
বিল ক্লিনটন ও হিলারি ক্লিনটন
যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক প্রেসিডেন্ট বিল ক্লিনটন বলেছেন, দণ্ডিত যৌন অপরাধী জেফরি এপস্টিনের সঙ্গে সময় কাটানোর সময় তিনি এমন কিছু দেখেননি যা তাকে সন্দেহের মধ্যে ফেলতে পারত। প্রতিনিধি পরিষদের তদারকি কমিটির (হাউস ওভারসাইট কমিটি) গোপন শুনানিতে নিজের সম্পর্ক নিয়ে সাক্ষ্য দিতে গিয়ে তিনি এ কথা বলেন।
এক লিখিত বিবৃতিতে ক্লিনটন বলেন, অপ্রাপ্তবয়স্ক মেয়েদের পাচারের অভিযোগ সম্পর্কে আগে জানলে তিনি কখনোই এপস্টিনের ব্যক্তিগত বিমানে ভ্রমণ করতেন না। এমন কিছু জানতে পারলে তিনি অবশ্যই আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে জানাতেন বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
২০০০–এর দশকের শুরুতে প্রেসিডেন্ট পদ ছাড়ার পর ক্লিনটন কয়েকবার এপস্টিনের ব্যক্তিগত বিমানে ভ্রমণ করেছিলেন। যুক্তরাষ্ট্রের বিচার বিভাগ প্রকাশিত নথিপত্রে ক্লিনটনের সঙ্গে কয়েকজন নারীর ছবি রয়েছে, যাদের মুখ ঝাপসা করে দেওয়া হয়েছে।
এই জবানবন্দি অনুষ্ঠিত হয় নিউইয়র্কের ওয়েস্টচেস্টার কাউন্টিতে ক্লিনটন দম্পতির বাড়ির কাছে। এর একদিন আগে একই কমিটির সামনে সাক্ষ্য দিয়েছেন বিল ক্লিনটনের স্ত্রী আমেরিকার সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী হিলারি ক্লিনটন।
এদিকে ক্লিনটন দম্পতি অভিযোগ করেছেন, রিপাবলিকানরা রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে এই তদন্ত চালাচ্ছে, যাতে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে তদন্তের চাপ থেকে রক্ষা করা যায়। তারা উল্লেখ করেন, তদন্তে জড়িত অন্যদের অনেককেই সরাসরি হাজিরা না দিয়ে লিখিত বক্তব্য জমা দেওয়ার সুযোগ দেওয়া হয়েছে।
ডেমোক্র্যাটরা ট্রাম্পকেও সমন জারি করে সাক্ষ্য দিতে বাধ্য করার আহ্বান জানিয়েছেন। এপস্টিন–সংক্রান্ত নথিতে ট্রাম্পের নামও রয়েছে।
১৯৯০ ও ২০০০–এর দশকে ট্রাম্পের সঙ্গে এপস্টিনের ঘনিষ্ঠ সামাজিক সম্পর্ক ছিল বলে জানা যায়। তবে ট্রাম্প দাবি করেন, ২০০৮ সালে এপস্টিন দোষী সাব্যস্ত হওয়ার আগেই তিনি সম্পর্ক ছিন্ন করেছিলেন।
এদিকে ডেমোক্র্যাটরা অভিযোগ করেছেন, ট্রাম্প প্রশাসনের বিচার বিভাগ এমন কিছু নথি প্রকাশে বিলম্ব করছে, যেখানে এক নারী অভিযোগ করেছেন যে অপ্রাপ্তবয়স্ক অবস্থায় ট্রাম্প তাকে যৌন নিপীড়ন করেছিলেন। বিচার বিভাগ জানিয়েছে, নথিগুলো পর্যালোচনা করা হচ্ছে এবং প্রয়োজন মনে করলে প্রকাশ করা হবে।