালনা করছিল।
পাকিস্তানের তথ্য মন্ত্রণালয় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক বিবৃতিতে জানায়, সামরিক বাহিনী নির্দিষ্ট গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে অন্তত সাতটি ক্যাম্পে হামলা চালিয়েছে। এসব স্থাপনা পাকিস্তান তেহরিক-ই-তালেবান (টিটিপি) এবং তাদের সহযোগী গোষ্ঠীগুলোর ব্যবহৃত ঘাঁটি ছিল বলে দাবি করা হয়। পাশাপাশি সীমান্ত অঞ্চলে ইসলামিক স্টেট সংশ্লিষ্ট একটি সহযোগী সংগঠনকেও লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছে বলে জানানো হয়।
সংবাদমাধ্যম এসোসিয়েট প্রেসের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আফগানিস্তানের পাকতিকা ও নানগারহার প্রদেশে হামলার খবর পাওয়া গেছে। স্থানীয় সূত্রগুলো ড্রোন হামলার কথাও জানিয়েছে, যেখানে একটি ধর্মীয় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে দাবি করা হয়েছে। তবে হতাহতের সুনির্দিষ্ট তথ্য তাৎক্ষণিকভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
অন্যদিকে আফগানিস্তানের তালেবান সরকার হামলার বিষয়ে তাৎক্ষণিক কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া জানায়নি। দ্যা গার্ডিয়ান জানিয়েছে, সীমান্তজুড়ে বাড়তে থাকা উত্তেজনার মধ্যেই এই হামলা দুই দেশের সম্পর্ককে নতুন করে চাপে ফেলতে পারে।
পাকিস্তান সরকারের দাবি, ইসলামাবাদসহ উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলের বাজাউর ও বান্নু জেলায় সাম্প্রতিক হামলাগুলো আফগানিস্তানভিত্তিক নেতৃত্ব ও হ্যান্ডলারদের নির্দেশে পরিচালিত হয়েছে এবং এ বিষয়ে তাদের হাতে প্রমাণ রয়েছে।
বিশ্লেষকদের মতে, সাম্প্রতিক হামলার প্রেক্ষাপটে পাকিস্তানের এই সীমান্তপার অভিযান দক্ষিণ এশিয়ায় নিরাপত্তা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলতে পারে।