
ইরানঘনিষ্ঠ সশস্ত্র গোষ্ঠী হিজবুল্লাহ ইসরায়েলে রকেট ও ড্রোন হামলা চালায়
ইসরায়েলে রকেট ও ড্রোন হামলার জেরে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হওয়ার পর লেবাননের প্রধানমন্ত্রী নওয়াফ সালাম হিজবুল্লাহর সামরিক ও নিরাপত্তা কার্যক্রম নিষিদ্ধ ঘোষণা করেছেন। সোমবার (২ মার্চ) দেওয়া এক বিবৃতিতে তিনি জানান, হিজবুল্লাহর ভূমিকা কেবল রাজনৈতিক পরিসরে সীমিত থাকবে।
এর কয়েক ঘণ্টা আগে ইরানঘনিষ্ঠ সশস্ত্র গোষ্ঠী হিজবুল্লাহ ইসরায়েলে রকেট ও ড্রোন হামলা চালায়। জবাবে ইসরায়েল দক্ষিণ বৈরুতসহ বিভিন্ন স্থানে বিমান হামলা চালায়।
প্রধানমন্ত্রী নাওয়াফ সালাম বলেন, ‘লেবাননের ভূখণ্ড থেকে বৈধ রাষ্ট্রীয় কাঠামোর বাইরে কোনো সামরিক বা নিরাপত্তা অভিযান পরিচালনা আমরা প্রত্যাখ্যান করছি।’ তিনি হিজবুল্লাহর সব ধরনের সামরিক কর্মকাণ্ডকে ‘অবৈধ’ আখ্যা দিয়ে নিরাপত্তা বাহিনীকে দেশের ভেতর থেকে কোনো হামলা ঠেকাতে নির্দেশ দেন। একই সঙ্গে তিনি যুদ্ধবিরতি ও পুনরায় আলোচনায় ফেরার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন।
অন্যদিকে হিজবুল্লাহ দাবি করেছে, ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনিকে হত্যার প্রতিশোধ হিসেবে এবং ‘লেবানন ও এর জনগণের সুরক্ষায়’ তারা এ হামলা চালিয়েছে।
লেবাননের রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, ইসরায়েলের পাল্টা বিমান হামলায় রাজধানী বৈরুতসহ বিভিন্ন স্থানে অন্তত ৩০ জন নিহত ও ১৪৯ জন আহত হয়েছেন।
লেবানন সরকারের বাইরে স্বাধীনভাবে কার্যক্রম পরিচালনাকারী হিজবুল্লাহ ২০২৪ সালের যুদ্ধে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির মুখে পড়ে। ওই সংঘাতে ইসরায়েল সংগঠনটির অধিকাংশ সামরিক ও রাজনৈতিক নেতাকে হত্যা করে।
যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের বাড়তি চাপের মুখে লেবানন কর্তৃপক্ষ হিজবুল্লাহকে নিরস্ত্র করার পরিকল্পনায় সম্মত হয়। তবে হিজবুল্লাহ এ পরিকল্পনাকে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের কৌশল বলে প্রত্যাখ্যান করে এবং লিতানি নদীর উত্তরে অস্ত্র সমর্পণে অস্বীকৃতি জানায়। তাদের দাবি, ২০২৪ সালের নভেম্বরে স্বাক্ষরিত যুদ্ধবিরতি চুক্তি কেবল লিতানি নদীর দক্ষিণাঞ্চলে নিরস্ত্রীকরণের ক্ষেত্রেই প্রযোজ্য।