
২০০১ সাল থেকে শুরু হয় এই ইফতার
আসরের ওয়াক্ত শেষ হতেই চট্টগ্রামের ঐতিহাসিক আন্দরকিল্লা শাহী জামে মসজিদে শুরু হয় এক অন্যরকম কর্মচাঞ্চল্য। ১৬৬৭ খ্রিষ্টাব্দে মোগল স্থাপত্যে নির্মিত এই প্রাচীন মসজিদের বিশাল চত্বরে বিছানো হয় দস্তরখানা। শুরু হয় ২৫ বছরের ঐতিহ্যবাহী ‘গণ-ইফতার’-এর প্রস্তুতি। এখানে কোনো ভেদাভেদ নেই; রিকশাচালক থেকে শুরু করে ব্যাংকার কিংবা ব্যবসায়ী—সবাই একই থালায় ইফতার ভাগ করে নেন, যা তৈরি করে এক অনন্য মানবিক সমতা।
অবাক করার মতো বিষয় হলো, এই বিশাল আয়োজনের পুরো খরচই আসে সাধারণ মানুষের দান থেকে; সরকার বা মসজিদ কর্তৃপক্ষের নিজস্ব কোনো তহবিল এখানে ব্যবহার হয় না।
মসজিদের খতিবের সহকারী হাসান মুরাদ জানান, ২০০১ সাল থেকে খতিব সৈয়দ মোহাম্মদ আনোয়ার হোসেন তাহের জাবেরী আল-মাদানীর উদ্যোগে এই বড় পরিসরে ইফতার শুরু হয়। এবার প্রথম রমজান থেকেই প্রতিদিন তিন থেকে সাড়ে তিন হাজার মানুষ এখানে ইফতার করছেন। কেউ ছোলা, কেউ তেল আবার কেউ নাম প্রকাশ না করে মাত্র দুই কেজি লবণ দিয়েও এই মহতী আয়োজনে শরিক হচ্ছেন।
ইফতারের মেন্যুতে থাকে ছোলা, পেঁয়াজু, বেগুনি, চপ, জিলাপি আর মুড়ি। বিকেল সাড়ে পাঁচটা বাজতেই কানায় কানায় পূর্ণ হয়ে ওঠে মসজিদ চত্বর। অনেকেই দূর-দূরান্ত থেকে আসেন এই গণ-ইফতারে শামিল হতে। বিশ্বাস আর ভ্রাতৃত্বের টানেই প্রতি বছর আন্দরকিল্লার এই আঙিনা হয়ে ওঠে হাজারো প্রাণের মিলনমেলা।