
মাঠের পর মাঠ জুড়ে এখন কেবল সবুজের মাঝে হলুদ সূর্যমুখী ফুলের দোলচালের দৃশ্য
প্রকৃতিতে এখন ঋতুরাজ বসন্তের মাতাল হাওয়া। আর এই বসন্তের সোনাঝরা রোদে টাঙ্গাইলের যমুনার বিস্তীর্ণ চরাঞ্চল সেজেছে এক অপূর্ব সাজে। মাঠের পর মাঠ জুড়ে এখন কেবল সবুজের মাঝে হলুদ সূর্যমুখী ফুলের দোলচালের দৃশ্য। যেদিকে চোখ যায়, মনে হয় যেন চরাঞ্চলের বুকজুড়ে কেউ হলুদের চাদর বিছিয়ে দিয়েছে। সূর্যমুখী ফুলের এই চোখজুড়ানো দৃশ্য কেবল কৃষকের ঘরে লাভের স্বপ্নই বুনছে না বরং বিনোদনপ্রেমীদের কাছেও হয়ে উঠেছে এক দারুণ আকর্ষণ।
চলতি মৌসুমে টাঙ্গাইল সদর উপজেলাসহ ভূঞাপুর, গোপালপুর, নাগরপুর ও কালিহাতীর চরাঞ্চলে সূর্যমুখীর ব্যাপক চাষ হয়েছে। বিশেষ করে সদর উপজেলার কাকুয়া ইউনিয়নের দক্ষিণ গয়লাসহ দুর্গম চরাঞ্চলে প্রায় ৪৫ হেক্টর জমিতে হাইব্রিড জাতের টিএসএফ ২৭৫ সূর্যমুখী চাষ হয়েছে। মাটি ও আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় এবার ফলন হয়েছে প্রত্যাশার চেয়েও বেশি। কম খরচে অধিক লাভ এবং বাজারে ভোজ্য তেলের আকাশছোঁয়া চাহিদার কারণে কৃষকরা এখন প্রথাগত ফসলের চেয়ে সূর্যমুখীতেই বেশি আগ্রহী হয়ে উঠছেন।
সূর্যমুখীর এই মনকাড়া সৌন্দর্য উপভোগ করতে প্রতিদিন ভিড় করছেন অসংখ্য দর্শনার্থী। যমুনার তীরে হলুদের সমারোহ আর মৌমাছি-প্রজাপতির মেলা দেখে মুগ্ধ বিনোদনপ্রেমীরা। ফলে টাঙ্গাইলের এই চরাঞ্চল এখন কৃষি পর্যটনের এক নতুন কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে।
টাঙ্গাইল সদর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা রুমানা আক্তার জানান, স্বাস্থ্যসম্মত ভোজ্য তেলের চাহিদা মেটাতে সূর্যমুখী একটি অত্যন্ত লাভজনক ফসল। কৃষি বিভাগ থেকে চাষিদের নিয়মিত প্রশিক্ষণ, উন্নত বীজ ও সার দিয়ে সহায়তা করা হচ্ছে। তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন যে, আধুনিক পদ্ধতিতে এই চাষাবাদ অব্যাহত থাকলে এটি জেলার অর্থনৈতিক চিত্র পুরোপুরি বদলে দেবে।