
ছবি: সংগৃহীত
টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের সুপার এইটে দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে ফেভারিট হিসেবে মাঠে নেমে বড় হারের তিক্ত স্বাদ পেয়েছে ভারত। প্রোটিয়াদের বিধ্বংসী ব্যাটিং আর নিয়ন্ত্রিত বোলিংয়ের সামনে খড়কুটোর মতো উড়ে গেছে সূর্যকুমার যাদবের দল। ৭৬ রানের এই বিশাল ব্যবধানে হারের ফলে ভারতের সেমিফাইনাল সমীকরণ এখন এক প্রকার খাদের কিনারে দাঁড়িয়ে।
দক্ষিণ আফ্রিকার দেওয়া ১৮৮ রানের পাহাড়সম লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে মাত্র ১১১ রানেই অল-আউট হয়ে যায় ভারত। এই হারের চেয়েও বড় ক্ষত হয়ে দাঁড়িয়েছে রানরেট। ভারতের বর্তমান নিট রানরেট এখন –৩.৮০০, যা টুর্নামেন্টের পরবর্তী ধাপে যাওয়ার পথে সবচেয়ে বড় বাধা হয়ে দাঁড়াতে পারে।
সেমিফাইনালের টিকিট পেতে হলে ভারতকে এখন গাণিতিক ও কৌশলী—উভয় দিক থেকেই সফল হতে হবে। ভারতের সামনে এখন দুটি পরিস্থিতি রয়েছে:
১) দুই ম্যাচেই জয় ও দক্ষিণ আফ্রিকার ওপর নির্ভরতা: ভারতের পরবর্তী দুই প্রতিপক্ষ ওয়েস্ট ইন্ডিজ ও জিম্বাবুয়ে। এই দুই ম্যাচে জিতলে ভারতের পয়েন্ট হবে ৪। তবে দক্ষিণ আফ্রিকা যদি তাদের বাকি দুই ম্যাচের একটি হেরে বসে এবং ওয়েস্ট ইন্ডিজ বা জিম্বাবুয়ে যদি ৪ পয়েন্ট পায়, তবে হিসাব হবে রানরেটে। যেখানে ভারত এখন অনেক পিছিয়ে। তাই ভারতের জন্য সবচেয়ে নিরাপদ পথ হলো—নিজেদের বাকী ম্যাচগুলো জেতা এবং দক্ষিণ আফ্রিকা যাতে অন্য সব দলকে হারিয়ে দেয় সেই প্রার্থনা করা।
২) এক জয় ও অলৌকিক সম্ভাবনা: ভারত যদি দুই ম্যাচের একটিতে হারে, তবে তাদের বিদায় প্রায় নিশ্চিত। সেক্ষেত্রে টিকে থাকতে হলে দক্ষিণ আফ্রিকাকে সব ম্যাচ জিততে হবে এবং বাকি দলগুলোর পয়েন্ট ও রানরেট ভারতের চেয়ে কম হতে হবে, যা বর্তমান পরিস্থিতিতে প্রায় অসম্ভব।
দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে ৭৬ রানের বিশাল ব্যবধানে পরাজয়ই ভারতকে সবচেয়ে বেশি বিপাকে ফেলেছে। এখন কেবল জিতলেই হবে না, বরং বড় ব্যবধানে জিতে রানরেট পুনরুদ্ধার করতে হবে সূর্যকুমারদের। অন্যথায়, সুপার এইট থেকেই বিদায় নিতে হতে পারে টুর্নামেন্টের অন্যতম এই ফেভারিট দলটিকে। সব মিলিয়ে, ভারতের বিশ্বকাপ অভিযান এখন ঝুলে আছে সূক্ষ্ম সমীকরণ আর অন্যদের জয়-পরাজয়ের ওপর।