
ছবি: সংগৃহীত
যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের যৌথ বিমান হামলায় ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনির মেয়ে, জামাতা ও নাতি নিহত হয়েছেন বলে দাবি করেছে দেশটির রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম ফার্স নিউজ এজেন্সি। রোববার (১ মার্চ) নেতার কার্যালয়ের ঘনিষ্ঠ সূত্রের বরাতে এই চাঞ্চল্যকর তথ্য জানানো হয়, যা পরে আল জাজিরাসহ আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে উঠে আসে।
ফার্স নিউজ এজেন্সির প্রতিবেদনে বলা হয়, সর্বোচ্চ নেতার বাসভবন সংশ্লিষ্ট ওয়াকিবহাল সূত্রের মাধ্যমে পরিবারের সদস্যদের মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়েছে। এর আগে অন্য এক হামলায় খামেনির এক পুত্রবধূও নিহত হয়েছেন বলে দাবি করা হয়। তবে হামলার সুনির্দিষ্ট স্থান বা সময় সম্পর্কে বিস্তারিত কিছু জানানো হয়নি।
এদিকে ইরানের আইআরজিসির বার্তা সংস্থা ফার্স জানিয়েছে, রোববার (১ মার্চ) স্থানীয় সময় সকালে দায়িত্ব পালনরত অবস্থায় নিজের কার্যালয়ে নিহত হন আলী খামেনি। দেশটির রাষ্ট্রীয় টেলিভিশন খামেনির মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করে দেশটিতে ৪০ দিনের শোক ঘোষণার কথা জানিয়েছে।
এর আগে, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে দেওয়া এক পোস্টে ট্রাম্প লিখেছেন, ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি, ইতিহাসের অন্যতম নিকৃষ্ট একজন ব্যক্তি, ‘মারা গেছেন’।
পোস্টে তিনি আরও বলেন, মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থা এবং অত্যাধুনিক ট্র্যাকিং সিস্টেমের নজর এড়াতে পারেননি ইরানের সর্বোচ্চ নেতা। যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সমন্বয়ে পরিচালিত এই অভিযানে খামেনি এবং তার সঙ্গে থাকা অন্যান্য শীর্ষ নেতারা পালানোর কোনো সুযোগ পাননি। ইরানি জনগণের জন্য এখন তাদের দেশ ফিরে পাওয়ার সুযোগ তৈরি হয়েছে।
ইরানের সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতার শাসন ব্যবস্থা চালু হয় ১৯৭৯ সালে ইসলামি বিপ্লবের পর থেকে। এক বিপ্লবের মাধ্যমে ইরানে রেজা শাহ পাহলভির রাজতন্ত্রকে উৎখাত করা হয়। তাকে উৎখাতের পর ইরানে ধর্মীয় প্রজাতন্ত্র প্রতিষ্ঠিত হয়। এরপর দেশটি দুজন সুপ্রিম লিডার বা সর্বোচ্চ নেতা পেয়েছে। তাদের পদবী হিসেবে আয়াতুল্লাহ ব্যবহার করা হয়, শিয়া ধর্মাবলম্বীদের কাছে যার অর্থ জ্যেষ্ঠ ধর্মীয় নেতা।
সর্বোচ্চ নেতা হিসেবে আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি দেশটির সামরিক বাহিনীর কমান্ডার-ইন-চিফ ছিলেন।