
তিনি আরও বলেন, ‘আমার মনে হয়, এই ধারণাটি প্রতিদিনই আরও জোরালো হচ্ছে
উপসাগরীয় দেশগুলোর ওপর হওয়া সব হামলাই ইরান থেকে আসছে—এমনটি নাও হতে পারে বলে মন্তব্য করেছেন সৌদি আরবের একটি প্রভাবশালী গণমাধ্যমের সম্পাদক। তিনি সতর্ক করে বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল হয়তো উপসাগরীয় দেশগুলোকে যুদ্ধে টেনে নেওয়ার ফাঁদও পেতে থাকতে পারে।
এক টেলিভিশন সাক্ষাৎকারে এ কথা বলেন আধওয়ান আল আহমারি, যিনি ইন্ডিপেন্ডেন্ট আরাবিয়ার এডিটর-ইন-চিফ এবং সৌদি সাংবাদিক ও রাজনৈতিক বিশ্লেষক।
আল-আহমারি বলেন, ‘অনেকে মনে করেন, এই যুদ্ধটি যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের একটি ফাঁদ—যার মাধ্যমে উপসাগরীয় দেশগুলোকে জড়িয়ে ইরানের সঙ্গে সরাসরি সংঘাতে ঠেলে দেওয়া হতে পারে।’
তিনি আরও বলেন, ‘আমার মনে হয়, এই ধারণাটি প্রতিদিনই আরও জোরালো হচ্ছে।’
তার ভাষায়, এমনও হতে পারে যে যুক্তরাষ্ট্র এক বা দুই সপ্তাহ পর ঘোষণা করবে যে তারা তাদের লক্ষ্য অর্জন করেছে এবং যুদ্ধ শেষ—কিন্তু তখন উপসাগরীয় দেশগুলো ইরানের সঙ্গে সরাসরি সংঘাতে পড়ে যাবে।
আল-আহমারি বলেন, যদি ইরানের অভিজাত সামরিক বাহিনী আইআরজিসি ভেঙে দেওয়া সম্ভব না হয়, তাহলে কেবল শীর্ষ নেতাদের হত্যা করা বা পারমাণবিক ও ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র স্থাপনা ধ্বংস করলেও অঞ্চলের পরিস্থিতিতে বড় কোনো পরিবর্তন আসবে না।
আইআরজিসি ইরানের শাসনব্যবস্থাকে রক্ষার জন্য গঠিত একটি বিশেষ বাহিনী, যা দেশটির প্রচলিত সেনাবাহিনীর বাইরে আলাদা কাঠামোয় পরিচালিত হয়।
আল-আহমারি বলেন, ‘আইআরজিসিকে নির্মূল না করে যদি ইরানের সর্বোচ্চ নেতাকে হত্যা করা হয়, তাতে কোনো লাভ নেই। আইআরজিসিকে অক্ষত রেখে পারমাণবিক কর্মসূচি ধ্বংস করলেও তাতে কোনো লাভ নেই। আইআরজিসি আবারও শক্তিশালী হয়ে ফিরে আসবে এবং নিজেদের সক্ষমতা পুনর্গঠন করবে।’
এই কারণেই যুক্তরাষ্ট্রকে উপসাগরীয় মিত্রদের কাছে স্পষ্টভাবে ব্যাখ্যা করতে হবে—ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধের উদ্দেশ্য কী এবং এটি কতদিন চলবে বলে তিনি মন্তব্য করেন।
প্রাথমিকভাবে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প যুদ্ধ চার থেকে পাঁচ দিনের মধ্যে শেষ হতে পারে বলে ইঙ্গিত দিয়েছিলেন। পরে তা চার থেকে পাঁচ সপ্তাহ পর্যন্ত দীর্ঘ হতে পারে বলে ধারণা দেওয়া হয়। মঙ্গলবার যুক্তরাষ্ট্রের যুদ্ধমন্ত্রী ইঙ্গিত দেন যে এই অভিযান অনির্দিষ্টকাল চলতেও পারে।
আল-আহমারি বলেন, ‘এটি ইতিহাসের সবচেয়ে অদ্ভুত সামরিক অভিযান।’
তার মতে, ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধে যাওয়ার যুক্তরাষ্ট্রের কারণ এখনো অস্পষ্ট রয়ে গেছে। এতে শুধু আঞ্চলিক মিত্ররাই নয়, মার্কিন কংগ্রেসের সদস্যরাও পরিষ্কার ধারণা পাচ্ছেন না।
তবে তিনি বলেন, উপসাগরীয় দেশগুলোতে—যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক ঘাঁটি রয়েছে—ইরানের হামলা ‘আত্মঘাতী আচরণ’, কারণ বর্তমানে ইরান এক দশক আগের তুলনায় অনেক দুর্বল।
এর পেছনে তিনি ২০২২ সালের উইমেন, লাইফ, ফ্রিডম আন্দোলন এবং গত বছরের তীব্র অর্থনৈতিক সংকটের কথা উল্লেখ করেন। ওই সংকট আংশিকভাবে যুক্তরাষ্ট্রের কঠোর নিষেধাজ্ঞা ও যুক্তরাষ্ট্র-সমর্থিত একটি ব্যাংক ধসের কারণে আরও গভীর হয়েছিল বলে তিনি মন্তব্য করেন।
তথ্যসূত্র: মিডল ইস্ট আই