
কেরানীগঞ্জের পাইকারি পোশাকপল্লি
আসন্ন পবিত্র ঈদুল ফিতরকে সামনে রেখে উৎসবের আমেজে মেতে উঠেছে রাজধানীর অদূরে কেরানীগঞ্জের পাইকারি পোশাকপল্লি। দেশের বৃহত্তম এই তৈরি পোশাকের বাজারে এখন দম ফেলার ফুসরত নেই ব্যবসায়ী ও শ্রমিকদের। আগানগর থেকে শুরু করে চরকালীগঞ্জ পর্যন্ত প্রায় দুই কিলোমিটার এলাকাজুড়ে বিস্তৃত এই পল্লিতে প্রতিদিন দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে ছুটে আসছেন পাইকারি ও খুচরা ব্যবসায়ীরা। ব্যবসায়ীদের আশা, রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা ও অনুকূল পরিবেশ বজায় থাকলে এবার এই বাজার থেকে প্রায় ৭ হাজার কোটি টাকার পোশাক বিক্রির লক্ষ্যমাত্রা অর্জিত হবে।
বর্তমানে কেরানীগঞ্জের প্রায় ১৫ হাজার শোরুম এবং ৫ হাজার ছোট-বড় কারখানায় কয়েক লাখ শ্রমিক দিনরাত এক করে কাজ করছেন। সরেজমিনে দেখা গেছে, শবে বরাতের পর থেকেই পাইকারদের আনাগোনা শুরু হলেও রমজানের শুরু থেকে বেচাবিক্রি পূর্ণ গতি পেয়েছে। পাঞ্জাবি, থ্রি-পিস, জিনস প্যান্ট ও শিশুদের পোশাকের চাহিদাই এবার সবচেয়ে বেশি।

ঈদ বাজার
উৎপাদন খরচ বাড়ায় পোশাকের দাম গত বছরের তুলনায় কিছুটা বেশি হলেও নকশা ও কাপড়ের গুণগত মানে নতুনত্ব আসায় সন্তুষ্টি প্রকাশ করেছেন ক্রেতারা। বিশেষ করে ৪০০ থেকে ১৯০০ টাকার মধ্যে মানসম্মত পাঞ্জাবি ও মেয়েদের পোশাক পাওয়া যাওয়ায় বগুড়া কিংবা কুমিল্লার মতো দূর-দূরান্তের ব্যবসায়ীরাও এখান থেকে বড় চালান সংগ্রহ করছেন।
তবে ব্যবসার এমন জমজমাট পরিস্থিতির মাঝেও কিছু সমস্যার কথা জানিয়েছেন ব্যবসায়ীরা। গার্মেন্টস ও দোকান মালিক সমবায় সমিতির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ না থাকায় জেনারেটরের ওপর নির্ভর করতে হচ্ছে, যার সুযোগ নিয়ে অসাধু কিছু চক্র অতিরিক্ত ভাড়া আদায় করছে। এই সমস্যার দ্রুত সমাধানে তারা প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।
অবশ্য কেনাকাটার পরিবেশ নির্বিঘ্ন করতে এবার ফুটপাত দখলমুক্ত রাখা হয়েছে এবং নিরাপত্তা নিশ্চিতে দিনরাত আনসার সদস্যদের পাহারার ব্যবস্থা করা হয়েছে। সব মিলিয়ে, বিদ্যুৎ বিভ্রাট কাটিয়ে উঠতে পারলে এবারের ঈদের বাজার কেরানীগঞ্জের পোশাক ব্যবসায়ীদের মুখে বড় হাসি ফোটাবে বলে প্রত্যাশা করা হচ্ছে।