
ছবি: রয়টার্স
যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল শনিবার সকালে যৌথভাবে ইরানে সামরিক হামলা চালিয়েছে। এর জবাবে ইরানও পাল্টা প্রতিক্রিয়া জানিয়ে মধ্যপ্রাচ্যের কয়েকটি দেশে হামলা চালায়। এর মধ্য দিয়ে অঞ্চলটি নতুন করে বড় ধরনের সংঘাতের দিকে এগোচ্ছে বলে আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
এ পরিস্থিতিতে হামলার ঘটনায় তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে রাশিয়া। রাশিয়ার পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও ইসরায়েল ‘বিপজ্জনক ও দায়িত্বজ্ঞানহীন পদক্ষেপে’ মধ্যপ্রাচ্যকে এক ‘অতল গহ্বরে’ ঠেলে দিচ্ছে।
রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়, শনিবার দেওয়া এক বিবৃতিতে রাশিয়ার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় অভিযোগ করে, ওয়াশিংটন ও তেল আবিব এমন একটি সামরিক অভিযানে নেমেছে, যা পুরো অঞ্চলকে মানবিক, অর্থনৈতিক এমনকি সম্ভাব্য তেজস্ক্রিয় বিপর্যয়ের ঝুঁকির দিকে ঠেলে দিতে পারে।
বিবৃতিতে আরও বলা হয়, এই হামলার মাধ্যমে মধ্যপ্রাচ্যে নিয়ন্ত্রণহীন উত্তেজনা উসকে দেওয়া হচ্ছে। এর ফলে আঞ্চলিক দেশগুলো নিজেদের সামরিক সক্ষমতা আরও জোরদার করার দিকে ঝুঁকতে পারে বলেও আশঙ্কা প্রকাশ করেছে রাশিয়া।
অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল দাবি করেছে, তারা ইরানের নেতৃত্ব এবং সামরিক স্থাপনাগুলোকে লক্ষ্য করে এই হামলা চালিয়েছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, এই অভিযানের মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রের নিরাপত্তা হুমকি দূর হবে এবং ইরানের জনগণ তাদের শাসকদের বিরুদ্ধে অবস্থান নেওয়ার সুযোগ পাবে।
এদিকে রাশিয়ার নিরাপত্তা পরিষদের উপপ্রধান দিমিত্রি মেদভেদেভ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কড়া ভাষায় ট্রাম্পের সমালোচনা করেন। ইংরেজিতে দেওয়া এক বার্তায় তিনি বলেন, ‘শান্তির দূত আবার সক্রিয় হয়েছেন। ইরানের সঙ্গে আলোচনা ছিল শুধু আড়াল।’
মেদভেদেভ আরও বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসের তুলনায় প্রাচীন পারস্য সভ্যতার ইতিহাস অনেক দীর্ঘ। তার ভাষায়, যুক্তরাষ্ট্রের বয়স মাত্র ২৪৯ বছর, অথচ পারস্য সাম্রাজ্যের সূচনা আড়াই হাজার বছরেরও আগে। তিনি মন্তব্য করেন, ‘দেখা যাক, ১০০ বছর পর কী হয়।’