
আলোকি কনভেনশন সেন্টারে চলছে তিন দিনব্যাপী ‘তারা উদ্যোক্তা মেলা ২০২৬’
রাজধানীর গুলশানের আলোকি কনভেনশন সেন্টারে পা রাখলেই নাকে লাগছে মাটির সোঁদা ঘ্রাণ, আর চোখে পড়ছে দেশি রঙের বাহার। আসন্ন ঈদুল ফিতরের আনন্দকে কয়েক গুণ বাড়িয়ে দিতে ব্র্যাক ব্যাংকের আয়োজনে তিন দিনব্যাপী ‘তারা উদ্যোক্তা মেলা ২০২৬’ এখন উৎসবের কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে। গত শুক্রবার থেকে শুরু হওয়া এই মেলা আজ শেষ দিনে এসে এক বিশাল মিলনমেলায় রূপ নিয়েছে। দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আসা ৮৮ জন অদম্য নারী উদ্যোক্তার সৃজনশীলতা আর কঠোর পরিশ্রমের গল্প এখন স্টলে স্টলে সাজানো।
মেলার প্রতিটি কোণ যেন বাঙালির ঐতিহ্যের একেকটি জীবন্ত ক্যানভাস। এবারের মেলার অন্যতম প্রধান আকর্ষণ হয়ে দাঁড়িয়েছে প্রাকৃতিক বা ভেজিটেবল ডাই-এর পোশাক। গাছের ছাল, পাতা আর ফল থেকে সংগৃহীত রঙে রাঙানো এই পোশাকগুলো যেন আভিজাত্য আর স্নিগ্ধতার এক অপূর্ব সংমিশ্রণ। আধুনিক ফ্যাশনে পরিবেশবান্ধব এই ট্রেন্ডটি রুচিশীল ক্রেতাদের দারুণভাবে আকৃষ্ট করছে।

শীতল পাটির লাইফস্টাইল পণ্য নিয়ে কাজ করেন উদ্যোক্তা ফরিদা
তবে শুধু পোশাক নয়, মেলার বড় একটি অংশ জুড়ে রয়েছে আমাদের লোকজ শিল্পের আধুনিক রূপান্তর। রিকশা পেইন্টের সেই চিরচেনা মোটিফ আজ উঠে এসেছে শৌখিন কেটলি, ট্রাঙ্ক কিংবা ঘর সাজানোর শোপিসে। উজ্জ্বল সব রঙের সেই মায়া কাটিয়ে ক্রেতাদের চোখ গিয়ে আটকে যাচ্ছে শীতল পাটির লাইফস্টাইল পণ্যে। এককালের সাধারণ পাটি এখন রূপ নিয়েছে ফ্যাশনেবল হ্যান্ডব্যাগ আর ঘর সাজানোর নব্য অনুষঙ্গে।
অন্দরমহলের সাজে নতুন মাত্রা যোগ করতে মেলায় দেখা মিলছে আধুনিক মৃৎশিল্প ও কাঠের তৈরি আকর্ষণীয় গৃহস্থালিপণ্যের বিশাল সমাহার। পোড়ামাটির আদিম রূপের সঙ্গে সিরামিক গ্লেজের আধুনিক ফিউশন আর সেগুন-মেহগনির সূক্ষ্ম কারুকাজে তৈরি সার্ভিং ট্রে বা কিউবিক ডিজাইনের কিউরিওগুলো গৃহিণীদের পছন্দের তালিকায় শীর্ষে রয়েছে। যান্ত্রিক এই শহরে এক চিমটি সতেজতা বিলিয়ে দিতে হাজির দুর্লভ সব ইনডোর প্ল্যান্টের বাগান স্টল।

নওগাঁ থেকে মেলায় অংশ নিয়েছেন উদ্যোক্তা জাকির হোসেন
রূপসজ্জার স্টলগুলোতেও ছিল চোখে পড়ার মতো ভিড়। কেমিক্যালমুক্ত সতেজতার খোঁজে সচেতন নারীরা ভিড় করছেন অর্গানিক ও ভেষজ প্রসাধনীর খোঁজে। আর কেনাকাটার ফাঁকে একটু জিরিয়ে নিতে ভোজনরসিকদের জন্য রয়েছে মমতাময়ী হাতের ছোঁয়ায় তৈরি মুখরোচক ঘরোয়া খাবারের সমাহার।
মেলায় অংশগ্রহণকারী নারী উদ্যোক্তারা শুধু পণ্য বিক্রি নয়, বরং নিজেদের ব্র্যান্ডের পরিচিতি বাড়ানো এবং নতুন গ্রাহকদের সাথে সম্পর্ক তৈরির এই বিশাল প্ল্যাটফর্ম পেয়ে উচ্ছ্বসিত। তাঁদের মতে, ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোক্তাদের জন্য এমন নেটওয়ার্কিংয়ের সুযোগ আগামীর বড় স্বপ্ন দেখার সাহস জোগায়।
গত দুই দিনের ভিড়কে ছাড়িয়ে আজ সমাপনী দিনেও মেলা প্রাঙ্গণে তিল ধারণের ঠাঁই নেই। ব্র্যাক ব্যাংকের এই বর্ণিল আয়োজনটি আজ রাত ১১টা পর্যন্ত চলবে। যারা এখনো পছন্দের দেশি পণ্যটি সংগ্রহ করতে পারেননি, তাদের জন্য আজই শেষ সুযোগ।
বাংলা টেলিগ্রাফ উদ্যোগের গল্প