
নিহত বেলায়েত শেখ। ছবি: সংগৃহীত
দুই কন্যাকে সাথে নিয়ে ঈদের নামাজে যাওয়ার স্বপ্ন ছিল তার। আড়াই বছর পর পরিবারের সঙ্গে ঈদ করবেন—এমন প্রতিশ্রুতিও দিয়েছিলেন তিনি। কিন্তু সেই স্বপ্ন আর পূরণ হলো না মালয়েশিয়া প্রবাসী বেলায়েত শেখের। আচমকা এক সড়ক দুর্ঘটনায় না-ফেরার দেশে চলে গেলেন তিনি।
সোমবার (২ মার্চ) দিবাগত রাত ২টায় মালয়েশিয়ার ইপো মহাসড়কে মর্মান্তিক এ দুর্ঘটনা ঘটে। নিহত বেলায়েত শেখ (৩০) ফরিদপুরের ভাঙ্গা উপজেলার ঘারুয়া ইউনিয়নের চৌকিঘাটা গ্রামের মৃত ইউসুফ শেখের ছেলে।
পরিবার জানায়, ছোটবেলায় বাবাকে হারানোর পর সংসারের বড় ছেলে হিসেবে কাঁধে নেন দায়িত্ব। দারিদ্র্যের সঙ্গে লড়াই করে মা, ভাই-বোন এবং নিজের স্ত্রী-সন্তানদের মুখে হাসি ফোটাতে আড়াই বছর আগে পাড়ি জমান মালয়েশিয়ায়। স্থায়ী চাকরি না থাকায় যেখানে কাজ মিলেছে, সেখানেই দিন-রাত পরিশ্রম করেছেন।
এবার ঈদে বাড়ি ফিরবেন বলে পরিবারকে জানিয়েছিলেন বেলায়েত। সেই লক্ষ্যেই বাড়তি আয়ের আশায় রাতের শিফটে সড়ক নির্মাণকাজে যোগ দেন। কিন্তু সেই রাতই হয়ে ওঠে তার জীবনের শেষ অধ্যায়।
সহকর্মীদের ভাষ্য অনুযায়ী, রাত দুইটার দিকে ইপো শহরে সড়কে পিচ ঢালার কাজ চলছিল। বেলায়েতের দায়িত্ব ছিল গাড়ি থামানোর সংকেত দেওয়া। দ্রুতগতির একটি গাড়িকে সিগন্যাল দিলেও সেটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে তাকে চাপা দেয়। ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়।
বেলায়েতের মৃত্যুর খবর চৌকিঘাটা গ্রামে পৌঁছালে সেখানে এক হৃদয়বিদারক দৃশ্যের অবতারণা হয়। ৯ ও ৪ বছরের দুই কন্যাসন্তানকে নিয়ে স্ত্রী সাজেদা বেগম এখন দিশেহারা। বিলাপ করতে করতে তিনি বলেন, আমাদের জায়গা-জমি বলতে কিছুই নেই, উনিই ছিলেন আমাদের সব। এখন আমার সন্তানদের নিয়ে আমি কোথায় যাব? সরকারের কাছে আমার একটাই দাবি— অন্তত আমার স্বামীর লাশটা যেন শেষবারের মতো দেখতে পাই।
বেলায়েতের সহকর্মীরা জানিয়েছেন, বেলায়েতের মরদেহ বর্তমানে মালয়েশিয়ার একটি হাসপাতালে রাখা হয়েছে। প্রয়োজনীয় কাগজপত্র সম্পন্ন করে দেশে পাঠানোর প্রক্রিয়া চলছে।
তবে আইনি জটিলতা আর আর্থিক সংকটের মুখে পড়ে বেলায়েতের নিথর দেহটি কবে প্রিয়জনের কাছে পৌঁছাবে, তা নিয়ে সংশয় কাটছে না। এক প্রবাসীর ঘরে ফেরার স্বপ্ন থেমে গেল বিদেশের সড়কে; আর চৌকিঘাটার ছোট্ট দুটি মেয়ে হারাল তাদের সবচেয়ে বড় আশ্রয়।