
ইরানের মিনাব শহের একটি প্রাথমিক বালিকা বিদ্যালয়ে হামলা চালিয়েছে ইসরায়েল। ছবি: এএফপি
দক্ষিণ ইরানের একটি প্রাথমিক বালিকা বিদ্যালয়ে ইসরায়েলি হামলায় নিহত শিক্ষার্থীর সংখ্যা বেড়ে ৫৩ জনে দাঁড়িয়েছে। আহত হয়েছে ৬০ জন। ইরানের রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা আইআরএনএ এ তথ্য নিশ্চিত করেছে।
এর আগে কাতারভিত্তিক আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম আল জাজিরার প্রতিবেদনে প্রথমে নিহতের সংখ্যা ৫ জন এবং পরে ৪০ জন বলা হয়। সর্বশেষ তথ্যে সেই সংখ্যা এক লাফে ৫৩ জনে পৌঁছেছে বলে জানানো হয়েছে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, হামলাটি সংঘটিত হয়েছে দক্ষিণ ইরানের হরমোজগান প্রদেশের মিনাব শহরে অবস্থিত একটি প্রাথমিক বালিকা বিদ্যালয়ে।
এদিকে ইরানের রাজধানী তেহরানে নতুন করে বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেছে বলে বিভিন্ন সূত্রে জানা গেছে। তবে ইন্টারনেট সংযোগ বন্ধ ও যোগাযোগ ব্যবস্থার গুরুতর সীমাবদ্ধতার কারণে প্রকৃত পরিস্থিতি সম্পর্কে নির্ভরযোগ্য তথ্য পাওয়া যাচ্ছে না। সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো বলছে, এটি একটি ধারাবাহিক সামরিক অভিযানের অংশ হতে পারে।
ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের যৌথ হামলার পর দেশজুড়ে ইন্টারনেট সেবা কঠোরভাবে সীমিত করেছে ইরান। ইন্টারনেট পর্যবেক্ষণকারী সংস্থা নেটব্লকস জানিয়েছে, হামলার প্রেক্ষাপটে ইরানে ইন্টারনেটের ওপর কঠোর বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়েছে। নেটওয়ার্ক ডেটা বিশ্লেষণ করে সংস্থাটি বলছে, বর্তমানে ইরানে কার্যত সম্পূর্ণ ইন্টারনেট শাটডাউন চলছে।
নেটব্লকস আরও জানায়, গত বছর ইসরায়েলি হামলার সময় যেভাবে ইন্টারনেট বন্ধ করা হয়েছিল, এবারের পরিস্থিতিও প্রায় একই রকম বলে মনে হচ্ছে।

অন্যদিকে ইসরায়েলর বেসরকারি সম্প্রচারমাধ্যম চ্যানেল ১২ জানিয়েছে, ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় উত্তর ইসরায়েলের একটি ৯ তলা ভবন ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ইন্টারসেপ্টর ক্ষেপণাস্ত্রের আঘাতে একজন ব্যক্তি সামান্য আহত হয়েছেন। পাশাপাশি একটি অ্যাপার্টমেন্টে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির কথাও জানানো হয়।
ইসরায়েলি সেনাবাহিনীর পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, ইরান থেকে ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণের বিষয়টি শনাক্ত হওয়ার পর দেশের বিভিন্ন এলাকায় সতর্কতামূলক সাইরেন বাজানো হয়।
সেনাবাহিনীর টেলিগ্রাম বিবৃতিতে বলা হয়েছে, এই মুহূর্তে ইসরায়েলি বিমানবাহিনী হুমকি নিরসনে প্রয়োজন অনুযায়ী বিভিন্ন স্থানে প্রতিহত ও আক্রমণাত্মক অভিযান পরিচালনা করছে।
বিবৃতিতে আরও বলা হয়, সাধারণ জনগণকে হোম ফ্রন্ট কমান্ডের নির্দেশনা কঠোরভাবে অনুসরণ করার আহ্বান জানানো হয়েছে।
সূত্র: আল জাজিরা।