
২০০৯ সালের ২৫ ফেব্রুয়ারি পিলখানায় ঘটে যাওয়া সেই নারকীয় হত্যাযজ্ঞ
২০০৯ সালের ২৫ ফেব্রুয়ারি পিলখানায় ঘটে যাওয়া সেই নারকীয় হত্যাযজ্ঞের ১৭টি বছর পেরিয়ে গেছে। সময় বয়ে চললেও শহীদ সেনা কর্মকর্তাদের পরিবারগুলোর কাছে সেই দিনের স্মৃতি আজও এক জীবন্ত বিভীষিকা।
তৎকালীন বিডিআরের ঢাকা সেক্টর কমান্ডার কর্নেল মুজিবুল হকের স্ত্রী নেহরীন ফেরদৌসী আজও স্বামীর সেই নির্মম পরিণতির কথা ভেবে শিউরে ওঠেন। ব্রাশফায়ারে হত্যার পর তিনতলা থেকে নিচে ফেলে দেওয়া কিংবা বেয়নেট দিয়ে খুঁচিয়ে ক্ষতবিক্ষত করা সেই বীভৎসতা আজও তাড়া করে বেড়ায় তাকে। প্রতিটি শহীদ পরিবারের গল্পই আজ চোখের জলে সিক্ত; কেউ হারিয়েছেন বাবাকে, কেউ স্বামী আর কেউবা সন্তানকে।
শহীদ সন্তানদের হিরো হারানোর বেদনা
মেজর কাজী মোছাদ্দেক হোসেনের মেয়ে কাজী নাজিয়া তাবাসসুম, যিনি মাত্র ৮ বছর বয়সে বাবাকে হারিয়েছিলেন, তার কাছে আজও বাবার সেই ‘হিরোইজম’ অমলিন। বাবার মরদেহ ফিরে আসার সেই দৃশ্যটি আজও তার চোখে ভাসে। অন্যদিকে, শুধু সেনা কর্মকর্তাই নন, এই উন্মত্ততায় প্রাণ হারিয়েছিলেন সুবেদার মেজর নুরুল ইসলামের মতো সাহসী জওয়ানরাও, যারা অফিসারদের বাঁচাতে ঢাল হয়ে দাঁড়িয়েছিলেন। তার ছেলে আশরাফুল আলম হান্নান আজও বাবার সেই আত্মত্যাগের কথা স্মরণ করে বিচার চান, যাকে লোহার রড দিয়ে পিটিয়ে হত্যার পর গণকবরে ফেলে রাখা হয়েছিল।
জাতীয় শহীদ সেনা দিবস ও শহীদ পরিবারের প্রত্যাশা
২০২৪ সালের গণ-অভ্যুত্থানের পর দেশ এক নতুন অধ্যায়ে প্রবেশ করেছে। বিগত ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকারের সময় গঠিত তদন্ত কমিশনের রিপোর্টটি দ্রুত প্রকাশ এবং বাস্তবায়নের দাবি এখন আরও জোরালো হয়েছে। বর্তমান বিএনপি সরকারের শাসনামলে ‘জাতীয় শহীদ সেনা দিবস’ পালিত হচ্ছে এবং ১৭ বছর পর এই প্রথম শহীদ পরিবারের সদস্যরা প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে ইফতারে অংশ নিতে যাচ্ছেন। শহীদ সেনা অ্যাসোসিয়েশনের পক্ষ থেকে এই উদ্যোগকে ইতিবাচক হিসেবে দেখা হলেও তাদের মূল দাবি দুটি শহীদদের যথাযথ মর্যাদা প্রদান এবং এই হত্যাকাণ্ডের স্বচ্ছ ও দ্রুত বিচার নিশ্চিত করা।
তদন্ত কমিশনের রিপোর্ট ও ক্যাটাগরি পরিবর্তনের দাবি
শহীদ সেনা অ্যাসোসিয়েশনের আহ্বায়ক কমিটির সদস্য কোহিনূর হোসেন জানিয়েছেন, তারা অত্যন্ত আশাবাদী যে সরকার এবার তাদের দীর্ঘদিনের হাহাকার শুনবে। ড. ইউনূসের সময়ে করা তদন্ত রিপোর্টটি যেন জনসমক্ষে প্রকাশ করা হয়, সে দাবি তাদের দীর্ঘদিনের। এছাড়া, দিবসটিকে ‘গ’ ক্যাটাগরি থেকে ‘ক’ ক্যাটাগরির জাতীয় দিবসে উন্নীত করার পাশাপাশি প্রতিটি শহীদের আত্মত্যাগকে রাষ্ট্রীয় দলিলে স্থায়ী জায়গা করে দেওয়ার জোর দাবি তুলেছেন স্বজনরা। পিলখানার রক্তভেজা মাটিতে যে ক্ষত তৈরি হয়েছিল, তা কেবল ন্যায়বিচারের মাধ্যমেই উপশম হওয়া সম্ভব।